AB Live News
দলটা সাইনবোর্ড হয়ে যাবে, বিস্ফোরক বিশ্বজিৎ
বিধানসভা নির্বাচনে নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও বিদ্রোহের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল। এবার সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়ে দল ছাড়ার জোরালো ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূলের দীর্ঘদিনের চেনা মুখ, মুখপাত্র তথা রাজীব কুমারের প্রাক্তন আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেব। দলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর করা একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে এখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। খুব শীঘ্রই এই রাজনৈতিক দলটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে এবং এটি একটি নামসর্বস্ব সাইনবোর্ডে পরিণত হবে। তাঁর এই মন্তব্য নির্বাচনী বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে এক চরম অস্বস্তি ও বড়সড় ফাটলের সৃষ্টি করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের এই প্রবীণ ও প্রভাবশালী নেতার মতে, এবারের নির্বাচনে দলের এই নজিরবিহীন পতনের নেপথ্যে রয়েছে গত পাঁচ বছর ধরে চলা পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে, দলের এই সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শীর্ষ নেতাদের কারও অজানা ছিল না। সবকিছু জেনেও তাঁরা চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন। বিশ্বজিৎবাবুর অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে তৃণমূলের অন্দরে মূলত দু’টি স্পষ্ট ভাগ বা গোষ্ঠীর তৈরি হয়েছিল। একটি গোষ্ঠী গড়ে উঠেছিল খোদ মমতাদিকে কেন্দ্র করে এবং অন্য আরেকটি গোষ্ঠী সক্রিয় ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে। এই দ্বিতীয় গোষ্ঠীটি এতটাই ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল যে, তাদের তৈরি বৃত্তের বাইরে থাকা তৃণমূলের সাধারণ কর্মী, এমনকি দলের বহু বিধায়ক ও সাংসদরাও শীর্ষ নেতৃত্বের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারতেন না। দলে এক প্রকার একনায়কতন্ত্র ও অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
দলের এই শোচনীয় অবস্থার জন্য ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর দিকেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্বজিৎ দেব। তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে প্রশ্ন তোলেন, একটি প্রতিষ্ঠিত এবং গণআন্দোলন থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক দল কেন একটি বাণিজ্যিক সংস্থার অঙ্গুলিহেলনে চলবে? কর্পোরেট টিমের মাধ্যমে দলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার এই সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, দলের সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি কোনও যোগাযোগ বা জনসংযোগের জায়গা রাখা হয়নি। সমস্ত সিদ্ধান্ত আইপ্যাক-এর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর থেকে নেওয়া হত। তিনি নিজে বহুবার দলের এই অন্তঃসারশূন্যতা এবং ভুল নীতি নিয়ে সরব হওয়ার ও মুখ খোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ফলস্বরূপ দল তাঁর কথা শোনে তো দূরস্ত, উলটে তাঁকে ক্রমশ কোণঠাসা করে দেওয়া হয়। এই কর্পোরেট কলকাঠি নাড়ার রাজনীতি ও অপমানের অভিমানেই গত প্রায় তিন বছর ধরে তিনি নিজেকে দল থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিলেন।
বিশ্বজিৎ দেবের মতে, এই ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়কেই সমভাবে নিতে হবে। তারা এই দায় কোনওভাবেই এড়াতে পারেন না। একই সঙ্গে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অত্যন্ত মারাত্মক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তাঁর দাবি, অত্যন্ত দ্রুত তৃণমূল কংগ্রেস টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যাবে। দলের বহু বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে আগামী দিনে কংগ্রেসে যোগ দেবেন, অনেকে চলে যাবেন বিজেপিতে এবং একটি বড় অংশ পুনরায় সিপিএমে ফিরে যাবেন। একটা সময় তৃণমূলের পক্ষ থেকে বুক চিতিয়ে দাবি করা হত যে রাজ্যের বিরোধী দল অর্থাৎ কংগ্রেস বা সিপিএম সাইনবোর্ড হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এবার খোদ শাসকদল তৃণমূলেরই সেই একই দশা হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই বাংলার বুক থেকে এই দলের নাম মুছে যাবে এবং কেবল সাইনবোর্ডটুকুই পড়ে থাকবে বলে তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

