AB Live News
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবি অভিষেকের
শিবনাথ দাস : চোখের চিকিৎসা সম্পন্ন করে কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখতেই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় সংবাদমাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। সেই সূত্র ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দাবি তোলেন, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। তাঁর বক্তব্য, যে পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশন কাজ পরিচালনা করছে এবং ভোটার তালিকা পরিমার্জনার নামে যে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট অর্থাৎ ছাড়পত্র আটকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি যেন কোনওভাবেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেই পদক্ষেপ এখনই গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় তিরিশ লক্ষ বৈধ নাগরিককে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাঁদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়নি। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসের এক নজিরবিহীন কালো অধ্যায়। আদালতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ এবং বিচারপতিদের মতবিরোধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাংবিধানিক রক্ষাকবচের সুযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করেছে। ভোটার তালিকা তৈরি ও সংশোধনের নামে বিরোধীরা কার্যত নির্বাচনী ফলাফল চুরি করেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্বয়ং। তাই তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠেছে, তা কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। সাংসদ আরও দাবি করেন, এর আগে সংসদে বিরোধীদের পক্ষ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতি ও ঐতিহ্য অগ্রাহ্য করে কোনও গ্রহণযোগ্য কারণ না দেখিয়েই সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়। দেশের স্বাধীনতার পর এমন বেনজির ঘটনা কখনও প্রত্যক্ষ করা যায়নি। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মান্যতা না দিয়ে যেভাবে বিশেষ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধির হস্তক্ষেপে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের নিয়ম চালু করা হয়েছে, তার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিষেক বলেন, যিনি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা ও মনোনয়নের ওপর নির্ভর করে সাংবিধানিক চেয়ারে বসবেন, তিনি নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না। তাঁর কাজ যে ক্ষমতাসীন দলের সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করা হবে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ভাষায় সতর্ক করে বলেন, বিড়াল এখন ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়েছে এবং অন্যায় কাজের পরিণতি হিসেবে বাংলার মানুষের অভিশাপ তাঁদের ওপর লেগেছে। গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করা যায়, কিন্তু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব নয়। নির্বাচনী লাইনে দাঁড়িয়ে যে ৮২ বছরের বৃদ্ধ মারা গিয়েছেন কিংবা যে গর্ভবতী মহিলাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে হয়রানি করা হয়েছে, তাঁদের চোখের জল কখনও বৃথা যাবে না। সাংবিধানিক পদে বসে যারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করেছেন, আগামী দিনে তাঁদের সকলকেই শ্রীঘরে দিন কাটাতে হবে। অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এই বক্তব্যের কড়া বিরোধিতা করে জানিয়েছে, নিজের দলের বিপর্যয় ঢাকতেই এই ধরনের ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আক্রমণ করা হচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

