AB Live News
বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পথে আওয়ামি লিগ? কার্যালয় খুলতেই তুঙ্গে জল্পনা

২০২৪-এর অগস্টের সেই অগ্নিগর্ভ দিনগুলোর পর কেটে গিয়েছে প্রায় দেড় বছর। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল পেরিয়ে বাংলাদেশে কি তবে ফের সক্রিয় হচ্ছে আওয়ামি লিগ? সম্প্রতি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরপরই রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামি লিগের দলীয় কার্যালয়গুলোর তালা খুলতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও বিএনপির স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতেই কার্যালয় খোলার দৃশ্য জনমনে তীব্র কৌতূহল ও রাজনৈতিক সমঝোতার জল্পনা উসকে দিয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ফলে ২০২৬-এর নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি এই দল। কিন্তু নতুন সরকার গঠিত হতেই দৃশ্যপট দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। ঢাকা, চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা এবং খুলনার মতো একাধিক জেলায় দলীয় কার্যালয়ে ফিরতে শুরু করেছেন নেতা-কর্মীরা। আওয়ামি লিগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। ইউনূস সরকারের বিদায়ের পর স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ফিরে আসবে, এটাই প্রত্যাশিত।”
আওয়ামি লিগের এই আকস্মিক তৎপরতার পিছনে শেখ হাসিনার সরাসরি হাত দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলীয় সূত্রে খবর, ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে নিয়মিত তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর নির্দেশেই নেতা-কর্মীরা একে একে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে কার্যালয়মুখী হচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই— দলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব পুনরায় জাহির করা।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে পঞ্চগড়-সহ বেশ কিছু এলাকা থেকে। সেখানে দেখা গিয়েছে, খোদ বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতেই আওয়ামি লিগের অফিসের তালা খোলা হচ্ছে। অভিযোগ উঠছে, নির্বাচনের আগে জনসমর্থন নিশ্চিত করতে বিএনপির অনেক প্রভাবশালী নেতা আওয়ামি লিগের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ করেছিলেন। সেই সময় দেওয়া ‘প্রতিশ্রুতি’ মেনেই এখন আওয়ামি লিগকে স্পেস দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোদ বিএনপির অন্দরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
তবে এই ফেরা সর্বত্র মসৃণ হচ্ছে না। কিছু জায়গায় আওয়ামি লিগের কর্মীরা কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও কোথাও কার্যালয় খোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা আবার ভাঙচুর বা দখলের শিকার হয়েছে। ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এবং বিএনপি সরকার গঠনের পর আওয়ামি লিগের এই সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি বড় দুই দলের মধ্যে কোনও গোপন সমঝোতা গড়ে ওঠে, তবে তা বাংলাদেশের রাজনীতির মেরুকরণে আমূল পরিবর্তন আনবে। আওয়ামি লিগ কি তবে খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তিতে ফিরতে চলেছে? উত্তর খুঁজছে গোটা দেশ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon Web Desk , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon Web Desk হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

