AB Live News
কিমের ১০ মিসাইল: উত্তর কোরিয়ার নিশানায় এবার জাপান সাগর, রণংদেহি পিয়ংইয়ং
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক তখনই কার্যত ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’-এর সলতে পাকানো শুরু হলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও। ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (Freedom Shield)-এর জবাবে অগ্নিশর্মা কিম জং উন। মুখে হুঁশিয়ারি নয়, সরাসরি কাজের মাধ্যমে জবাব দিল পিয়ংইয়ং। শনিবার দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ পিয়ংইয়ং-এর সুনান এলাকা থেকে জাপান সাগর লক্ষ্য করে পরপর ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়ার সেনা।
জাপানের কান ঘেঁষে মহড়া
জাপান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিমের ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জাপানের ‘এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন’-এর (EEZ) অত্যন্ত কাছে গিয়ে আছড়ে পড়ে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যে গতিতে ও উচ্চতায় উড়ে এসেছিল, তাতে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। এই নিয়ে তৃতীয়বার জাপানের ‘কান ঘেঁষে’ মিসাইল ছুড়ে প্রতিবেশী দেশগুলিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখলেন কিম প্রশাসন।
নেপথ্যে ‘ফ্রিডম শিল্ড’ বিতর্ক
কূটনৈতিক মহলের মতে, কিমের এই আগ্রাসন আকাশ থেকে পড়েনি। গত ৯ মার্চ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে শুরু হয়েছে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার মেগা যুদ্ধ মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’। উত্তর কোরিয়া বরাবরই এই ধরনের মহড়াকে তাদের দেশ দখলের ব্লু-প্রিন্ট বা ‘আক্রমণের মহড়া’ হিসেবে দেখে আসছে। কিম জং উনের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের দাবি, ঘরের দরজায় মার্কিন সেনার দাপাদাপি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ফলে এই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র আসলে ওয়াশিংটন ও সিউলের প্রতি পিয়ংইয়ং-এর কড়া পাল্টা বার্তা।
সিঁদুরে মেঘ দেখছে সিউল ও টোকিও
শনিবারের এই ঘটনার পর জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসেছে সিউল ও টোকিও-র নিরাপত্তা আধিকারিকরা। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনার এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, “উত্তর কোরিয়া যে কোনো সময় বড়সড় প্ররোচনা দিতে পারে। আমরা আমেরিকার সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।” জাপান সাগরে এই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মৎস্যজীবী ও জাহাজ পরিবহণ মহলেও।
ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের মেঘ
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের সুযোগ নিয়ে কিম জং উন এশিয়ায় নিজের শক্তি প্রদর্শন করছেন। একদিকে আমেরিকার মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করা, অন্যদিকে নিজের পরমাণু অস্ত্রের ক্ষমতা ঝালিয়ে নেওয়া— এই দ্বিমুখী নীতিতেই হাঁটছেন তিনি। তবে ১০টি মিসাইল একসঙ্গে ছোড়া উত্তর কোরিয়ার ইতিহাসে বিরল, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে কিমের তূণে তীরের সংখ্যা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি এবং ভয়ঙ্কর।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

