AB Live News
ঝালমুড়িতে মোদীর ‘মুড়ি-কূটনীতি’
বঙ্গ রাজনীতির রণক্ষেত্রে লড়াই যখন এক চরম উত্তেজনার শিখরে পৌঁছেছে, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় ও ঘরোয়া মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে রবিবার ঝাড়গ্রামের রাস্তায় কার্যত ‘ক্যামেরা মোমেন্ট’ তৈরি করলেন তিনি। জনসভার হাই-ভোল্টেজ ভাষণ আর রাজনৈতিক তর্জার মাঝপথেই রাজপথ ছেড়ে হুট করে পাড়ার মোড়ের এক অতি সাধারণ ঝালমুড়ির দোকানে ঢুকে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় আর প্রোটোকলের তোয়াক্কা না করে তাঁর এই আকস্মিক ‘ঝালমুড়ি বিরতি’ দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও। ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে নির্বাচনী জনসভা শেষ করে হেলিপ্যাডের দিকে ফেরার পথে রাজ কলেজ মোড়ের কাছে আচমকাই দাঁড়িয়ে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর কনভয়। গাড়ি থেকে নেমে সোজা গিয়ে দাঁড়ান রাস্তার ধারের একটি ঝালমুড়ির দোকানে।
মোদীর মতো ভিভিআইপি-কে সামনে দেখে যখন হতভম্ব দোকানদার, তখনই শুরু হয় আসল নাটকীয়তা। প্রধানমন্ত্রী নিজের হাতে দশ টাকার একটি কড়কড়ে নোট বাড়িয়ে দিয়ে এক ঠোঙা ঝালমুড়ি চান। ঠিক সেই সময় মুড়িতে মশলা মাখাতে মাখাতে দোকানদার সসংকোচে প্রশ্ন করেন, “স্যার, আপনি কি পেঁয়াজ খান?” প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর হিন্দিতে স্বভাবসিদ্ধ কায়দায় জবাব দেন, “পেঁয়াজ খাতে হ্যাঁয়, লেকিন দিমাগ নহি খাতে হ্যাঁয়!” অর্থাৎ, “পেঁয়াজ খাই, কিন্তু মাথা খাই না।” মোদীর এই টিপ্পনীতে উপস্থিত জনতা এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যেও হাসির রোল ওঠে। সর্ষের তেলের ঝাঁঝ আর কাঁচালঙ্কার ঝালে যখন মোদীর মুখ উজ্জ্বল, তখন দেখা গেল এক মানবিক দৃশ্য। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ছোট শিশুদের দিকে নিজের মুড়ির ঠোঙা বাড়িয়ে দিলেন তিনি। শুধু শিশুদেরই নয়, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনের সঙ্গেও ভাগ করে নিলেন নিজের বিকালের জলখাবার। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং’ মেজাজ নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বাংলার ভোটের ময়দানে রাজনীতির সঙ্গে রান্নাবান্নার বা জনসংযোগের এই ঘরোয়া ফর্মুলা অবশ্য নতুন কিছু নয়। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এর আগে বহুবার দেখা গিয়েছে রাস্তার ধারের দোকানে দাঁড়িয়ে পরম মমতায় চা বানাতে কিংবা খুন্তি হাতে চপ ভাজতে। অন্য প্রার্থীরাও কোথাও মাছ কাটছেন, কোথাও বা সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে দেওয়ালে চুনকাম করছেন। কিন্তু এ দিন ঝাড়গ্রামের এই ঝালমুড়ি কাণ্ড যেন সব প্রচারের লাইমলাইট কেড়ে নিল। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘মুড়ি-কূটনীতি’ আসলে বাংলার নাড়ি বোঝার এক সুনিপুণ চেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লির মসনদে বসে থাকা রাজনীতিকরাও সম্ভবত বুঝে গিয়েছেন যে, বাংলার মন জয় করতে হলে এখানকার অলিগলির চপ-মুড়ি-চা-এর সঙ্গে মিশে যেতে হয়। প্রোটোকলের ঘেরাটোপ ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ মানুষের সঙ্গে এভাবে মিশে যাওয়া এবং তাঁদের সঙ্গে খাবার ভাগ করে নেওয়া জঙ্গলমহলের ভোটারদের মধ্যে এক গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
বিরোধীরা অবশ্য এই ঘটনাকে ‘নির্বাচনী গিমিক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভোট বড় বালাই, তাই এখন মোদীজিকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মুড়ি খেতে হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক তরজা যাই হোক না কেন, ঝালমুড়ির সেই মশলার গন্ধ ছাপিয়ে এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে মোদীর এই ঘরোয়া অবতার। ১০ টাকার সেই কাগজের ঠোঙায় সর্ষের তেলের ঝাঁঝের মতোই এখন বঙ্গ রাজনীতিতে ঝাঁঝ বাড়ছে এই নতুন সমীকরণের। চপ-মুড়ি-চা-এর এই চিরন্তন ভোট যুদ্ধের ময়দানে মোদীর এই ঝালমুড়ি ভক্ষণ ইভিএমে কতটা মশলা যোগ করতে পারে, ৪ মে-র ফলাফলই তার চূড়ান্ত প্রমাণ দেবে। তবে আপাতত ঝাড়গ্রামের রাজ কলেজ মোড়ের সেই ছোট দোকানটি এবং ১০ টাকার ঝালমুড়িই হয়ে উঠেছে খবরের শিরোনাম। বাংলার ঘরে ঘরে এখন আলোচনার বিষয়— মোদীর সেই বিট নুন আর সর্ষের তেলের স্বাদ মাখা ‘মুড়ি-বিপ্লব’।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

