AB Live News
ঢাকের বাদ্যি শোনার অপেক্ষা, বাজারে নেই কেনাকাটার ছন্দ
সায়নী হাজরা :শারদোৎসবের আর বেশি দেরি নেই। পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ার অপেক্ষা, বাজারে নতুন পোশাকের গন্ধ, দোকানে সাজানো বাহারি পসরা—সবই আছে। শুধু নেই সেই চেনা ভিড়। পুজোর আগে যে সময় কান্দির বাজারে পা ফেলার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়, এ বার সেই ছবি এখনও অধরা। ফলে উৎসবের মরসুমে বিক্রিবাট্টা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।কান্দি মহকুমার সালার, বড়ঞা, ডাকবাংলো, পাঁচথুপি, খড়গ্রাম, নগর, ভরতপুর থেকে শুরু করে কান্দি বাজার—প্রায় সর্বত্রই একই ছবি। দোকানে পণ্যের অভাব নেই, নতুন জামাকাপড় থেকে পুজোর প্রয়োজনীয় সামগ্রী, সবই মজুত। কিন্তু ক্রেতার দেখা মিলছে হাতে গোনা। কান্দি মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পঞ্চানন দাসের কথায়, দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসে থাকলেও বাজারে ক্রেতার অভাবই এখন বড় চিন্তা।ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, সাধারণত বিশ্বকর্মা পুজোর পর থেকেই পুজোর বাজার জমে উঠতে শুরু করে। কিন্তু এ বার সেপ্টেম্বরের শেষপ্রান্তে এসেও সেই চেনা ব্যস্ততা নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকছে, অথচ বিক্রির খাতা যেন মুখ ফিরিয়ে আছে। প্রবীণ ব্যবসায়ী প্রেমানন্দ বড়ালের কথাতেও ধরা পড়েছে সেই হতাশা—কিছু কেনাবেচা হলেও তাকে এখনও পুজোর বাজারের স্বাভাবিক চেহারা বলা যাচ্ছে না।এর পিছনে একাধিক কারণের কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। পুজোর আগে পরপর নিম্নচাপ, আকাশের মুখ ভার এবং মাঝেমধ্যে বৃষ্টিতে মানুষ বাজারমুখী হতে চাইছেন না। পাশাপাশি বদলেছে কেনাকাটার অভ্যাসও। সারা বছর ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে কেনাকাটা করার প্রবণতা বেড়েছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনলাইন কেনাকাটা। ফলে পুজোর কেনাকাটার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন অনেকেই—এমনটাই মত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।তবে এই ফাঁকা বাজার শুধু দোকানের বিক্রির হিসাব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু ছোট ব্যবসায়ী পরিবারের রোজগার ও পুজোর মরসুমের প্রত্যাশা। বছরের এই সময়টুকুই অনেকের কাছে বাড়তি আয়ের সুযোগ। তাই দোকানে ক্রেতার পা পড়ার অপেক্ষায় প্রতিটি দিন কাটছে তাঁদের।বৃষ্টি থামবে, আবহাওয়া পরিষ্কার হবে, পুজোর দিন যত এগোবে ততই বাজারে মানুষের ভিড় বাড়বে—এই আশাতেই বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, শেষ মুহূর্তে হলেও কান্দির বাজার ফিরে পাবে তার চেনা ছন্দ। আপাতত সেই অপেক্ষাতেই সাজানো দোকান, ঝুলছে নতুন পোশাক—আর ক্রেতার পথ চেয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

