Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

জনবিন্যাস খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি

0 609,167,519

 দেশজুড়ে অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনবিন্যাসের চরিত্রে যে ধারাবাহিক বদল ঘটছে, তার সামগ্রিক প্রভাব খতিয়ে দেখতে অবশেষে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং সমাজমাধ্যমে এই বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে এই জনবিন্যাসের পরিবর্তনকে একটি মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নবগঠিত উচ্চস্তরীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব সামলাবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকর। গত কয়েক বছর ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে জনসংখ্যাগত কাঠামোর অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে সরব হওয়া হত। এবার সেই অভিযোগের সত্যতা, গভীরতা এবং তা মোকাবিলার উপায় খুঁজতে কোমর বেঁধে নামল শাহের মন্ত্রক।

এই কমিটির রূপরেখা এবং সদস্যদের তালিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নওলেকরের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে রাখা হয়েছে দেশের প্রশাসনিক, সুরক্ষামূলক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের দিকপালদের। কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দেশের বর্তমান জনগণনা কমিশনার। এছাড়াও থাকছেন প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক বালাজি শ্রীবাস্তব এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ শমিকা রবি। প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া যাতে মসৃণভাবে চলে, তার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যৌথ সচিব (বিদেশি-১) এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই কমিটি কেবল কোনও আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা করবে না, বরং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সুরক্ষাকবচ নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তাদের সুপরিকল্পিত মতামত ও সুপারিশ কেন্দ্রের কাছে পেশ করবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সমাজমাধ্যমের পোস্টে এই কমিটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন যে, জনবিন্যাসের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন ভারতের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক কাঠামো এবং বিশেষ করে আদিবাসী সমাজের নিজস্ব সংস্কৃতি ও অস্তিত্ব সংরক্ষণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। গত কয়েক বছর ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী রাজ্যে, বিশেষ করে বাংলাদেশ লাগোয়া পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে জনসভার মঞ্চ থেকে লাগাতার অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে সরব হতেন। অসম, পশ্চিমবঙ্গ বা ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে কীভাবে আদিবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জনসংখ্যাগত অনুপাত মার খাচ্ছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রায়শই তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হত। কেন্দ্রের দাবি, এই জনবিন্যাস পরিবর্তনের পিছনে একটি ‘নির্দিষ্ট ছক’ বা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কাজ করছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে বড়সড় ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। গত বছর ঐতিহাসিক লালকেল্লার প্রাচীর থেকে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দেশের এই অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাসের চরিত্র বদলে যাওয়ার প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উত্থাপন করেছিলেন। প্রধান সুরক্ষামূলক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই বিষয়টিকে যে কেন্দ্র সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, এই কমিটি গঠন করা তারই অকাট্য প্রমাণ।

নতুন এই উচ্চস্তরীয় কমিটির মূল কাজ হবে অত্যন্ত নিখুঁত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দেশ জুড়ে ঘটে চলা এই জনসংখ্যার রদবদলকে খতিয়ে দেখা। কমিটি খতিয়ে দেখবে কীভাবে এবং কোন কোন রুটে অবৈধ অভিবাসন বা অনুপ্রবেশ ঘটছে এবং তার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে। ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে জনসংখ্যার যে অস্বাভাবিক ও আকস্মিক উত্থান-পতন নজরে আসছে, তার অন্তর্নিহিত কারণগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে বা রাজ্যে জনসংখ্যার এই আকস্মিক বৃদ্ধির পিছনে স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে কোনও বিশেষ পরিকাঠামো কাজ করছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আসবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে আগামী দিনে দেশের নাগরিকত্ব আইন, সীমান্ত সুরক্ষা নীতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধিতে বড়সড় রদবদল আনা হতে পারে। দেশের সীমানা সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি ভারতের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে দেশের রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে জোর রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি হল।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper