AB Live News
জোড়াফুল কার? নাম-প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন, আজ ফয়সালার অপেক্ষায় দুই শিবির
শ্রীতমা ব্যানার্জী :একটি দলের পরিচয় শুধু তার নাম বা প্রতীকে নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস, কর্মীদের আবেগ এবং মানুষের কাছে তৈরি হওয়া পরিচিতি। তাই সেই নাম ও প্রতীক নিয়েই যখন টানাপোড়েন শুরু হয়, তখন বিষয়টি নিছক সাংগঠনিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তৃণমূলের নাম এবং বহুলপরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে এমনই এক গুরুত্বপূর্ণ পর্বে পৌঁছেছে রাজনৈতিক সংঘাত।‘কালীঘাট-তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’—দুই পক্ষের বক্তব্য শুনতে শনিবার বৈঠকে বসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফলে প্রশ্ন একটাই—শেষ পর্যন্ত দলের নাম ও প্রতীকের অধিকার কার হাতে থাকবে? কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে দুই শিবির। এই বিতর্কে শুধু বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতাই নয়, দলের সাংগঠনিক শিকড় এবং রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অতীতের বিভিন্ন দলীয় প্রতীক-সংক্রান্ত বিরোধের নজির টেনে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নির্বাচন কমিশন এমন পরিস্থিতিতে একাধিক বিষয় বিবেচনা করতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি, তেমনই দলের মূল কাঠামো ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জহর সরকারও জানিয়েছেন, প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি জটিল হলে প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ করে রাখার ব্যবস্থাও কমিশনের হাতে থাকতে পারে। অতীতে লোক জনশক্তি পার্টি নিয়ে বিবাদের ক্ষেত্রেও এমন সিদ্ধান্তের নজির রয়েছে।তবে কমিশনের সিদ্ধান্তই যে শেষ কথা, এমন নয়। সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট পক্ষের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে শনিবারের বৈঠক যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, তার পরেও আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।রাজনীতির ময়দানে প্রতীকের গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ভোটারের কাছে একটি প্রতীক বহু বছরের রাজনৈতিক স্মৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। সেই কারণেই ‘জোড়াফুল’ নিয়ে এই টানাপোড়েনের ফল শুধু দুই পক্ষের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নয়, আগামী রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।এখন তাই অপেক্ষা কমিশনের সিদ্ধান্তের। জোড়াফুল কার হাতে থাকবে, দলের পরিচয় কোন শিবির বহন করবে—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বাংলা রাজনীতি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

