Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

আর জি করে কড়া পদক্ষেপ সরকারের, সাসপেন্ড ৩ আইপিএস

0 69,843,294

 আর জি কর কাণ্ডে চিকিৎসকের নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। ঘটনার তদন্তে গাফিলতি, নির্যাতিতার পরিবারকে ভুল পথে চালিত করার চেষ্টা এবং পুলিশের প্রশ্নাদায়ক ভূমিকা খতিয়ে দেখতে কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল বিনীত গোয়েলসহ তিন উচ্চপদস্থ আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হল। শুক্রবার নবান্ন সভাগৃহে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল সাংবাদিক বৈঠকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কড়া সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। এই পদক্ষেপের ফলে তিলোত্তমা কাণ্ডে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে এবং অভয়া কাণ্ডের নিরপেক্ষ সত্য অনুসন্ধানে যে সরকার কতটা বদ্ধপরিকর, তা এদিনের সিদ্ধান্তেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সাসপেন্ড হওয়া তিন আইপিএস অফিসারের তালিকায় বিনীত গোয়েল ছাড়াও রয়েছেন তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং সেই সময়কার ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা। ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, বিনীত গোয়েল বর্তমানে রাজ্য পুলিশের এডিজি আইবি পদে কর্মরত ছিলেন, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় ছিলেন সিআইডির স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং অভিষেক গুপ্তা সামলাচ্ছিলেন ইএফআর ২য় ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব। তাঁদের তিন জনকেই আপদকালীন ভিত্তিতে সাসপেন্ড করে তাঁদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, আর জি করের মতো স্পর্শকাতর ও ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনায় পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসকমহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ ও অনিয়মের অভিযোগকে খতিয়ে দেখতেই এই কড়া পদক্ষেপের পথে হেঁটেছে নতুন প্রশাসন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সারা বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছিল। সেই সময় কলকাতা পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পদ্ধতি ও ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে নানা মহলে প্রশ্নের ঝড় ওঠে। সবথেকে বড় বিতর্ক দানা বাঁধে নির্যাতিতার পরিবারকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে। অভিযোগ উঠেছিল, ঘটনার পর তিলোত্তমার মাকে পুলিশের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল, যদিও সেই টাকা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন অভয়ার মা। এখানেই শেষ নয়, শোকার্ত মা-বাবার উপর পুলিশের তরফে মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগও সামনে এসেছিল। দেহ উদ্ধারের পর দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত মা-বাবাকে তাঁদের মেয়ের মৃতদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি বলেও মারাত্মক অভিযোগ তোলে পরিবার। শুক্রবার নবান্নের বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সমস্ত বিষয়গুলির উল্লেখ করে জানান, নির্যাতিতার পরিবারকে ভুল পথে চালিত করা, অভয়ার মাকে টাকা অফার করার মতো অনভিপ্রেত ঘটনা এবং তৎকালীন এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকের চরম অপেশাদার ভাবভঙ্গি নিয়ে রাজ্য সরকার এবার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠকে আরও একটি চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় এই পুলিশ আধিকারিকদের তৎকালীন কোনও মন্ত্রী বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলাদা করে কোনও বিশেষ নির্দেশ বা চাপ দিয়েছিলেন কিনা, তাও এই তদন্তের আওতায় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “দুই অফিসার অভয়ার মাকে টাকা দিতে গিয়েছিলেন। সেই সময়কার সমস্ত হোয়াটস্যাপ চ্যাট এবং কোনও মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী কোনও নির্দেশ দিয়েছিলেন কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া আর জি কর কাণ্ডের সময় এক ডিসি সংবাদমাধ্যমের সামনে এমন এক ভাবভঙ্গি বা আচরণ দেখিয়েছেন যাতে গোটা বাংলার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হয়েছে, বাংলার চরম অপমান হয়েছে। তিনি পুলিশের কোনও আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ছিলেন না এবং তাঁকে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলার জন্য কোনও লিখিত নির্দেশও দেওয়া হয়নি। সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই এই তিন অফিসারের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় তদন্ত চালনা করা হবে।” তবে প্রশাসনের তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, আইনি নিয়মানুযায়ী অভিযুক্ত অফিসারদের নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং তাঁদের কথাও শোনা হবে।

অবশ্য এই বিভাগীয় তদন্তের কারণে মূল মামলার আইনি জটিলতা যাতে বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে দিয়েছেন যে, সিবিআই বর্তমানে খুন ও ধর্ষণের যে মূল মামলার তদন্ত করছে, সেই মামলায় রাজ্য সরকার বা রাজ্য পুলিশ কোনওভাবেই কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি সাফ বলেন, “ধর্ষণ বা খুনের মূল ঘটনায় সিবিআই যে তদন্ত করছে, আমরা তার মধ্যে ঢুকব না। কারণ সেই তদন্ত আইন মোতাবেক কেন্দ্রীয় সংস্থাই করছে। কিন্তু সেই বিভীষিকাময় সময়ে পুলিশের অভ্যন্তরে কী ধরনের ব্যবহার করা হয়েছিল, পরিবারকে টাকা দেওয়ার চেষ্টার নেপথ্যে কী রহস্য ছিল— এই বিষয়গুলির তদন্ত একান্তই রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত তদন্ত নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই তিন অফিসারকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হল।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি এবং তার শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে বাংলায় ক্ষমতায় এলে আর জি কর কাণ্ডের চাপা পড়ে থাকা ফাইলগুলি পুনরায় খোলা হবে এবং আসল অপরাধীদের পাশাপাশি নেপথ্যের কুশলীদেরও মুখোশ টেনে খোলা হবে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রচারে এই ইস্যুতে বারবার সরব হয়েছিলেন এবং রাজ্য প্রশাসনের তৎকালীন ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এদিনের এই বড় পদক্ষেপের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী সরকার কার্যত সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম ধাপটি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সম্পন্ন করল। অভয়া ফাইল ফের উন্মোচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে যেমন নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তেমনই তিলোত্তমার বিচার পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন সাধারণ মানুষ। এখন দেখার, এই তিন শীর্ষ আইপিএস অফিসারের বিভাগীয় তদন্তের জল আগামী দিনে কোন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের দরজায় গিয়ে পৌঁছায়।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper