Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

দুই রহস্য স্পিনারের দাপট,রানে ফিরলেন রিঙ্কু,হাফ ডজন ম্যাচ পর জিতলেন নাইটরা

0 67,459,856

অবশেষে মিলল জয়ের দেখা। কলকাতা নাইট রাইডার্স পেল পুরো পয়েন্ট। হাফডজন ম্যাচের পর ইডেনে জিতল কেকেআর। রাজস্থান রয়্যালসকে ২ বল বাকি থাকতে ৪ উইকেটে হারাল শাহরুখ খানের দল।

বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও, তা মেলেনি। উলটে গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ সকাল থেকেই। তবুও ইডেন হাউসফুল হওয়ার একটা আগাম সংকেত তো ছিলই। হলও তাই। প্রবল গরম উপেক্ষা করেও রবিবাসরীয় দুপুরে মাঠ ভরিয়েছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক। এদিন ইডেনে দেখা মিলল এক বিশাল টিফোর। ক্রিকেট মাঠে যা সচরাচর দেখা যায় না। কেকেআরের সেই টিফোতে লেখা ছিল, যত ঝড়ই আসুক না কেন, আমরা একসঙ্গে আছি।

এদিন টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রাজস্থান। আশা করা হয়েছিল এই ম্যাচে হয়তো নাইটদের প্রথম একাদশে বদল হবে। কিন্তু সেই গুরে বালি! যতই হারুক, একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামার প্রতিজ্ঞা হয়তো কেকেআর টুর্নামেন্টের শুরুতেই নিয়ে ফেলেছে। আর তাই বৈভব অরোরা-রামনদীপ সিংদের ওপরই আস্থা দেখাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। টস ভাগ্য সঙ্গ না দিলেও, আবহাওয়া কিন্তু নাইটদের পাশেই ছিল। ম্যাচ শুরু আধ ঘণ্টার মধ্যে সূয্যি মামা মুখ ঢাকল মেঘের আড়ালে। ফলে স্বস্তি পেয়ে যান কিং খানের দলের ফিল্ডাররা।

বৈভব সূর্যবংশীর জন্য গলা ফাটাতে এমনিতেই প্রস্তুত ছিল নন্দনকানন। কিন্তু শুরুটা আশানুরূপ হয়নি রাজস্থানের। প্রথম তিন ওভারে ওঠে মাত্র ২০ রান। যার মধ্যে বৈভবের অবদান ৮ বলে ১১। প্রথম ছক্কা আসে পঞ্চম ওভারের দ্বিতীয় বলে। সুনীল নারিনকে বেছে নেন ১৫ বছরের তরুণ তুর্কি। যদিও একটি ছয় খেলেও, বাকি পাঁচ বল সূর্যবংশীকে দাঁড় করিয়ে রাখেন নারিন।ক্যামেরন গ্রিন নিজের প্রথম ওভারটা করলেন দুর্দান্ত। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারেই খেই হারালেন তিনি। ২২ রান দিলেন ষষ্ঠ ওভারে। চারটি ওয়াইড করলেন গ্রিন। আর গ্রিনের এই ওভারই পাওয়ার প্লেতে খেলা তুলে দিল রাজস্থানের হাতে। ৬ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে তাদের স্কোর গিয়ে দাঁড়াল ৬৩-তে।

পাওয়ার প্লের পর বরুণ চক্রবর্তী আসতেই থামল সূর্যর কেরামতি। ২৮ বলে ৪৬ রান করে রামনদীপের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন তিনি। তবে হালেফিলে ব্যাট হাতে বৈভবের দাপট বলছে, এই ইনিংস কিন্তু বেশ মন্থর। গোটা ইনিংসে মাত্র দু’টি ছক্কা ও ছ’টি চার মেরেছেন তিনি। যাঁর তাণ্ডব দেখার জন্য ইডেন ভরিয়েছিলেন ক্রিকেট ভক্তরা, তাঁদের কার্যত হতাশ হয়েই ফিরতে হবে বাড়ি। যদিও প্রিয় দলের জয় অবশ্য সেই ক্ষতে প্রলেপ দেবে। তবে এদিন কিংবদন্তি অ্যালান বর্ডারের দেখা পেলেন ইডেনের দর্শকরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক বর্ডার। ১৯৮৭ সালে তাঁর অধিনায়কত্বেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন অজিরা। সেই সময় সিএবি সচিব ছিলেন চণ্ডী গঙ্গোপাধ্যায়। আর এখন সিএবি সভাপতি তাঁর পুত্র সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বর্ডারকে সংবর্ধনা দেন সৌরভ। নাইটদের দুই স্পিনারকে এদিন পাওয়া গেল পুরোনো ছন্দে। উইকেট তোলার পাশাপাশি রানরেটকেও বেঁধে রাখলেন নারিন ও বরুণ। ধ্রুব জুরেল (৭ বলে ৫) ক্রিজে সেট হওয়ার আগেই তাঁকে সাজঘরে ফেরান বরুণ। কিছুক্ষণের মধ্যেই নারিনের বলে উইকেট দিয়ে আসেন যশস্বী জয়সওয়াল (২৯ বলে ৩৯)। রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে (১৪ বলে ১২) বোল্ড করেন বরুণ। চার ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন নাইটদের রহস্যময় স্পিনার। এরপর ডোনোভান ফেরেইরাকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান নারিন। চার ওভারে ২৬ রান খরচ করে দুই উইকেট নেন ক্যারিবিয়ান মিস্ট্রি স্পিনার। তবে এই ম্যাচেও কাঠগড়ায় অজিঙ্ক রাহানের অধিনায়কত্ব। যে পিচে স্পিনাররা এত সুবিধা পাচ্ছেন, সেখানে অনুকূল রয়ের হাতে কেন বল তুলে দিলেন না রাহানে, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়ে। যদি স্রেফ একজন ব্যাটার হিসাবেই খেলানো হয়, তাহলে মণীশ পান্ডে বা তেজস্বী দাহিয়াকে বসিয়ে কেন অনুকূলকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। যদিও ম্যাচ শেষে ব্যাট হাতে যাবতীয় সমালোচনার জবাব দিয়ে গেলেন অনূকূল। ১৯তম ওভারে কার্তিক ত্যাগীর বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রবীন্দ্র জাদেজা (৭ বলে ৯)। তার আগের ওভারেই অবশ্য রামনদীপের বলে শিমরন হেটমেয়ারের সহজ ক্যাচ ফেলেন বৈভব। তবে এই ওভারে আর বাঁচেননি তিনি। কার্তিকের বলে অঙ্গকৃষ রঘুবংশী ক্যাচ ধরে হেটমেয়ারকে (১৮ বলে ১৫) ডাগআউটের পথ দেখান। একই ওভারে তৃতীয় শিকার হিসাবে রবি বিষ্ণোইকে (২ বলে ০) ফেরত পাঠান কার্তিক। চার ওভারে ২২ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নেন কেকেআরের ডানহাতি পেসার। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানে থামে রাজস্থান। রান অল্প হলেও, দলটার নাম যেহেতু কেকেআর, তাই সন্দেহ একটা ছিলই জয় নিয়ে। বিশেষ করে শুরুটা দেখার পর তা আরও জোরালো হয়। পাঁচ রানের মধ্যে নাইটদের দুই ওপেনার সাজঘরে ফেরেন। প্রথম বলেই আউট হন টিম সেইফার্ট। পরের ওভারে রাহানে। দু’জনেই খাতা খুলতে ব্যর্থ। এরপর অবশ্য ম্যাচের হাল ধরেন রঘুবংশী ও গ্রিন। আগের দিন যেখানে শেষ করেছিলেন, এদিন যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন গ্রিন। কিন্তু ১৩ বলে ২৭ করার পরই জুরেলের একটা দুরন্ত স্টাম্প তাঁকে ফিরতে বাধ্য করে। ১৯ বলে ১০ রান করে রঘুবংশী যখন ফিরলেন, তখন গ্যালারি জুড়ে শুধুই হা-হুতাশ। রিঙ্কু সিং ও রভম্যান পাওয়েল ভালোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দলকে। কিন্তু হঠাৎ করেই পাওয়েল (২০ বলে ২৩) যেন উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন। জাদেজা বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা দিলেন তিনি। একই ওভারে ফিরতেন রিঙ্কুও। কিন্তু তাঁর উপহার স্বীকার করেননি নন্দ্রে বার্গার। রিঙ্কু সহজ ক্যাচ মিস করেন তিনি। রামনদীপ (১৩ বলে ১০) বাইরের বল মারতে গিয়ে প্লেড-অন হলেন। ব্যাস, রাজস্থানের উৎসবের শেষ এখানেই।

বাকিটা শুধু রিঙ্কু আর অনুকূল। ছক্কা মেরে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করলেন রিঙ্কু। সেইসঙ্গে সঙ্গে দলের উইনিং শটও এটা। ৩৪ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকলেন নাইটদের সহ অধিনায়ক। অন্যদিকে, মাত্র ১৬ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকলেন অনুকূল। শেষ ওভারে যখন ৯ রান বাকি ছিল, তখন রিঙ্কুর পরপর দু’টি চার ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেয়। তখন ৪৭-এ ব্যাট করছিলেন তিনি। বাকিটা ইতিহাস। রাজস্থানের হয়ে জাদেজা তিন ওভারে ৮ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন। এদিকে, ইডেনে রাজস্থানের বিরুদ্ধে নামার আগেই সুখবর পেয়ে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স সমর্থকরা। রবিবার কেকেআর শিবিরে যোগ দিলেন মাথিশা পাথিরানা। চোট সারিয়ে ফিট শ্রীলঙ্কার জোরে বোলার। তাঁকে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট কর্তারা আইপিএল খেলার ছাড়পত্র দিয়েছেন। পাথিরানার যোগ দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে কেকেআর কর্তৃপক্ষ। তবে তিনি রাজস্থান ম্যাচ খেলেননি। আশা করা হচ্ছে, পরের ম্যাচ থেকে তাঁকে পাওয়া যাবে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper