Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

পছন্দের আশ্রয়ে ঠাঁই পেয়ে খুশি ফুটপাতবাসী সীতা

0 56,216,927

কলকাতার ফুটপাতে উনুন জ্বালিয়ে নাতির জন্য দুধ গরম করাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্কের পর অবশেষে স্বস্তির ঠিকানা খুঁজে পেলেন প্রৌঢ়া পথবাসী সীতা। প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতার পর নিজের পছন্দের আশ্রয়ে ঠাঁই এবং আয়ের সংস্থান হওয়ায় তিনি এখন সম্পূর্ণ খুশি ও সন্তুষ্ট। ফুটপাতের অনিশ্চিত জীবন কাটিয়ে মাথার ওপর পাকা ছাদ আর হাতে কাজ পাওয়ায় তাঁর মুখে এখন চওড়া হাসি।
সম্প্রতি শহরের পার্ক স্ট্রিট ও সংলগ্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চলাকালীন পথবাসী সীতার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়। ফুটপাতে দুধ গরম করা নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শাসক দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে এবং সীতা ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়। জনতা দরবারে হাজির হয়ে নিজের দুর্দশার কথা জানালে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন পুর প্রশাসনকে।
প্রাথমিকভাবে পুরসভার পক্ষ থেকে গৃহহীনদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সীতা ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁর বড় মেয়ে সেখানে থাকতে রাজি হলেও, সীতা নিজে সেই অচেনা সরকারি আবহে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি। ফলে কিছুটা জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে প্রশাসন জোর করে তাঁকে সেখানে আটকে না রেখে তাঁর নিজস্ব পছন্দ ও চাহিদাকেই প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত শাসক দলের স্থানীয় নেতৃত্ব ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সীতার পছন্দ অনুযায়ী এলাকার কাছেই একটি নিরাপদ বাসস্থানের বন্দোবস্ত করা হয়। শুধু থাকার জায়গাই নয়, আত্মসম্মানের সঙ্গে সংসার চালানোর জন্য একটি হোটেলে তাঁর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে। নতুন ঘরে মেয়ে ও নাতিদের নিয়ে পৌঁছে সীতা জানান, সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের বাঁধাধরা পরিবেশের চেয়ে এই পরিচিত এলাকায় থাকতে পেরে তিনি অনেক বেশি নিশ্চিন্ত।
এই সার্বিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে শাসক দল বিজেপি। দলের নেতৃত্বের দাবি, ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের জন্য শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি গৃহহীন ও প্রান্তিক মানুষের মানবিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করাই সরকারের আসল লক্ষ্য। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, একজন অসহায় নারীর ব্যক্তিগত ইচ্ছে ও আবেগকে মর্যাদা দিয়ে তাঁর মাথা গোঁজার স্থায়ী ব্যবস্থা ও জীবিকার সংস্থান করে দেওয়া হয়েছে, যা সুশাসনের প্রমাণ।
অন্য দিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, জনরোষ ও বিরোধীদের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েই প্রশাসন তড়িঘড়ি এই ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, একজন সীতা নিজের পছন্দের আশ্রয় পেলেও শহরের বাকি হাজার হাজার পথবাসীর স্থায়ী পুনর্বাসন নিয়ে প্রশাসনের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক তরজার আবহে ফুটপাতের চরম অনিশ্চয়তা ফেলে রেখে পছন্দের ঠিকানায় নতুন জীবনের শুরু করতে পেরে দারুণ খুশি সীতা।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper