AB Live News
লকেট চট্টোপাধ্যায়: রুপোলি পর্দা থেকে রাজনীতির মঞ্চে এক সফল যাত্রা

খবর এখন:ভারতীয় রাজনীতিতে লকেট চট্টোপাধ্যায় একটি পরিচিত এবং প্রতিবাদী মুখ। দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের পুরোহিত পরিবার থেকে উঠে আসা এই কন্যা অভিনেত্রী হিসেবে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন, তারপর পা রেখেছেন রাজনীতির আঙিনায়। তাঁর অভিনয় এবং রাজনৈতিক জীবন, ব্যক্তিগত লড়াই এবং ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি খোলামেলা সাক্ষাৎকার এখানে তুলে ধরা হল।
১. আপনি অভিনয় এবং রাজনীতি-দুটোতেই সমান স্বচ্ছন্দ। রাজনীতিতে এসে নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নিলেন?
লকেট: ২০১৭-১৮ সাল থেকে আমি পুরোপুরিভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি। যদিও এর আগে ২০১১ সালে তৃণমূল এবং ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলাম, তখনো অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছিলাম। ২০১৯ সালে হুগলি লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হওয়ার পর রাজনীতিই আমার প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে।
২. ঘর-সংসার, অভিনয়, এবং রাজনীতি-এই সব কিছু একসঙ্গে কীভাবে সামলান?
লকেট: আমি আর পাঁচজন সাধারণ কর্মজীবী মহিলার মতোই সবটা সামলাই। শাড়ি পরে, কপালে সিঁদূরের টিপ লাগিয়ে, চুল বেঁধে, প্রচারে বেরিয়ে পড়ি। আমার কাছে এটা একটা যুদ্ধক্ষেত্রের মতোই। একজন রাজনীতিক হিসেবে এই যুদ্ধং দেহি’ মনোভাবের জন্যই হয়তো আমার নাম প্রতিবাদী নেত্রীর তালিকায় উঠে এসেছে।
৩. অভিনয়ের মতো রাজনীতিতেও কি আপনি সমান জনপ্রিয়? কী মনে হয়?
লকেট: আমার জনপ্রিয়তা কতটা, তা জনগণই বলতেপারবেন। আমি জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। আমার বিশ্বাস, সমাজের জন্য কাজ করাটাই রাজনীতিতে আসার মূল কারণ হওয়া উচিত।
৪. রাজনীতির ময়দানে এতদিন টিকে থাকার রহস্য কী?
লকেট:আমি সাধারণ মানুষের সার্বিক স্বার্থে রাজনীতিতে এসেছি। যতদিন জনগণ এবং ভারতীয় জনতা পার্টি চাইবে, ততদিন আমি এই পথেই থাকব।
৫. আপনি একজন লড়াকু নেত্রী এবং জনপ্রিয়। বিরোধী দলে থেকে শাসক দলের বিরুদ্ধে লড়াই করা সহজ নয়।আগামী দিনে কি রাজ্যে পদ্মফুল ফুটবে? আপনি কতটা আশাবাদী এবং কেন?
লকেট:রাজ্যের শাসক দলের একের পর এক দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসছে, যেমন ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়া। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আশা করাই যায় যে ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসবে। বিরোধীরাই শাসক দলকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে, যদিও বর্তমান শাসক দলের ক্ষেত্রে সেই নজির দেখা যায়নি।
৬. একজন দায়িত্বশীল নেত্রী হিসেবে অনেক দায়িত্ব আপনার কাঁধে। জনসংযোগের এই পূর্ব অভিজ্ঞতা অভিনেত্রী হিসেবে আপনার ছিল না। এক্ষেত্রে রাজনীতির গুরু হিসেবে আপনি কার কথা বলবেন?
লকেট: রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে ময়দানে নামতে হয়, এমনকি সেই সব প্রত্যন্ত গ্রামেও যেখানে কেউ পৌঁছায় না। আমি রাজনীতির গুরু হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর আদর্শে বিশ্বাসী। আমার মতে, বর্তমান রাজ্য শাসন ব্যবস্থার বিকল্প হল ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জনগণের সিদ্ধান্তই রাজ্যের বর্তমান অবস্থা বদলে দিতে পারে।
৭. অভিনেত্রী হিসেবে যে জনপ্রিয়তা ছিল, তা কি রাজনীতিতে এসে কোনওভাবে প্রভাব ফেলেছে?
লকেট: না, আমার মনে হয় না। বিরোধী দলের অনেক নেতার মতো আমরা সিনেমার জনপ্রিয়তাকে রাজনীতিতে ব্যবহার করতে আগ্রহী নই।
৮. হঠাৎ কেন রাজনীতিতে এলেন?
লকেট:আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। সাধারণ মানুষের লড়াইয়ে আমি সব সময় তাদের পাশে থেকেছি। ২০১৪-১৫ সালে আমি রাজ্য। মহিলা কমিশনের সদস্য হিসেবে এবং ২০১৭-২০ সালে রাজ্য বিজেপির মহিলা মোচার সভানেত্রী হিসেবে কাজ করেছি।
৯. বিরোধী দলের লোকেরা কি আপনাকে পছন্দ করে?
লকেট: না।
১০. অভিনেত্রী নাকি রাজনৈতিক দলের নেত্রী-কোন ভূমিকায় আপনি নিজেকে বেশি সফল মনে করেন। লকেট: আমি একসময় বড় পর্দার একজন জনপ্রিয় মুখ ছিলাম। তবে এখন আমার সেইসব স্মৃতি নেই, কারণ আমি পুরোপুরি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ।
১১. অসংখ্য ছবি ও সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন। এমন কোনও চরিত্র ছিল কি যা আপনার অভিনয় করার ইচ্ছে ছিল কিন্তু পূরণ হয়নি। কোনও আক্ষেপ আছে কি?
লকেট:আমি প্রথম ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করি। ‘অন্তরালে’ সিরিয়ালের চরিত্রটি আমার খুব প্রিয় ছিল। আড়াই বছর ধরে আমি এই সিরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। এরপর আমি বড় পদয়ি আসি।
১২. আপনার ব্যস্ত জীবনে মা হিসেবে নিজের সন্তানকে কতটা সময় দিতে পারেন?
লকেট: ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও আমি চেষ্টা করি ওর সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকতে।
১৩. এই পুজো কীভাবে কাটাবেন?
লকেট:উৎসবের মরশুম শেষ হলেই বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়বে। বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে আমার মনে হয়, একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর দুর্নীতির কারণে শাসক দল কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে আছে।
১৪. অভিনয়, রাজনীতির বাইরে আপনি একজন স্ত্রী এবং মা। বাড়িতে অবসর সময়ে রান্না করেন কি? আপনার স্বামী ও মেয়ের পছন্দের কোনও খাবারের রেসিপি পাঠকদের সাথে শেয়ার করবেন?
লকেট: আমার অভিনয় জীবন বেশ কয়েক বছর আগেই শেষ হয়েছে। এখন আমি একজন পুরোদস্তুর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে এর বাইরে আমি একজন সাধারণ নারী, যিনি কর্মজীবনের পাশাপাশি ঘরের ভেতরের জীবনও উপভোগ করেন।
১৫. রাজনীতির বাইরে থেকে এই পুজোতে পাঠকদের কী বলবেন?
লকেট: আমি বলব, এই গতিময় জীবনে এই উৎসবের একান্ত মুহূর্তগুলো উপভোগ করা প্রয়োজন। জীবনে আনন্দ থাকা জরুরি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

