AB Live News
বিতর্কের মেঘ কেটে ফ্লোরে নামছে ৩০০ কোটির ‘প্রলয়’
রূপসা দাস: বলিউডের অন্যতম বর্ণময় এবং সদাপরিবর্তনশীল অভিনেতা রণবীর সিংয়ের কর্মজীবন এই মুহূর্তে এক চরম নাটকীয় মোড়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একের পর এক হাই-প্রোফাইল সিনেমা থেকে তাঁর নাম জড়ানো এবং সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ককে কেন্দ্র করে মায়ানগরী মুম্বইয়ের অলিন্দে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘ডন ৩’ সিনেমা থেকে আচমকা তাঁর প্রস্থান এবং তার জেরে উদ্ভূত জটিলতা টিনসেল টাউনের পারদকে অনেকটাই চড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন এক চরম আকার ধারণ করেছে যে, চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অন্যতম বৃহত্তম সংগঠন ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ভারত সিনেমা এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) গত ২৫ মে অভিনেতার বিরুদ্ধে সরাসরি এক কঠোর ফতোয়া জারি করেছে। এই অসহযোগিতার নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই চারদিকে তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, তবে কি রণবীরের কেরিয়ারের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী মেগা প্রজেক্ট ‘প্রলয়’ বিশ বাঁও জলে চলে গেল? ৩০০ কোটি টাকার এই বিপুল বাজেটের কল্পবিজ্ঞান এবং জম্বি সারভাইভাল থ্রিলার কি শুটিং শুরুর আগেই মাঝপথে আটকে থাকবে? এই প্রশ্নটিই এখন বলিপাড়ার সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে সিনেমাপ্রেমী এবং বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর হল, এখনই হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। জম্বিদের কামড় খাওয়ার আগেই সিনেমাটি থমকে গিয়েছে—এমনটা ভাবলে তা সম্পূর্ণ ভুল হবে। ভেতরের খবর হল, ছবির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ একেবারে নিখুঁত পরিকল্পনা মাফিক অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। সব ঠিক থাকলে আগামী অগস্ট মাস থেকেই লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছে এই মেগা বাজেট ছবি। এফডব্লিউআইসিই রণবীরের বিরুদ্ধে যে অসহযোগিতার নির্দেশিকা জারি করেছে, তার মূল কারণ হল ‘ডন ৩’ থেকে তাঁর আকস্মিক প্রস্থান। অভিযোগ উঠেছে, এর ফলে প্রযোজকদের প্রায় ৪৫ কোটি টাকার মতো এক বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং ছবির পুরো শুটিং শিডিউলও ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশ মনে করছিলেন, এই ধরনের কড়া পদক্ষেপের পর রণবীরের পক্ষে কোনও নতুন ছবির কাজ শুরু করা আইনত ও ব্যবহারিকভাবে বেশ কঠিন হতে পারে। কিন্তু এই পরিস্থিতির আসল মোড় হল অন্য জায়গায়। এই অসহযোগিতার নির্দেশিকা বা ফতোয়া আইনিভাবে কোনও ছবির ‘প্রি-প্রোডাকশন’ বা প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজকে আটকে রাখতে পারে না। আর সেই সুযোগটিকেই অত্যন্ত সুকৌশলে কাজে লাগাচ্ছেন ছবির নির্মাতারা। চিত্রনাট্যের শেষ মুহূর্তের পরিমার্জন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত জটিল ভিএফএক্সের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা, উপযুক্ত লোকেশন রেকি কিংবা সেট ডিজাইনের কাজ ঘরে বসেই পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক স্তরের টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে নিয়ে একটি টানটান দুনিয়া তৈরির কাজ ঘরে বসেই সেরে ফেলছেন তাঁরা। তাই কাজ পুরোপুরি আটকে যাওয়ার কোনও আশঙ্কাই নেই।
এই সিনেমাটিকে ঘিরে ভারতীয় চলচ্চিত্রের বাজারে কেন এত বিপুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে এর প্রেক্ষাপট ও ঘরানা একেবারেই অনন্য। বলিউডে গতানুগতিক হরর বা সাধারণ থ্রিলার ঘরানার ছবি অনেক হয়েছে, কিন্তু হলিউডের মতো পুরোদস্তুর ‘পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপ্টিক জম্বি সারভাইভাল থ্রিলার’ বা ধ্বংসোত্তর দুনিয়ায় জম্বিদের হাত থেকে বেঁচে ফেরার লড়াই ভারতীয় দর্শকেরা বড় পর্দায় কখনও দেখেননি বললেই চলে। বিখ্যাত পরিচালক হনসল মেহতার ছেলে জয় মেহতার হাত ধরে এই সম্পূর্ণ নতুন স্বাদের সিনেমা পেতে চলেছেন দর্শকরা। জয় মেহতার সঙ্গে ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন ‘লুটেরে’ খ্যাত বিশাল কাপুর। ছবিটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে হনসল মেহতার ট্রু স্টোরি ফিল্মস, রণবীরের নিজস্ব ব্যানার মা কসম ফিল্মস এবং অ্যাপ্লজ এন্টারটেইনমেন্ট। জানা গিয়েছে, ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারী এবং কল্পিত জম্বি প্রাদুর্ভাবের কবলে পড়া এক বিপর্যস্ত মুম্বই শহরকে কেন্দ্র করে। যেখানে এক বিবাহিত দম্পতি লকডাউনের মধ্যে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য আপ্রাণ লড়াই চালাচ্ছেন। এই ছবির জন্য রণবীর সিং নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে খোলনলচে বদলে ফেলবেন বলে জানা গিয়েছে। একেবারে নতুন লুকে, হাড়হিম করা এক পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকার অনবদ্য এক রূপোলি লড়াই করতে দেখা যাবে তাঁকে। এই ছবির হাত ধরেই বলিউডে পা রাখতে চলেছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কল্যাণী প্রিয়দর্শন। ৩০০ কোটি বাজেটের এই ছবি নিয়ে রণবীর নিজেও দারুণ উত্তেজিত, কারণ এটি তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার প্রথম নিবেদন হতে চলেছে।
আপাতত অগস্ট মাসে শুটিং ফ্লোরে নামার আগে সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও আইনি জট কেটে যাবে বলেই তীব্র আশা প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল। যদি মুম্বইয়ে শুটিং করতে গিয়ে কোনও সমস্যা তৈরি হয়, তবে নির্মাতারা দেশের অন্য কোনও প্রান্তে বা বিদেশে গিয়েও এর চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন করতে পারেন, যেখানে এই ফতোয়ার কোনও এক্তিয়ার থাকবে না। এমনকি পরিস্থিতি আরও জটিল হলে প্রযোজকেরা যৌথভাবে ভারতের কম্পিটিশন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছেন। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় অঙ্কের বাজি এবং প্রায় ৫০০ জন কলাকুশলীর ভবিষ্যৎ যখন এই ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, তখন রুপোলি পর্দায় জম্বিদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগে বাস্তবের এই আইনি ও পেশাদার বিতর্ক যে নির্মাতারা দারুণভাবে সামলে নেবেন, তা বলাই বাহুল্য। সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে এক নতুন রূপোলি ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ছবি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

