AB Live News
ব্রিগেডে মেগা গর্জন, নিশানায় ব্যক্তি নয় শুধু ‘তৃণমূল’, ভোটের মুখে মোদীর নতুন রণকৌশল

সামনেই ভোট। নির্বাচন কমিশন যে কোনও দিন নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে। এই তপ্ত আবহে শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে এ দিনের বক্তৃতায় লক্ষ্য করার মতো বিষয় ছিল তাঁর কৌশলী বদল। এর আগে রাজ্যে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দিদি ও দিদি’ বলে কটাক্ষ করা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘ভাইপো’ বলে নিশানা করা যাঁর দস্তুর ছিল, এ দিন সেই মোদী একবারও কারও নাম নিলেন না। বরং আগাগোড়া তাঁর লক্ষ্যবস্তু হয়ে রইল শুধুই ‘তৃণমূল’ দল এবং তাদের ‘নির্মম সরকার’। রাজনৈতিক মহলের মতে, ব্যক্তিকে আক্রমণ না করে সরাসরি ব্যবস্থাকে বিদ্ধ করাই কি ২০২৬-এর আগে মোদীর নতুন ‘মাস্টারস্ট্রোক’?
এদিন ভাষণের শুরুতেই বাঙালিয়ানায় শান দেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ করে বাংলাতেই বলেন, “আমার প্রিয় পশ্চিমবঙ্গবাসী ভাই ও বোনেদের অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সশ্রদ্ধ প্রণাম।” ব্রিগেডের উপচে পড়া ভিড় দেখে আপ্লুত মোদী বলেন, “যত দূর চোখ যাচ্ছে, শুধুই লোক। আপনাদের এই উৎসাহই বলে দিচ্ছে বাংলার মানুষের মনে কী চলছে। জঙ্গলরাজ খতমের সময় হয়ে গিয়েছে।”
এ দিন রাজ্য সরকারকে বারবার ‘নির্মম সরকার’ বলে বিদ্ধ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ব্রিগেডের সভা বানচাল করতে সব রকম হাতিয়ার ব্যবহার করেছে শাসকদল। মোদী বলেন, “মানুষকে আটকাতে ব্রিজ বন্ধ করা হয়েছে, গাড়িতে হামলা হয়েছে, পোস্টার ছেঁড়া হয়েছে। ট্রাফিক জ্যাম করিয়ে বাধা সৃষ্টির চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু এই জনপ্লাবন বুঝিয়ে দিয়েছে, নির্মম সরকারের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। জনজোয়ারকে আটকানোর ক্ষমতা কারও নেই।”
এ দিনের ব্রিগেডে মোদী ছিলেন অত্যন্ত পরিমিত ও আক্রমণাত্মক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বার ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। এর আগে প্রতিবারই ‘পিসি-ভাইপো’ তত্ত্ব নিয়ে সরব হতেন তিনি। কিন্তু শনিবার তাঁর নিশানায় ছিল সামগ্রিকভাবে তৃণমূলের ‘অপশাসন’, ‘কাটমানি’ এবং ‘দুর্নীতি’। শুভেন্দু অধিকারী যখন মঞ্চ থেকে ‘চোরমুক্ত বাংলা’র স্লোগান তুলছেন, মোদী তখন সরাসরি ‘নির্মম সরকার’ এবং ‘অরাজকতা’ নিয়ে সরব হয়ে নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপিত করেছেন। এই কৌশল আসলে শাসকদলের প্রতি মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষোভকে (Anti-incumbency) কাজে লাগানোর চেষ্টা বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রধানমন্ত্রী এ দিন স্পষ্ট করে দেন, বাংলার উন্নয়ন কেন্দ্রের অগ্রাধিকার। তাঁর দাবি, ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন সেই উন্নয়নেরই প্রতিফলন। তবে তৃণমূল সেই উন্নয়নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। ভাষণ শেষে তিনি বলেন, “এ বারের ভোট ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের। মা-বোনেদের সম্মান ফেরানোর লড়াই। বাংলার মানুষের জয় সুনিশ্চিত।”
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে মোদীর এই ‘নামহীন’ আক্রমণ কি বাংলার রাজনীতিতে কোনও নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে? উত্তর দেবে সময়ই।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Sudeshna Biswas, দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Sudeshna Biswas হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

