AB Live News
কোচবিহারে মোদীর মেগা গর্জন: ৪ মে-র পর চুন চুন কে হিসাব কিয়া জায়েগা
মনোজ থাপা (কোচবিহার): লোকসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে কার্যত তৃণমূল সরকারের অন্তিমলগ্নের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার কোচবিহারের ঐতিহাসিক রাসমেলা ময়দানে আয়োজিত ‘বিজয় সংকল্প সভা’ থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে নিশানা করে মোদী হুঙ্কার দিলেন, “তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। এবার হিসেব চোকানোর পালা।” মালদহের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে এসএসসি (SSC) দুর্নীতি— একাধিক ইস্যুতে রাজ্যের শাসকদলকে বিঁধে প্রধানমন্ত্রীর সাফ ঘোষণা, ৪ মে-র পর আইন নিজের কাজ করবে এবং প্রত্যেক অপরাধীর বিচার হবে।
এদিন সভার শুরুতেই কোচবিহারের আবেগ ছুঁতে বাংলায় নমস্কার জানিয়ে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পাশে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং শমীক ভট্টাচার্য। সুকান্ত মজুমদার প্রধানমন্ত্রীর হাতে জেলার লোকসংস্কৃতির স্মারক হিসেবে একটি ‘সারিন্দা’ তুলে দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন। ভিড়ে ঠাসা ময়দানের দিকে তাকিয়ে মোদী বলেন, “কিছুদিন আগে ব্রিগেডে যে বিউগল বেজেছিল, আজ কোচবিহারের এই জনসমুদ্র তাতে সিলমোহর দিয়ে দিল। তৃণমূলের সিন্ডিকেট রাজ এখন ভয়ে কাঁপছে। গোটা বাংলায় আজ একটাই আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে— পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি নিয়ে মালদহের সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, “ভাবুন এটা কেমন সরকার? যেখানে বিচারকদের পর্যন্ত কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, সংবিধান সুরক্ষিত নয়। মালদহে যা ঘটেছে তা তৃণমূলের মহা জঙ্গলরাজের প্রমাণ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে দেশের শীর্ষ আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। যারা বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, তারা সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দেবে কোন ভরসায়?” ভোট পরবর্তী হিংসার আশঙ্কায় থাকা সাধারণ মানুষকে অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডারা ভয় দেখালে ভয় পাবেন না। এই ভোটে বাংলা থেকে ভয় পালাবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সমস্ত অনুপ্রবেশকারীকে রাজ্য থেকে বের করা হবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে মোদী এদিন সরাসরি আক্রমণ করেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে। তিনি বলেন, “বাংলার যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করেছে এই সরকার। এসএসসি দুর্নীতিতে মন্ত্রী-বিধায়করা জেল খাটছেন। ওপর থেকে নিচুতলা— তৃণমূলের পরতে পরতে দুর্নীতি। একসময় যে বাংলা সব ক্ষেত্রে শীর্ষে ছিল, আজ কংগ্রেস-বাম এবং তৃণমূলের শাসনে সেখানে অন্ধকারের গ্রহণ লেগেছে। পাশের রাজ্যগুলো যখন বিকশিত হচ্ছে, তখন বাংলা থেকে কারখানা চলে যাচ্ছে, মানুষ কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পালাচ্ছে।”
বক্তব্যের শেষে মেজাজি ঢঙে মোদী হুঁশিয়ারি দেন, “চুন চুন কে হিসাব কিয়া জায়েগা। যত বড় গুন্ডাই হোক না কেন, ৪ মে-র পর কেউ রেহাই পাবে না।” প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

