AB Live News
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ বিপ্লব, বিদেশি ডেটা নয়, এবার ভারতীয় শরীর মেপে হবে ওষুধের ট্রায়াল

পশ্চিমি দেশগুলোর শারীরিক গঠন আর জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে তৈরি ওষুধ এবার অতীত হতে চলেছে। ভারতীয়দের শরীর ও জিনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)। সংগঠনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এবার থেকে ভারতে যে কোনও নতুন ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের শরীরের গঠন, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাত্রার ধরনকে অগ্রাধিকার দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পশ্চিমের ছায়া থেকে মুক্তি
দীর্ঘদিন ধরে ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মূলত ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু গবেষকরা দেখছেন, একজন ইউরোপীয়র শরীরে যে ওষুধ যেভাবে কাজ করে, একজন ভারতীয়র ওপর তার প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। বিশেষত খাদ্যাভ্যাস এবং জলবায়ুর কারণে ভারতীয়দের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় কিছু মৌলিক পার্থক্য থাকে। আইসিএমআর-এর এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশি ডেটার ওপর পরোক্ষ নির্ভরতা কাটিয়ে এক নতুন ‘প্রমাণভিত্তিক’ দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা (Evidence-based Medicine) গড়ে উঠবে।
আইসিএমআর-এর এই কড়া নির্দেশের নেপথ্যে রয়েছে ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা জীবনশৈলীজনিত রোগ বা ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ’। ওবেসিটি (স্থূলতা), ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো সমস্যা এখন ভারতের ঘরে ঘরে। সংস্থার মতে, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কায়িক শ্রমের অভাবের ফলে ভারতীয়দের মধ্যে যে শারীরিক পরিবর্তন আসছে, তা মোকাবিলা করতে ভারতীয় ডেটা অত্যন্ত জরুরি।
“ভারতীয়দের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে তথ্য সংগ্রহ করা হলে চিকিৎসার নির্ভুলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।” — স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
নির্দেশিকার মূল স্তম্ভগুলি কী কী?
নিজস্ব ট্রায়াল বাধ্যতামূলক: বিদেশি পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে নয়, ভারতীয় শরীরের প্রকৃতি বুঝেই এবার থেকে যাবতীয় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালাতে হবে।
মাল্টিসেন্টার ট্রায়াল: কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের মানুষের ওপর পরীক্ষা না করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এতে পক্ষপাতের সম্ভাবনা কমবে এবং গবেষণার ফলাফল হবে আরও বাস্তবসম্মত।
সমন্বিত চিকিৎসা (Integrated Medicine): আধুনিক বায়োমেডিক্যাল চিকিৎসার পাশাপাশি আয়ুর্বেদ ও প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিকেও বৈজ্ঞানিক ট্রায়ালের আওতায় আনা হবে।
বিশ্বমঞ্চে ভারত: বৃহৎ পরিসরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করে ভারতকে আন্তর্জাতিক গবেষণার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়েছে আইসিএমআর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে রোগীর চিকিৎসার গুণগত মান অভাবনীয়ভাবে উন্নত হবে। যখন কোনও ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখবেন, তখন তিনি নিশ্চিত থাকতে পারবেন যে ওই ওষুধটি ভারতীয় শরীরেই পরীক্ষিত। এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কমবে এবং ক্রনিক রোগ মোকাবিলা করা সহজ হবে।
ভারতের বৈচিত্র্যময় জিনগত কাঠামোকে কাজে লাগিয়ে এক বিশাল ‘হেলথ ডেটাবেস’ তৈরির এই কাজ আগামী দিনে ভারতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে বিশ্বের প্রথম সারিতে নিয়ে আসবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

