AB Live News
পদ্ম-ঝড়ে ভেঙেই গেল ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ড
খাস ডায়মন্ডহারবারে মুখ থুবড়ে পড়ল ঘাসফুল শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের জেরে আচমকাই ভেঙে গেল ডায়মন্ড হারবার পুরসভার পুরবোর্ড। এই পুরসভার মোট ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১০ জন একযোগে পদত্যাগ করায় বোর্ডটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী তা ভেঙে পড়েছে। লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই এই এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছিল। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা এলাকায় ভারতীয় জনতা পার্টির লক্ষাধিক ভোটের লিড শাসক শিবিরের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এক সময় যে ডায়মন্ড হারবারে বিরোধীদের কোনও অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যেত না, যেখানে শাসক দলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, সেখানেই এবার ফুটল পদ্ম। এই রাজনৈতিক পরিবর্তন আসন্ন পুরভোটের বৈতরণী পার হওয়ার ক্ষেত্রে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজ্যের শাসক দল ক্রমশ পিছু হঠতেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পুরবোর্ডগুলি একে একে ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি কলকাতা পৌরনিগমের অন্দরেও চরম টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। শুধু তাই নয়, রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে তোলাবাজি, দুর্নীতি ও কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে একের পর এক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার হতে হয়েছে। এই লাগাতার কেলেঙ্কারির মাঝেই এবার খোদ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় ক্ষেত্রে এই বিশাল ভাঙন জোড়াফুল শিবিরের জন্য অত্যন্ত বড় ধাক্কা।
এই নাটকীয় ভাঙনের সূত্রপাত হয় গতকাল। সোমবার আচমকাই আট জন কাউন্সিলর সশরীরে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে তাঁর হাতে পদত্যাগ পত্র তুলে দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও দুই মহিলা কাউন্সিলর সশরীরে উপস্থিত হতে না পারায় অনলাইনের মাধ্যমে তাঁদের পদত্যাগ পত্র পুরসভাতে পাঠিয়ে দেন। সব মিলিয়ে মোট ১৬টি আসনের মধ্যে ১০টি আসনেই পদত্যাগের ঘটনা ঘটায় পুরবোর্ড কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে বোর্ডটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। এ দিকে, পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই মঙ্গলবার সকাল থেকে মহকুমার নাগরিক পরিষেবা ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হতে শুরু করেছে। পুর এলাকার বিভিন্ন মোড়ে এবং বাড়ির সামনে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। সাফাই অভিযান থেকে শুরু করে অন্যান্য জরুরি পরিষেবার কাজ অত্যন্ত ঢিমেতালে চলছে বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এই অচলাবস্থা কাটানোর জন্য মহকুমা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত পদক্ষেপ করা হয়নি। প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত বিদায়ী পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাস আপৎকালীন ভাবে সমস্ত কাজকর্ম নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দেখভাল করছেন। নাগরিক পরিষেবা যাতে পুরোপুরি স্তব্ধ না হয়ে যায়, সেই চেষ্টাই তিনি করছেন।
চেয়ারম্যান প্রণব দাস অবশ্য সাধারণ মানুষের এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, কোথাও কোনও পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে না এবং পুরসভার সমস্ত কাজ স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, পুরসভাতে সরকারি নিয়ম মেনে প্রশাসক বসানো হলেও মানুষের রোজকার পরিষেবার কাজ কোনও ভাবেই আটকে থাকবে না। এই পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন এবং রাজ্য সরকারের উচ্চ মহলের নজরে আনা হয়েছে। খুব দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে ডায়মন্ড হারবার পুরসভার দায়িত্বভার সামলানোর জন্য প্রশাসক নিয়োগ করা হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন। অন্য দিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপক হালদার এই বিষয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মানুষ আর এই তোলাবাজ এবং দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারকে পুরবোর্ডে দেখতে চায় না। ফলতার ভোটের ফলই প্রমাণ করে দিয়েছিল যে মানুষ পরিবর্তন চাইছে। পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ার এই ঘটনা অত্যন্ত স্বাভাবিক। পুরো বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত এখানে প্রশাসক বসিয়ে অচলাবস্থা কাটানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি দাবি করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডায়মন্ড হারবারের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়া আগামী দিনে এই অঞ্চলের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

