AB Live News
পঞ্জাবকে হারিয়ে প্রথম দল হিসাবে প্লে-অফে বিরাটরা
পঞ্জাব কিংসকে ২৩ রানে হারিয়ে আইপিএলের প্রথম দল হিসাবে প্লে-অফ নিশ্চিত করল গতবারের চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আরও একবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বিরাট কোহলিরা। আইপিএলের শুরুতে প্রথম সাত ম্যাচের মধ্যে ছ’টি জিতে সকলের উপরে ছিল পঞ্জাব। শ্রেয়স আয়ারদের সেই দল টানা আধডজন ম্যাচ হারল। ফলে তাদের প্লে-অফে ওঠার সুযোগ আরও কমল। এদিনে ফলাফলে অবশ্য মুখের হাসি কিছুটা চওড়া হল কেকেআরের।
১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট বেঙ্গালুরুর। অন্যদিকে, পঞ্জাবের পয়েন্ট ১৩ ম্যাচে ১৩। তারা যদি শেষ ম্যাচও হারে তা হলে ১৩ পয়েন্টের বেশি যেতে পারবেন না শ্রেয়সরা। যদি রাজস্থান ও চেন্নাই পয়েন্ট নষ্ট করে সে ক্ষেত্রে কেকেআরের প্লে-অফে ওঠার সুযোগ থাকবে। তবে তার জন্য কেকেআরকে নিজেদের বাকি দুই ম্যাচ জিততে হবে।
গতবারের ফাইনাল খেলা দুই দল এবারের আইপিএলে প্রথম মুখোমুখি হয়েছিল। গতবারও বেঙ্গালুরু প্রথমে ব্যাট করে জিতেছিল। এবারও সেই একই ছবি দেখা গেল। তবে বেঙ্গালুরুর এই জয়ে সবচেয়ে বড়ো কৃতিত্ব প্রাপ্য তাদের ফিল্ডারদের। কোহলি, জেকব বেথেল, রোমারিয়ো শেফার্ডেরা যে ভাবে প্রতিটা বলের জন্য ঝাঁপালেন, তা দেখে বোঝা যাচ্ছে, প্লে-অফে উঠতে কতটা মরিয়া ছিলেন তাঁরা।
২২৩ রান তাড়া করতে নেমে পঞ্জাবের টপ অর্ডার ব্যর্থ। প্রথম ওভারেই ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট প্রিয়াংশ আর্য (০)। রান পেলেন না অপর ওপেনার প্রভসিমরন সিংও (২)। দু’টি উইকেটই নিলেন ভুবনেশ্বর। বুড়ো হাড়েও ভেলকি দেখাচ্ছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যর্থ অধিনায়ক শ্রেয়সও। ১ রান করে রাসিখ দারের বলে আউট হলেন তিনি। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারায় পঞ্জাব। সেখানেই পিছিয়ে পড়ে তারা।
কুপার কনোলি ও সূর্যাংশ শেরগে লড়াই ছাড়েননি। পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে বেশ কয়েকটি বড়ো শট খেলেন। তবে সেই জুটি বড়ো হয়নি। ২২ বলে ৩৭ রান করে আউট হন কনোলি। ২২ বলে ৩৫ রানে ফেরেন শেরগে।
একটা সময় দেখে মনে হচ্ছিল, বড়ো ব্যবধানে হারবে পঞ্জাব। সেখান থেকে লড়াই শুরু করেন শশাঙ্ক সিং। লক্ষ্য বড়ো থাকলেও হাল ছাড়েননি তিনি। একের পর এক বড়ো শট খেলছিলেন। শেষ চার ওভারে দরকার ছিল ৬২ রান। আইপিএলে এই রান অসম্ভব নয়। তখনই নিজের অভিজ্ঞতা দেখালেন জশ হ্যাজেলউড। স্টোইনিসকে ৩৭ রানের মাথায় আউট করলেন তিনি। সেখানেই পঞ্জাবের আশা শেষ হয়ে যায়। শেষ ওভারে ২৭ বলে ৫৬ রান করে আউট হন শশাঙ্ক। ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান করে পঞ্জাব। ২৩ রানে হারে তারা।
রজত পাতিদার এই ম্যাচে খেলেননি। ফলে বেঙ্গালুরুর অধিনায়কত্ব করছেন জিতেশ শর্মা। টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন পঞ্জাবের অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। বেঙ্গালুরুর দুই ওপেনার কোহলি ও জেকব বেথেল দ্রুত রান তোলা শুরু করেন। কিন্তু বেশিক্ষণ টেকেনি সেই জুটি। তৃতীয় ওভারে হরপ্রীত ব্রারের বলে ১১ রানের মাথায় আউট হন বেথেল।
গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বেঙ্গালুরুর ইনিংস টানেন কোহলি ও পাড়িক্কল। রান তোলার গতি এক বারের জন্যও কমতে দেননি তাঁরা। পাওয়ার প্লে কাজে লাগিয়ে বড়ো শট খেলছিলেন দুই ব্যাটার। একটা সময় কোহলির থেকেও এগিয়ে যান পাড়িক্কল। সেই জুটি ভাঙেন ব্রার। ৪৫ রানের মাথায় পাড়িক্কলকে আউট করেন তিনি। যে ম্যাচে ব্যাটাররা দাপট দেখালেন, সেই ম্যাচে ভালো বল করলেন ব্রার। চার ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেন তিনি।
আগের ম্যাচে কেকেআরের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো শতরান করেছিলেন কোহলি। এই ম্যাচেও করলেন অর্ধশতরান। কিন্তু তার পর বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি কোহলি। ৫৮ রান করে ফেরেন তিনি।
এবারের নিলামে বেঙ্গালুরু বেঙ্কটেশ আয়ারকে কিনলেও তেমন সুযোগ পাননি এই বাঁহাতি ব্যাটার। এই ম্যাচে পাতিদার না খেলায় তাঁকে খেলানো হয়। বেঙ্কটেশ দেখালেন, তিনি কী করতে পারেন। এক বারের জন্যও মনে হয়নি, দিনের পর দিন বেঞ্চে বসে কাটিয়েছেন তিনি। মনে হল, বেঞ্চ থেকে সেট হয়ে এসেছেন। শুরু থেকে একের পর এক বড়ো শট খেললেন। কোহলি আউট হলেও বেঙ্গালুরুর রান তোলার গতি যে কমেনি, তার অন্যতম কারণ এই বেঙ্কটেশ। চলতি মরসুমে প্রথম অর্ধশতরান করলেন তিনি।
১৮তম ওভারেই ২০০ রান পার হয়ে যায় বেঙ্গালুরুর। অপর প্রান্তে থাকা টিম ডেভিডও হাত খোলা শুরু করেন। দুই ব্যাটারের দাপটে শেষ পর্যন্ত ২২২ রান করে বেঙ্গালুরু। বেঙ্কটেশ ৪০ বলে ৭৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ১২ বলে ২৮ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ডেভিড।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

