AB Live News
৫৫ লক্ষে ডাক্তার! শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, দুর্নীতির নয়া আঁতুড়ঘর বাংলা?
এস এস সি থেকে রেশন, এবার এমবিবিএস ডিগ্রি বিক্রির অভিযোগ, ভুয়ো ডাক্তার চক্রে কাঠগড়ায় মেডিক্যাল কাউন্সিল
বিপ্লব চৌধুরী::বাংলায় দুর্নীতির যেন শেষ নেই। শিক্ষক নিয়োগ থেকে পুরসভা, রেশন থেকে কয়লা – তৃণমূল জমানায় একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন – ডাক্তারি ডিগ্রি বিক্রি। অনুসন্ধানে উঠে আসছে, নীট ছাড়াই ৫৫-৬০ লক্ষ টাকায় এমবিবিএস ডিগ্রি ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর বিক্রির এক ভয়ঙ্কর চক্র সক্রিয় হয়েছে রাজ্যে।
*কীভাবে চলছে চক্র?*
আমাদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের কাজের ধরন অত্যন্ত সুপরিকল্পিত।
১. টার্গেট করা হচ্ছে নার্সিংহোমের ওয়ার্ড বয়, কম্পাউন্ডার বা আর এম পি ডাক্তারদের।
২. পুরনো, অবসরপ্রাপ্ত বা মৃত ডাক্তারদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৩-৪ কোটি টাকায় নয়, মাত্র ৫৫ লক্ষে বিক্রি করা হচ্ছে।
৩. সেই নম্বর রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে দেখালে সহজেই মিলছে বাংলায় প্র্যাকটিসের বৈধতা। যাচাই না করেই অনুমতি দিয়ে দিচ্ছে কাউন্সিল।
বর্ধমানের যে নার্সিংহোমে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে, সেখানে অপারেশন করেছিলেন সাইফুল হক ও বনশ্রী মণ্ডল নামে দু’জন। তাঁদের ডিগ্রি নিয়েই প্রথম সন্দেহ দানা বাঁধে। স্থানীয় সূত্রে খবর, যিনি এই চক্রের মূল পান্ডা, তাঁর নিজের ডিগ্রি নিয়েও প্রশ্ন আছে।
*তৃণমূল জমানার দুর্নীতির প্যাটার্ন*
এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগে তৃণমূল জমানায় আমরা দেখেছি –
*শিক্ষা দুর্নীতি:* টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের শিক্ষক পদে চাকরি।
*পুর নিয়োগ দুর্নীতি:* টাকার বিনিময়ে পুরসভায় চাকরি।
ঠিক একই কায়দায় এবার টাকার বিনিময়ে ডাক্তার পদ বিক্রি। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, দুর্নীতির মডেলটা একই – যোগ্যতা নয়, টাকাই শেষ কথা।
*অন্য রাজ্যে কী হয়েছিল? রেফারেন্স*
এই ধরনের ভুয়ো ডাক্তার চক্র নতুন নয়।
*১. বিহার ও উত্তরপ্রদেশ (২০২২-২৩):* বিহারে ৪০০-র বেশি ভুয়ো ডাক্তার ধরা পড়েছিল, যারা দশম শ্রেণি পাশ না করেই ক্লিনিক চালাচ্ছিল। ইউপিতে সিবিআই তদন্তে ফাঁস হয়েছিল নকল ডিগ্রি চক্র।
*২. মহারাষ্ট্র (২০২৩):* মহারাষ্ট্র মেডিক্যাল কাউন্সিল ২০০-র বেশি ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিল।
সেই একই মডেল এবার বাংলায় আরও সংগঠিতভাবে ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ।
*প্রশ্ন যা থেকেই যাচ্ছে*
১. রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল অন্য রাজ্যের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভেরিফাই না করেই কীভাবে অনুমতি দিল? কাউন্সিলের ভিতরেই কি কেউ জড়িত?
২. ৫৫ লক্ষ টাকার এই টাকা কার পকেটে যাচ্ছে? এর পিছনে কি কোনও বড় রাজনৈতিক মাথা আছে?
৩. এস এস সি-র মতোই কি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও সিবিআই/ইডি তদন্ত প্রয়োজন?
সাধারণ মানুষের প্রাণ নিয়ে এই খেলা বন্ধ না হলে, হাসপাতালে গিয়ে কে আসল ডাক্তার আর কে নকল, তা বোঝা দায় হয়ে যাবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

