AB Live News
“ঠোঁটকাটা আখ্যা আমি সসম্মানে গ্রহণ করলাম” শ্রীলেখা মিত্র-র অকপট স্বীকারোক্তি

ব্যালা চলচ্চিত্রের পদায় তিনি কখনও গ্ল্যামারাস নায়িকা। কখনও সাহসী চরিত্রের মুখপাত্রী। আবার কখনও নিছক প্রতিবাদী স্বর। তিনি শ্রীলেখা মিত্র। একজন অভিনেত্রী। যিনি নিজেকে কোনও গণ্ডিতে বেঁধে রাখতে রাজি নন। অভিনয়ের সাথে বাইরের জগতেও তিনি তাঁর স্পষ্টভাষী বক্তব্যের জন্য, আলোচনার শিরোনামে থাকেন। সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর অনন্য উপস্থিতি হোক কিংবা সমাজ-রাজনীতির নানা ইস্যুতে খোলা মতামতের কারণে। তাঁকে কেউ বলেন ‘ঠোঁটকাটা শ্রীলেখা’। কেউ বা ‘প্রতিবাদের মুখ’। তবে তিনি নিজেকে শুধুমাত্র একটি বাক্সে বন্দি রাখেননি। ঘর-সংসার, সন্তান, ব্যাস্ত শুটিং শিডিউলের মধ্যেও, তিনি যেমন একজন মা, একজন ঘরনি, তেমনি পদায় সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের সময়ও নিজেকে নিঃসংকোচে মেলে ধরেন। বাংলা চলচ্চিত্রে শ্রীলেখা মিত্র মানেই এক সাহসী নাম। গ্ল্যামারাস চরিত্র থেকে শুরু করে জটিল ও বোল্ড চরিত্র-সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন,নতুন করে উপস্থাপন করেছেন। ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘ওয়াই-টু-কে (Y2K)’, ‘কাঁটাতার’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সাহসী ও বাস্তবধর্মী চরিত্রগুলোতে তাঁর অভিনয় শুধুমাত্র দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছে তাই-ই নয়, বরং প্রমাণ করেছে, যে তিনি যেকোনও চরিত্রের জন্য একেবারে সাবলীল। আজকের বাংলা সিনেমার জগতে যেখানে সাহসী চরিত্রে অভিনয় করাটা এখনও অনেকের কাছে চ্যালেঞ্জ। সেখানে শ্রীলেখা মিত্র নিজেকে প্রমাণ করেছেন নিঃসংকোচে। তাঁর বোল্ড চরিত্রগুলি কেবল পর্দার গল্প নয়, বরং নারীর স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি। এবারের আড্ডায় তিনি খোলাখুলি জানালেন, কেন তাঁকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কেন বোল্ড চরিত্রে অভিনয় তিনি সহজে মেনে নেন। এ-আই(AI) বিতর্ক নিয়ে তাঁর ক্ষোভ। এবং কীভাবে মা-ভূমিকাই তিনি সামলান। শ্রীলেখা অভিনেত্রী জীবনের সব ভূমিকায় তিনি পারদর্শী । শ্রীলেখা মিত্র-র এই বিশেষ সাক্ষাৎকার পাঠককে চিনিয়ে দেবে এক অভিমুখী ব্যক্তিত্ব।পাঠকরা পাবেন একেবারে অন্য আলোয় শ্রীলেখা মিত্রকে। যিনি একসঙ্গে অভিনেত্রী, প্রতিবাদী মুখ, মা, আর একজন বিশেষ বাক্তিত্ব।
প্রশ্ন: আপনি প্রায় সময়েই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। কারণটা কী?
উত্তর: কারণ, সবাই খুব সচেতন ভাবে বিতর্ক এড়িয়ে চলে। আমি এড়িয়ে চলি না। বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার জন্য এটা করছি জেনে বুঝে, তা নয়। কিন্তু সবার থেকে হয়তো একটু আলাদা কথা বলি বলে, বিতর্ক আমাকে নিয়ে তৈরি করা হয়। আমি কোনও বিতর্কে থাকার জন্য, এরকমকোনও কিছু বলি না। প্রশ্ন: অভিনয়ের বাইরেও আপনি এখন প্রতিবাদী মুখ। ‘ঠোঁট কাটা শ্রীলেখা’ কেউ কেউ বলে থাকেন। কী বলবেন?
উত্তর: এবার দেখুন, ঠোঁটকাটা কথাটা হচ্ছে একজন যে, যেকোনও সিচুয়েশনে সত্যি কথা বলে। তাহলে সত্যি কথা বলাটা যদি এখন প্রতিবাদী হয় তবে আমি তাই। এবং প্রতিবাদী তো কোনও গালাগাল বিষয়ে ব্যবহার করছে না। যে অন্যায়গুলো ছোট থেকে দেখছি, সেই অন্যায়গুলোকে নিয়ে প্রতিবাদ করি। তো সবকিছুতে হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলানো মানুষ আমি নই। তো আমার একটা বুদ্ধিমত্তা আছে। সেটা পরিস্থিতি পরিবেশে যখন খাটানোর হয়। আমি সেটা খাটাই। আর ছোট থেকে জেনে এসেছি সদা সত্য কথা বলিবে। তো, এই সত্য কথা বলার দরুন ‘ঠোঁটকাটা’ যদি আখ্যা জোটে সেটা ভালো তো। অন্য কোনও আখ্যা, খারাপ কিছু তো, স্ক্যামবাজ, মিথ্যাবাদী, লোক-ঠকানো, একে বোকা বানিয়ে টাকা নিয়ে নেওয়া, এরকম তো কিছু জুটছে না। সুতরাং ‘ঠোঁটকাটা শ্রীলেখা টা আমি সসম্মানে গ্রহন করলাম। আজকের যুগে এটা একটা বিরাট কমেন্ট। এটা আমি মাথা পেতে নিলাম।
প্রশ্ন: রাজনীতির ময়দানে ‘মুখ’ হিসেবে কবে দেখা যাবে?
উত্তর: আমার অ্যাকচুয়ালি কোনও মুখ হিসেবে দেখা, দাঁড়ানোর কোনও অভিপ্রায়, ইচ্ছে, অ্যাম্বিশন কোনওটাই নেই। আমি বরাবর তা বলে এসেছি। তাহলে যে দল আপাতভাবে শূন্য সেই দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে কেন আমি বলব! তাদের আদর্শ বা তাদের শিক্ষা বা সৎ চেষ্টা এই সবকিছুর সাথে নিজেকে আমি অ্যালাইন মনে করি বলেই। আজকের দিনের নিরিখে যখন সবকিছু খুব পলিটিসাইজ হয়ে গেছে, তখন বলতে বাধ্য হয়েছি। আগে হলে আমি বলতাম না যে, আমি কোন দলের সাপোর্টার। কিন্তু এখন বলতে বাধ্য হয়েছি। কারণ, এখন সবকিছুর মধ্যেই পলিটিক্সটা ভীষণভাবে ঢুকে গেছে।
প্রশ্ন: অভিনয়ের ক্ষেত্রেও বোল্ড ক্যারেক্টারের অভিনয়েও আপনি সাবলীল। এ-নিয়ে কী বলবেন? উত্তর: আমার কাছে বোল্ডনেসটা হচ্ছে ক্যারেক্টারের মানসিকতা। এই ক্ষেত্রে যদি তেমন কোনও ক্যারেক্টার আসে এবং আমি নিজের সাথে ওই চরিত্রের মিল খুঁজে পাই, তবেই আমি অভিনয় করি। আদারওয়াইজ জামাকাপড় খুলে, মানে শরীর দেখানোটাই যদি বোল্ডনেস হয়, আমি সেটার সাথে একমত নই। যেখানে আমার দরকার, প্রয়োজন সেখানে আমি করি, যেরকম ‘আশ্চর্য প্রদীপে’- এর, ‘ওয়াই-টু-কে (Y2K)’ যেরকম। আমি আমার ইনস্টাগ্রামে একটা ভিডিও পোস্ট করেছিলাম এই যে ব্রা-এর স্ট্র্যাপ দেখাচ্ছি। সেই ভিডিওতে আমার লক্ষ-লক্ষ মিলিয়ন-মিলিয়ন ফলোয়ার হয়ে গেছে। সেটার সারমর্ম যদি লোকে বুঝত তাহলে আর এইরকম অ্যাডজেকটিভ, এরকম বিশেষণ জুড়ত না। সেটা আমাদের পোড়া কপাল। আমাদের দেশে এইগুলো কী আর করব?
প্রশ্ন: এআই-এর মাধ্যমে বানানো আপনার বেশ কিছু পর্ন ভিডিও নিয়ে হইচই হয়। এই সব ছবি নিয়ে কী বলবেন?
উত্তর:ওহ!তাই নাকি? আমি সেসব তো জানিই না। মানে আমাকে নিয়ে পর্ন ভিডিও বানানো হচ্ছে! আহারে বেচারারা। এমনি তো আমাকে দিয়ে এসব কিছু দেখতে পায় না। তাই ওই যদি তার শরীর-মন ভালো থাকে, থাকুক। আমি আর কী বলব। এ-আই(AI), ফে-আই দিয়ে দেখে। ঠিক আছে দেখুক। তাতে যদি তার শরীর, মন ভালো থাকে থাকুক।আমি আর কি বলব।এটা যদি আপনারা লিঙ্ক পান, আমায় দেবেন। আমি একটু আমার উকিলকে পাঠিয়ে দেব।
প্রশ্ন:ঘর-সংসার, অভিনয়, কীভাবে ম্যানেজ করেন? উত্তর: অভিনয় কোথায়? (একটু হেসে) বাদবাকি আর পাঁচটা ওয়ার্কিং ওমেন যেরকম ভাবে ম্যানেজ করে। আমি সেভাবেই ম্যানেজ করি। আলাদা কিছু করতে লাগে না।
প্রশ্ন: অভিনয়ের ক্ষেত্রে আপনি একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, ‘প্রতিবাদী মুখ’ হিসেবেও কি তেমন জনপ্রিয়? কী মনে হয়?
উত্তর:আমি জানি না, আমি জনপ্রিয়তা ওরকমভাবে মাপিনি। কোন কোন নিরিখে কে জনপ্রিয়, আমি তাও জানি না। সুতরাং আমি আমার নিজের কাজটুকু করি।
প্রশ্ন: অসংখ্য ছবি ও সিরিয়ালে আপনি অভিনয় করেছেন, তার মধ্যেও এমন কোনও চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছে ছিল যা পুরণ হয়নি। এমন কোনও আক্ষেপ আছে কি?
উত্তর:না, আমার কোনও আক্ষেপ নেই। অ্যাকচুয়ালি কোনও আক্ষেপ নেই। আমি যা পেয়েছি জীবনে, বোনাস। আরও বেশি পাওয়ার ছিল। বাট যেটা পেয়েছি সেটাও কম কিছু নয়।
প্রশ্ন:বিজি শিডিউলে ‘মা’ হিসেবে নিজের সন্তানকে কতটা সময় দিতে পারেন?
উত্তর: আমার মেয়ে তো এখন বাইরে। আর আমার চারপেয়ে সন্তানেরা আছে। তাদের সাথে আমি সর্বদা আছি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

