AB Live News
রাস্তায় না নেমে দপ্তরে বসে কাজের নির্দেশ শুভেন্দুর
শিবনাথ দাস : প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনা এবং সরকারি নীতি প্রণয়নে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রিসভার দুই সদস্যকে কঠোর বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মহাকরণ বা নবান্নের প্রশাসনিক আলোচনার ফাঁকে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেন, অহেতুক রাস্তায় নেমে অতিরিক্ত সক্রিয়তা প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। তার পরিবর্তে দুই মন্ত্রীকেই নিজ নিজ সরকারি দপ্তরে নিয়মিত উপস্থিত থেকে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জরুরি ফাইল নিষ্পত্তির ওপর পূর্ণ মনোযোগ দিতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য ও পুর দপ্তরের বিভিন্ন কাজকর্মকে কেন্দ্র করে মন্ত্রীদের রাজপথে নেমে সংবাদমাধ্যমের সামনে অতিসক্রিয় ভূমিকা পালন করার একাধিক ঘটনা প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল। কখনও ফুটপাথের অসহায় মানুষের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যবহার নিয়ে জনমানসে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, আবার কখনও বা পুর এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত ও নাগরিক পরিষেবা নিয়ে পুরমন্ত্রীর রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সমস্ত বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, প্রশাসনের মূল চালিকাশক্তি হল সরকারি দপ্তর। রাস্তায় নেমে কেবল জনসংযোগ বা প্রচারমূলক কাজ করলেই সার্বিক নাগরিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।মুখ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীকে বুঝিয়ে দেন, সরকারি হাসপাতালগুলির আধুনিকীকরণ, ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির মানোন্নয়ন কিংবা শহর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তা মেরামতের মতো জটিল প্রকল্পগুলি পরিচালনার জন্য গভীর প্রশাসনিক পর্যালোচনা প্রয়োজন। এই কাজগুলি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে হলে সরকারি আমলা ও আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক, নীতি নির্ধারণ এবং ফাইলের পুঙ্খানুপুঙ্খ নিষ্পত্তি একান্ত আবশ্যক। রাজপথের রাজনীতি দলীয় সংগঠনের জন্য উপযোগী হলেও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত চেয়ারে বসে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনস্বার্থবাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের অভ্যন্তরীণ কার্যকারিতা ও গতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের আচরণে এই রাশ টানা হল। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কেবল দৃশ্যমান প্রচার নয়, কাজের বাস্তব ফলাফলই সরকারের মূল পরিচয়। তাই মন্ত্রীদের প্রতিদিনের রুটিনে দপ্তরের উপস্থিতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং মাঠপর্যায়ের কাজ সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমেই সমন্বয় রেখে পরিচালনা করতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

