AB Live News
ড্র কলকাতা ডার্বি,শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল, দুইয়ে মোহনবাগান
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, দমবন্ধ করা উত্তেজনা। কানায় কানায় ভর্তি গ্যালারি। সব মিলিয়ে রবিবাসরীয় মহারণে যুবভারতী স্টেডিয়ামে যেন ফুটবল উৎসবের রুপ নিয়েছিল। আর সেই উৎসবের শেষ হাসি হাসতে পারল না কোন দলই। ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে ১-১ গোলে করল মোহনবাগান। ফলে আইএসএল ট্রফি জয়ের অপেক্ষা গড়ল ২১ মে।
এদিন আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে শুরু করে লাল-হলুদ শিবির। প্রথম মিনিটেই বাগানের বক্সে বল নিয়ে ডুকে পড়েন মিগুয়েল ফিগুয়েরা। কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে বিপদ মুক্ত করেন অধিনায়ক শুভাশিস বোস। কয়েক মিনিট পর প্রায় ২২ গজ দূর থেকে শট নেন সাহাল আব্দুল সামাদের। সেই বল সোজা যায় ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার প্রভসুখন গিলের হাতে। এরপর ১৪ মিনিটে এক গোলের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবের সামনে। বক্সের ভিতরে আলবার্তো রড্রিগেজের সামনে থেকে বল কেড়ে নিয়ে শট নেন অ্যান্টন সোবার্গ। সেই বল টম অলড্রেডের পায়ে লেগে পোস্টে লাগে। ফলে সুযোগ নষ্ট হয় ইস্টবেঙ্গলের।
কয়েক মিনিট পর মাঝমাঠ থেকে জিকসন সিংয়ের বাড়ানো থ্রু বল পান বিপিন সিং। সামনে একা গোলকিপার বিশাল কাইথ। তবে বিপিন বিশালকে পরাস্ত করে শট নিলেও ততক্ষনে চলে এসেছেন আলবার্তো। বিপিন সোজা মারে আলবার্তোর গায়ে। একই ঘটনা ঘটে বাগানের সঙ্গেও। ৩৯ মিনিটে মনবীর সিং আনোয়ারকে কাটিয়ে শট নেন। কিন্তু জিকসনের পায়ে বল লেগে বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ০-০।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চেহারাটা তেমন বদলায়নি। দুই দলই আক্রমণে উঠেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। এরই মধ্যে ৬৬ মিনিটের মিগুয়েল একা বল নিয়ে উঠে শট নেন। কিন্তু গোলের নিচে ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিশাল। তিনি দলকে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করেন।
যদিও ৮৫ মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ৬৩ মিনিটে বদলি হিসাবে নামা এডমুন্ড লালরিন্ডিকা। মিগুয়েলের বাড়ানো বল ধরে টাচে গোল করে দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন এডমুন্ড। মেহতাব সিং স্ল্যাইড ট্র্যাকেল করলেও বল ততক্ষনে জালে। তেকাঠির নিচে দাঁড়িয়েও বিশালের কিছুই করার ছিল না। সবাই ধরেই নিয়েছে ট্রফি জয়ের খরা কাটতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলের।
কিন্তু ম্যাচের শেষ মিনিটে দিমিত্রি পেত্রাতোসের কর্নার থেকে ভাসানো বলে হেড লাগিয়ে দলকে সমতায় ফেরান জেসন কামিংস। এরপর যোগ করে সময় ঘটে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা। বাগানের বক্সের মধ্যে বিপিনয়ের বাড়ানো বল ধরতে ব্যর্থ হন ইউসেফ এজেজরি। সেই বলে পাকি লাগালেই ২-১ গোলে এগিয়ে যেতে পারত লাল-হলুদ শিবির। তেমনি যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে কামিংসের পাস থেকে বল পেয়ে শট নেন জেমি ম্যাকলারেন। তবে বুক চিতিয়ে সেভ করেন গিল। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ স্কোরলাইনে।
ফলে ১২ ম্যাচ শেষে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে, সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে মোহনবাগান। আগামী ২১ মে সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে কিশোরভারতী স্টেডিয়ামে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে নামবে অস্কার ব্রুজোর দল। একই দিনে ওই সময়ে স্পোটিং দিল্লির বিপক্ষে খেলবে সের্জিও লোবেরার শিষ্যরা। ফলে ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে এই দু’টি ম্যাচ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

