AB Live News
হিন্দু ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে বিপাকে কবীর সুমন
বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কবীর সুমনের বিরুদ্ধে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত এবং নারী সমাজকে অবমাননা করার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। একটি সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কলকাতার নেতাজিনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রাজ্য রাজনীতিতে বরাবরই ঠোঁটকাঁটা এবং ঘোষিত বিজেপি বিরোধী হিসেবে পরিচিত কবীর সুমনের এই মন্তব্যের জেরে আইনি বিপাক বাড়তে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পুলিশ সূত্রের খবর, কবীর সুমনের বিরুদ্ধে ‘জাতির কথা’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের তরফ থেকে নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে নিয়ম মেনে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রাথমিক খোঁজখবর চালানো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা এবং আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে এই অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। ‘জাতির কথা’ সংগঠনের সদস্যদের দাবি, কবীর সুমন বিভিন্ন সময়ে তাঁর কথাবার্তার মাধ্যমে নারীদের চরম অপমান করেছেন এবং তাঁর একাধিক মন্তব্য হিন্দু ভাবাবেগে গভীর আঘাত করেছে। বাঙালি হিসেবে, হিন্দু হিসেবে এবং নারী জাতিকে সম্মানকারী নাগরিক হিসেবে এই ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন।
সংগঠনের এক শীর্ষস্থানীয় সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কবীর সুমন নিজেকে মস্ত বড় বুদ্ধিজীবী মনে করেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তিনি নারী সমাজ এবং সামগ্রিকভাবে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি যে ধরনের কুরুচিকর ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। হিন্দু সমাজকে প্রতিনিয়ত অসম্মানিত এবং তাচ্ছিল্য করার যে প্রবণতা ওঁর মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তার একটা অবসান হওয়া দরকার। তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রবীণ শিল্পীকে যাতে উপযুক্ত শাস্তির মুখোমুখি হতে হয় এবং প্রয়োজনে জেলে ঢোকানো যায়, তার জন্য যাবতীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তাঁরা। ওঁর করা প্রতিটি আপত্তিকর মন্তব্যের মূল্য ওনাকে চোকাতে হবে।
জানা গিয়েছে, প্রায় ৩ বছর আগে একটি প্রথম সারির টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় কিছু অত্যন্ত বিতর্কিত ও বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগ রয়েছে এই গায়কের বিরুদ্ধে। মূলত সেই পুরনো মন্তব্যের ভিডিও এবং বয়ানকে হাতিয়ার করেই এই নতুন অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন নিজের পথেই চলবে এবং সমস্ত খতিয়ে দেখেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কবীর সুমনের এই নতুন বিতর্ক ও আইনি জটিলতা রাজ্যে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন সুমন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তৃণমূলের একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবেই পরিচিত। এমনকি গত মার্চ মাসেও ধর্মতলার এক ধরনা মঞ্চে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং গৈরিক শিবিরের শক্তি বৃদ্ধির আবহে সুমনের রাজনৈতিক অবস্থানও কিছুটা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন যে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা তৃণমূলপন্থী নন। তিনি বলেন, সিপিএম বা তৃণমূল আমলে রাজ্যে মেয়েদের নিরাপত্তা কিন্তু যথেষ্ট সুনিশ্চিত ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে রাজ্যের নতুন সরকারও যেন নারীদের নিরাপত্তার সেই ধারা বজায় রাখে। তবে একই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে এখনও ভোট হলে তিনি তৃণমূলকেই ভোট দেবেন। পাশাপাশি তিনি এও যোগ করেন যে যদি রাজ্যে সত্যিকারের কোনো আদর্শবাদী কমিউনিস্ট পার্টি আসে, তবে তিনি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করবেন এবং তাঁদের জন্য গান বেঁধে তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন।
এই রাজনৈতিক ডামাডোল এবং মতাদর্শগত পরিবর্তনের আবহেই সুমনের বিরুদ্ধে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাতের এই অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। নিন্দুকদের মতে, সুমনের বক্তব্য ও সামাজিক ভাষ্য অনেক সময়ই শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, যার ফল এবার ওনাকে ভুগতে হতে পারে। কবীর সুমনের মতো একজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ইতিমধ্যেই নেটপাড়ায় ও সংস্কৃতি মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এখন পুলিশি তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

