AB Live News
শহরের কলেজে পড়ার টান, অপহরণের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ সাজিয়ে পুলিশকে নাকানিচোবানি খাওয়াল ছাত্রী!

শহরের নামী কলেজে পড়তে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা, আর সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে খোদ অপহরণের নাটক সাজাল এক কলেজছাত্রী! শুধু গল্প ফাঁদাই নয়, নিজের শরীরে ছুরির আঘাত করা থেকে শুরু করে বই পুড়িয়ে ফেলা— নিজের পরিকল্পনাকে নিখুঁত করতে কোনও খামতি রাখেনি সে। তবে শেষরক্ষা হল না। পুলিশের ম্যারাথন জেরায় ভেঙে পড়ে অবশেষে নিজের কীর্তি স্বীকার করে নিল কর্ণাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার ওই নাবালিকা।
গত সোমবার মেঙ্গালুরুর বেলথাঙ্গাড়ি এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায় যখন এক ছাত্রী দাবি করে, স্কুটি নিয়ে কলেজে যাওয়ার পথে একটি ঢাকা নম্বরপ্লেটের গাড়ি তার পথ আটকায়। তার অভিযোগ ছিল, মুখোশধারী তিন দুষ্কৃতী তাকে অপহরণের চেষ্টা করে এবং বাধা দেওয়ায় তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে চম্পট দেয়। দ্রুত ওই ছাত্রীকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছোটেন স্থানীয় বিধায়ক হরিশ পুনজা ও পুলিশের পদস্থ কর্তারা। এলাকায় দানা বাঁধে তীব্র আতঙ্ক।
তদন্তে নেমে পুলিশ যখন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে, তখনই দানা বাঁধে সন্দেহ। ফুটেজে অভিযুক্ত গাড়ির কোনও অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপরই পুলিশ সুপার ড. অরুণ কে-র নেতৃত্বে তদন্তকারীরা ছাত্রীর বয়ানে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন।
এক ব্যক্তি প্রথমে ছাত্রীর অপহরণের চেষ্টাকারীদের পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করলেও, পরে পুলিশের চাপে স্বীকার করেন যে— ছাত্রীটি যা যা বলেছিল, তিনি কেবল সেটুকুই পুলিশকে শুনিয়েছেন।
নিজের অভিযোগকে পোক্ত করতে ছাত্রীটি নিজেই তার পাঠ্যবই পুড়িয়ে দেয় এবং দাবি করে যে অপহরণকারীরাই তার ব্যাগ ও বই ছিনতাই করেছে।
পুলিশি জেরা ও মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখা যায়, ছাত্রীর শরীরে যে আঘাতগুলো ছিল তা অত্যন্ত সামান্য এবং সেগুলি নিজেই করা সম্ভব। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে ছাত্রীটি আসল সত্য সামনে আনে। সে জানায়, গ্রাম্য এলাকার এই কলেজে সে আর পড়তে চায় না। মেঙ্গালুরু শহরের কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্যই বাড়িতে ও পুলিশের কাছে এই চরম নাটকটি সাজিয়েছিল সে।
দক্ষিণ কন্নড় জেলার পুলিশ সুপার ড. অরুণ কে জানিয়েছেন, “মেডিক্যাল রিপোর্ট ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করার পর স্পষ্ট হয় যে পুরো ঘটনাটি সাজানো। মেয়েটির মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে যথাযথ কাউন্সেলিং করানো হয়েছে।” আপাতত অপহরণের অভিযোগটি খারিজ করে দিয়ে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

