Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

তোলাবাজি, হুমকি, গ্রেপ্তার বরানগরের কাউন্সিলর

0 690,876,592

 তোলাবাজি, হুমকি এবং বাড়ির মালিকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ভাড়াটে বসানোর অভিযোগে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বরানগরের তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজো। মঙ্গলবার রাতে এক গৃহবধূর দায়ের করা বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বরানগর থানার পুলিশ। বুধবার ধৃত কাউন্সিলরকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে দু’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কেবল শান্তনুবাবুই নন, একই রাতে বরানগরের এক ওয়ার্ড সভাপতি-সহ আরও বেশ কয়েক জন তৃণমূল নেতা-কর্মীকেও বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বরানগরের রবীন্দ্রনগর এলাকায়। অভিযোগকারী গৃহবধূ রিতা দে’র দাবি, তাঁদের একটি তিনতলা বাড়ি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শরিকি বিবাদ চলছিল। সেই সুযোগ নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল একদল লোক তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং জোর করে ঘরে ভাড়াটে ঢুকিয়ে দেয়। বাড়ির মালিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের নৃশংসভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রিতাদেবীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময় এলাকায় তৃণমূলের প্রবল দাপট এবং আতঙ্কের পরিবেশ থাকায় তাঁরা প্রাণভয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি। গৃহবধূর আরও গুরুতর অভিযোগ, এই শরিকি সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার কয়েক দফায় তাঁদের কাছ থেকে মোট ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা নিয়েও বিবাদ মেটানো তো দূরের কথা, উল্টে প্রতিবাদ করলে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “জোর করে আমার বাড়িতে ভাড়াটে ঢোকানো হয়েছে। প্রতিবাদ করায় ভয় দেখানো হয়েছে। মিটমাটের নামে কাউন্সিলর টাকা নিয়েছেন। এখন রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে, পুলিশ সক্রিয় হয়েছে, তাই সাহস করে থানায় এসে অভিযোগ জানিয়েছি।”
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন শান্তনু মজুমদার। গ্রেপ্তারের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ সাজানো হয়েছে। বুধবার আদালত চত্বরেও তাঁকে মেজাজ হারাতে দেখা যায়। তিনি চিৎকার করে বলেন, “এটা রাজনৈতিক চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি প্রমাণ হয়, তবে আমি জুতো মুখে দিয়ে এলাকা ঘুরব।” এই গ্রেপ্তারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরানগর তথা উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। শহর তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ বর্ধনের দাবি, নির্বাচন সংক্রান্ত অতি তুচ্ছ ও ছোট ছোট মামলায় তাঁদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর পালটা আক্রমণে নেমেছে বিজেপি। বিজেপির বরানগর-১ মণ্ডল সভাপতি মলি রায়ের কটাক্ষ, “এতদিন সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না। কাউন্সিলর এবং তাঁর অনুগামীদের অত্যাচারে বরানগরের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। এখন সেই ভয়ের পরিবেশ কেটেছে, তাই সাধারণ মানুষ সাহস করে থানায় অভিযোগ জানাচ্ছেন। পুলিশও আইন অনুযায়ী নিজের কাজ করছে।” প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিলজলার বুলডোজার অভিযানের পর বরানগরের এই গ্রেপ্তারির ঘটনা প্রমাণ করছে যে, শাসকদলের তকমা লাগিয়ে দাদাগিরি করার দিন শেষ হয়েছে। অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি এবং অনুপ্রবেশে সহায়তার মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর আগে কতজন মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে, তা জানতে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত দু’দিনের জেল হেফাজতে কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদারের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের। সব মিলিয়ে বরানগরের এই ঘটনা শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণকে যে নতুন মোড় দেবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper