AB Live News
অন্তর্বাস পরে শতাধিক পুরুষের সামনে নাচ, কী হয়েছিল সেই শুটিংয়ে? মুখ খুললেন দিয়া
চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে গিয়ে একজন শিল্পীকে ঠিক কতটা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, তা নিয়ে নিজের পুরনো দিনের এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। কেরিয়ারের শুরুর দিকের এক গানের দৃশ্যের শুটিংয়ের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, প্রচণ্ড প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তীব্র শৈত্যের মধ্যে শুধু পেশাদারিত্ব বজায় রাখতেই প্রাণান্তকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। এক সাক্ষাৎকারে সেই দিনের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়ে রূপোলি পর্দার আড়ালের এক অজানা লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। অভিনেত্রীর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, ওই ছবির গানের দৃশ্যের দৃশ্যধারণ চলছিল পাহাড়ের কোলে প্রবল কনকনে ঠান্ডায়। দৃশ্য অনুযায়ী তাঁর পরনে ছিল অত্যন্ত হালকা পোশাক, অথচ তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল হিমাঙ্কের কাছাকাছি। সেই সঙ্গে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় হঠাৎই শুরু হয় ভারী বৃষ্টিপাত ও কনকনে ঠান্ডা হাওয়া। পরিবেশ এতটাই প্রতিকূল হয়ে উঠেছিল যে শরীরের সমস্ত অনুভূতি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তীব্র ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি ক্যামেরার সামনে পেশাদার দায়বদ্ধতা থেকে শুটিং চালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর তিনি গুরুতর অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন। শিল্পজগতের চাকচিক্যের পেছনে যে কতটা শারীরিক ও মানসিক কাঠিন্য লুকিয়ে থাকে, সেই কথাই তুলে ধরেন দিয়া।
বিনোদন দুনিয়ার অন্দরের এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শাসক দল বিজেপির নেতৃত্বের পর্যবেক্ষণ, কলাকুশলীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সবসময় অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। শাসক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত কলাকুশলী, বিশেষ করে নারী শিল্পীদের কাজের পরিবেশ যাতে নিরাপদ, মানবিক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাযুক্ত হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলা দরকার। দীর্ঘ দিন ধরেই সংস্কৃতি ও সিনেমা জগতে নানা সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করে আসছে শাসক দল।
অন্য দিকে, বিনোদন জগতের এই সব ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বের বক্তব্য, গ্ল্যামার জগতের আড়ালে থাকা শ্রমের শোষণ ও চরম প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করার বাধ্যবাধকতা নিয়ে শিল্পীদের কথা আরও বেশি করে সামনে আসা দরকার। বিরোধীদের দাবি, বহু বছর ধরে সিনেমা জগতে কাজের সময়সীমা ও স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব নিয়ে নানা আলোচনা চললেও বাস্তবে শিল্পীদের সুরক্ষা নিয়ে এখনও অনেক ঘাটতি রয়েছে।
দিয়া মির্জার এই সাম্প্রতিক বক্তব্য সিনেমা মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুটিং সেটে কেবল অভিনেতা-অভিনেত্রীই নন, নেপথ্যে থাকা শত শত কর্মীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সামগ্রিক পরিকাঠামো বদলানোর দাবি আরও জোরালো হল। শৈল্পিক নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি যেন কারও ওপর চেপে না বসে, সেই বার্তাই এখন চলচ্চিত্র দুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

