Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

মোদী-মাসুদ কথা: জট কাটল হরমুজ়ে, ভারতের পথে এলপিজি জাহাজ

0 6,589,347

যুদ্ধ বিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের বড়সড় কূটনৈতিক জয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে জট কাটল হরমুজ় প্রণালীর। শুক্রবার ইরানের তরফে সবুজ সংকেত মেলার পরেই ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে এলপিজি বোঝাই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ— ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দাদেবী’। এর ফলে গত কয়েক দিন ধরে দেশে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর উদ্বেগের মেঘ অনেকটাই কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলার পর থেকেই উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। পাল্টা প্রত্যাঘাত হিসেবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে ভারতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলপিজি আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হয়। এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে সরাসরি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও অসামরিক ক্ষয়ক্ষতিতে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি, ভারতীয় পণ্য ও জ্বালানি পরিবহণের পথ নিরবচ্ছিন্ন রাখার দাবি জানান তিনি।
এর পরেই সুর বদলায় তেহরান। শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “ভারত এবং ইরান বন্ধু। আমরা বিশ্বাস করি এই দুই দেশের স্বার্থ এবং ভাগ্য অভিন্ন। ভারতের লোকজন কষ্ট পেলে আমাদেরও কষ্ট হয়।” তিনি নিশ্চিত করেন যে, ভারতগামী কোনও জাহাজকেই হরমুজ় প্রণালীতে বাধা দেওয়া হবে না।
শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এসসিআই)-র দু’টি জাহাজ ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দাদেবী’ বর্তমানে ভারতের পথে। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ‘শিবালিক’-এই রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি। এ ছাড়াও ওমান থেকে আফ্রিকার পথে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে ‘জগপ্রকাশ’ নামে আরও একটি ভারতীয় জাহাজ, যাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ গ্যাসোলিন।
উল্লেখ্য, ভারত প্রতিদিন গড়ে ১৯.১ কোটি আদর্শ ঘনমিটার গ্যাস ব্যবহার করে, যার অর্ধেকই আসে বিদেশ থেকে। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় প্রায় ৬ কোটি আদর্শ ঘনমিটার গ্যাসের জোগান ব্যাহত হয়েছিল। সরকারের তরফে বারবার সঙ্কট নেই বলা হলেও, হোটেল-রেস্তরাঁ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের আকাল দেখা দিচ্ছিল। জাহাজ দু’টি বন্দরে পৌঁছলে সেই ঘাটতি দ্রুত মিটে যাবে।
সূত্রের খবর, উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং আটকে পড়া জাহাজগুলোতে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয়। ইরান পথ খুলে দেওয়ায় শুধু জ্বালানি নয়, এই বিশাল সংখ্যক ভারতীয় কর্মীর নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয়েছে। এখনও প্রণালীর দু’প্রান্তে ভারতের অন্তত দু’ডজন পণ্যবোঝাই জাহাজ অপেক্ষা করে আছে। সেগুলি যাতে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে পারে, তার জন্য ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টানা চারবার ফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
ভারত এবং ইরানের এই ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের জেরেই রণক্ষেত্রের মাঝেও খুলে গেল বাণিজ্যের পথ। আপাতত ভারতমুখী এলপিজি ট্যাঙ্কারগুলোর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper