AB Live News
কলকাতার দুর্গাপুজোয় এবার আদানি গোষ্ঠী, নজরে ‘পুজো প্রিভিউ’
রাজনন্দিনী ঘোষ : দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির সংস্কৃতি, শিল্প, ঐতিহ্য এবং আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকা এক বৃহৎ সামাজিক উৎসব। সেই কলকাতার দুর্গাপুজোয় এ বার প্রথমবারের মতো সরাসরি যুক্ত হচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। পুজোর মূল দিনগুলির আগেই শহরের নির্বাচিত কয়েকটি পুজো ঘুরে দেখার জন্য আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ ‘দুর্গাপুজো প্রিভিউ’। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবর এই প্রিভিউ ট্যুর চলবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত নির্বাচিত অতিথিদের কলকাতার আটটি পুজো দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কূটনীতিক, বিদেশি অতিথি, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং কর্পোরেট জগতের প্রতিনিধিদের এই উদ্যোগের আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। প্রবেশের জন্য থাকবে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন ও কিউআর কোডের ব্যবস্থা। আয়োজকদের দাবি, এর জন্য কোনও প্রবেশমূল্য নেওয়া হবে না। শুধু পুজো পরিদর্শন নয়, কলকাতার দুর্গাপুজোর শিল্প ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। নির্বাচিত পুজোগুলির ক্ষেত্রে প্রস্তুতি, নান্দনিকতা, অবস্থান, নিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের সুবিধার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। থিম পুজোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পুজোকেও এবারের প্রিভিউতে জায়গা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এই উদ্যোগের সঙ্গে পুজো কমিটি এবং শিল্পীদের আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। আদানি গোষ্ঠীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, কয়েকটি নির্বাচিত পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিল্পী, প্রতিমাশিল্পী, কারিগর, পরিষেবা প্রদানকারী এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলিও উপকৃত হতে পারে বলে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে।দুর্গাপুজোর সঙ্গে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো নিয়েও এ বার একাধিক উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। আদানি গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং পুনরুদ্ধারের জন্য সমঝোতাপত্রে সই করেছে। পাশাপাশি কুমোরটুলি ঘাটের পুনরুজ্জীবনেও সহায়তার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।ঘটনাচক্রে, কলকাতায় আদানি গোষ্ঠীর এই সাংস্কৃতিক উদ্যোগের সময়েই রাজ্যে তাদের বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। নিউ টাউনে ২,০০০ শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য ৪,০০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে সংস্থা। একই অনুষ্ঠানে ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন গৌতম আদানি।তবে দুর্গাপুজোয় কর্পোরেট অংশগ্রহণের এই নতুন পর্ব ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। একদিকে পুজোর শিল্প, সংস্কৃতি ও বাংলার ঐতিহ্যকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; অন্যদিকে এমন উদ্যোগে উৎসবের সঙ্গে কর্পোরেট সংস্থার সম্পর্ক কতটা বাড়বে, তা নিয়েও জনপরিসরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে কলকাতার দুর্গাপুজোর প্রিভিউ-ধরনের আয়োজন নিয়ে বিতর্কের নজিরও রয়েছে।সব মিলিয়ে,২০২৬-এর কলকাতার দুর্গাপুজোয় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। পুজোর ভিড় শুরু হওয়ার আগেই দেশ-বিদেশের নির্বাচিত অতিথিদের সামনে শহরের মণ্ডপ, প্রতিমা, শিল্পকলা ও উৎসবের আবহ তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। এখন দেখার, কলকাতার চিরপরিচিত পুজো সংস্কৃতির সঙ্গে এই নতুন কর্পোরেট উদ্যোগের মেলবন্ধন কী ভাবে সামনে আসে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

