AB Live News
বৃদ্ধাশ্রমে সেবা সংকল্প অভিযান, প্রবীণাদের আশীর্বাদে নতুন বাংলা
কৃষ্ণেন্দু তেওয়ারি :: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই কলকাতার ১৭১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বৃদ্ধাশ্রমে আয়োজন করা হল এক বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যা ও প্রীতিভোজের। প্রবীণ মায়েদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আশীর্বাদ নিয়ে নতুন স্বপ্নের বাংলা গড়ার ডাক দিলেন বিজেপি নেতা স্বপন পাল। ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে এবং স্বপন পালের সক্রিয় নেতৃত্বে আয়োজিত এই মানবিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে আশ্রম প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ দিন ১৭১ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড সংযোজকের বিশেষ উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন দলীয় কর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। বৃদ্ধাশ্রমে বসবাসকারী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন প্রবীণ আবাসিক মায়ের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে বিশেষ বসার ও সুস্বাদু খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রবীণ মায়েদের প্রতি সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়ে শ্রী স্বপন পাল বলেন, “আপনাদের মতো সকল মায়েদের নিঃস্বার্থ আশীর্বাদেই আজ নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এখন আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি নতুন স্বপ্নের বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি।” একই সঙ্গে তিনি উপস্থিত প্রবীণাদের ভরসা দিয়ে জানান, আগামী দিনে তাঁদের যে কোনও ধরনের সমস্যা কিংবা শারীরিক-মানসিক প্রয়োজন দেখা দিলে, তাঁরা যেন নিঃসঙ্কোচে আশ্রম কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দলীয় কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দেন যে, মায়েদের যে কোনও প্রয়োজনে দল সর্বাত্মকভাবে পাশে থাকবে এবং সাধ্যমতো সবরকম সহায়তা প্রদান করা হবে। আলোচনা পর্বের পাশাপাশি এদিন ছিল বর্ণময় সাংস্কৃতিক আয়োজন। আশ্রমে থাকা প্রবীণ মহিলারা নিজেরাই ভক্তিমূলক ভজন ও সুমধুর সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তাঁদের সুরেলা কণ্ঠে এক ভক্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে ওঠে, যা উপস্থিত কর্মীদের মুগ্ধ করে। শিল্পীদের উৎসাহ দিতে হাততালি দিয়ে সঙ্গ দেন দলীয় কর্মীরা। এর পর সঙ্গীতশিল্পী বাপি চক্রবর্তী একের পর এক কালজয়ী পুরনো গান ও বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে গোটা পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলেন। তাঁর গাওয়া গানের তালে প্রবীণ মায়েরা যেমন মেতে ওঠেন, তেমনই উপস্থিত সকলেই আনন্দে সামিল হন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর আয়োজিত হয় প্রীতিভোজ। দলীয় কর্মীরা নিজেরাই পরম যত্নে সকল প্রবীণ মায়েদের পাত পেড়ে খাবার পরিবেশন করেন। খাবার পরিবেশনের ফাঁকে মায়েরা কর্মীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন এবং স্নেহের পরশে তাঁদের মাথায় আশীর্বাদের হাত রাখেন। উৎসবের জাঁকজমকের বাইরে গিয়ে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত প্রবীণ নাগরিকদের কাছে পৌঁছে সেবা, শ্রদ্ধা, আপনত্ব ও আন্তরিকতার নজির গড়ে তুলল এই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। শেষ পর্যন্ত এক আনন্দময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে এ দিনের কর্মসূচি সম্পন্ন হল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

