AB Live News
পুরনো ভোটার তালিকায় পুনর্নির্বাচনের জোরালো দাবি তুললেন মমতা
শিবনাথ দাস : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার দাবি তুলে পুনরায় সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সরাসরি দলীয় প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির হাত থেকে রাজ্য ও দেশকে রক্ষা করতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি নতুন গণজাগরণ গড়ে তোলা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশ স্বাধীন হলেও নাগরিকরা বর্তমানে এক ধরনের অদ্ভুত রাজনৈতিক পরাধীনতার শিকার হচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বার্তা, তাঁর প্রথম ও প্রধান দাবি হল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁকে নেপথ্য থেকে মদত দেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হোক। বিশেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নামে লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। এই অবিচারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ হিসেবে বাদ যাওয়া সমস্ত মানুষের নাম আগের ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিতে হবে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, যে যে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং ভোটযন্ত্র কারচুপি করে একতরফা ক্ষমতা দখল করা হয়েছে, সেই সমস্ত রাজ্যে বর্তমান নির্বাচনী ফলাফল অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সেখানে পুরনো অপরিবর্তিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নতুন করে নির্বাচন পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তাঁদের দল এবং দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় চোদ্দো হাজার মিথ্যে মামলা রুজু করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর যেভাবে ধারাবাহিক প্রশাসনিক উৎপীড়ন ও হেনস্থা চালানো হচ্ছে, তা স্বৈরাচারী মনোভাবের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচন কমিশন যদি কোনও বিশেষ রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ শাখা হিসেবে কাজ করে, তবে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আর কোনও আস্থা থাকবে না। নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা এবং সাংবিধানিক নিরপেক্ষতা রক্ষা করার দায়িত্ব কমিশনের থাকলেও বর্তমান নেতৃত্ব সেই বিশ্বাসের চরম অবমাননা করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কঠোর অবস্থানের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দলীয় নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইকে বুথ স্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের নৈতিক ভিত্তি সম্পূর্ণ শূন্য। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে কোনও আপস করা হবে না। পুরনো তালিকার পুনর্বহাল এবং নিরপেক্ষ পুনর্নির্বাচন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের তীব্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে দলীয় সূত্রে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

