Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

সাংসদ সচিব পদ থেকে অপসারিত জ্যোতিপ্রিয়কন্যা প্রিয়দর্শিনী

0 79,843,381

 রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বড়সড় রদবদল এবং খোলনলচে বদলে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এবার সেই রদবদলের বড়সড় কোপ পড়ল রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা ও বিদ্যালয় শিক্ষা প্রশাসনের অন্দরে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে এবার অপসারিত করা হল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে। গত বৃহস্পতিবারই স্কুল শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নবান্ন তথা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে সসম্মানে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে পদত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই পরামর্শে কর্ণপাত করেননি এবং নিজের পদে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা দপ্তর কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাঁকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদের গুরুদায়িত্ব থেকে পাকাপাকিভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই মতোই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের এই অপসারণের পিছনে গভীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছে রাজ্যের ওয়াকিবহাল মহল। রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্য ও বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক রেশন দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই মল্লিক পরিবারের ওপর চাপ বাড়ছিল। সেই সময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার স্ক্যানারে উঠে এসেছিল মন্ত্রী-কন্যা প্রিয়দর্শিনীর নামও। তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আয় ও সম্পত্তির উৎস নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনের অন্দরে থাকা পূর্বতন জমানার প্রভাবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবে বা বিশেষ সুপারিশে যাঁরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও শিক্ষা সংসদের পদে বসেছিলেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। প্রিয়দর্শিনীর ক্ষেত্রেও একই নীতি নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। তাঁকে প্রথমে নিজে থেকেই সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি পদত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় এই বাধ্যতামূলক অব্যাহতির নির্দেশ জারি করা হল।

রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরিয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে তাঁর পূর্বতন শিক্ষাগত ক্ষেত্রে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এবার থেকে তিনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আশুতোষ কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর বা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিজের শিক্ষাদানের দায়িত্ব পালন করবেন। তবে আকস্মিক এই অপসারণ এবং নতুন কলেজে ফেরার বিষয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিকের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই গোটা ঘটনার পিছনে একটি বড়সড় নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে গত বুধবারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অপসারণের বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার ঠিক আগের দিনই, অর্থাৎ বুধবার রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের মেগা অনুষ্ঠানে মূল মঞ্চে প্রথম সারিতে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়দর্শিনী। সংসদের সচিব হিসেবে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তাঁকে সেখানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা গিয়েছিল। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই অপসারণের কড়া নির্দেশিকা জারি হওয়ায় শিক্ষা মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের এই পদক্ষেপের পর রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে উঠেছে। নতুন শাসক শিবিরের দাবি, শিক্ষা ক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত করতেই এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। পূর্বতন জমানার দুর্নীতির ছায়া যাতে শিক্ষা সংসদের মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে না পড়ে, তা সুনিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর শিক্ষা সংসদের অন্দরেও ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নতুন সচিব কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে নানা জল্পনা ও নামের আনাগোনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই শূন্য পদ পূরণ করা হবে যাতে সংসদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম এবং আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতিতে কোনও ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper