AB Live News
আজ ফের শুভেন্দুর জনতার দরবার
রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে আজ, সোমবার দ্বিতীয়বারের জন্য ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকের ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য কার্যালয়ে আজ সকাল ন’টা নাগাদ এই কর্মসূচির সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হওয়ার এই বিশেষ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে আজকের এই জনতার দরবার অন্য এক বিশেষ কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে। রাজ্য জুড়ে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এবং আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের একটি বড় অংশ আজ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁদের দীর্ঘ ১৩ বছরের পুঞ্জীভূত বঞ্চনার জট কাটানোর আর্জি জানাতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্তমান রাজ্য সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে বছরের পর বছর ধরে চলা নিয়োগ দুর্নীতির জটলা কেটে অবশেষে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে কি না, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য। আজকের এই বৈঠক তাই তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হল।
নবান্ন ও রাজ্য রাজনীতি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত জমানার দীর্ঘ সময় ধরে চলা স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ সংক্রান্ত নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী রাস্তায় বসে আন্দোলন করছিলেন। যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ওএমআর শিট জালিয়াতি এবং অন্যান্য দুর্নীতির কারণে অনেকেই চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। অতীতে নিজেদের হকের দাবিতে রাস্তায় নামলে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রায়শই পুলিশের তরফে লাঠিচার্জ করা হত কিংবা প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হত। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই বঞ্চিত আন্দোলনকারীরা নতুন করে আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন। গত ২০ তারিখ আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ নবান্নে গিয়ে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে তাঁরা সরাসরি রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের দুঃখ-দুর্দশার কথা সশরীরে জানানোর দাবি তুলেছিলেন। চাকরিপ্রার্থীদের সেই মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি দ্রুত সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে আজ সোমবারের জনতার দরবারে তাঁদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ ‘যোগ্য শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মী এবং অনশনকারী মঞ্চ’-এর আহ্বানে চাকরিপ্রার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে হাজির হবেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করবেন।
চাকরিপ্রার্থীদের সংগঠন সূত্রে খবর, আজকের এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের পাশাপাশি তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের এবং সর্বদলীয় বা প্রশাসনিক স্তরের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য আবেদন জানাবেন। যেখানে শিক্ষা দপ্তর, আইনি বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত থেকে আইনি জটিলতাগুলি দূর করার উপায় খুঁজবেন। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি হল, ওএমআর শিটের আসল মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত চিহ্নিত করে অবিলম্বে শূন্যপদে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক এবং বিগত জমানার অবৈধভাবে চাকরি পাওয়াদের বাদ দিয়ে যোগ্যদের পুনর্বহাল করা হোক। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আইনি লড়াই ও রাজপথে অনশন-আন্দোলন চালিয়ে ক্লান্ত চাকরিপ্রার্থীরা মনে করছেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং সদিচ্ছা ছাড়া এই পাহাড়প্রমাণ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আজকের এই বৈঠক তাই তাঁদের কাছে অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে এক ফালি আলোর মতো কাজ করছে।
প্রশাসনিক স্তরে ‘জনতার দরবার’ চালুর এই অভিনব মডেলটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গিয়েছে। গত সোমবার যখন প্রথমবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে আচমকাই এই কর্মসূচি শুরু হয়, তখন সাধারণ মানুষ নিজেদের নানাবিধ স্থানীয় সমস্যা, জমি বিবাদ, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অভাব-অভিযোগ এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কথা জানাতে ভিড় করেছিলেন। অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভবনের দোতলার একটি বন্ধ ঘরে মুখ্যমন্ত্রী একে একে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সমস্যাগুলি অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন। সেই প্রথম দিনের কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদিকা লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং নেত্রী শশী অগ্নিহোত্রীসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রথম দিনের বিপুল সাড়ার পর নবান্ন এবং দলীয় সূত্রে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট এক বা দু’দিন অন্তত দুই ঘণ্টা করে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হবেন। সেই নিয়ম মেনেই আজ প্রতি সোমবারের মতো সকাল সাড়ে সাড়ে ন’টা থেকে বেলা এগারোটা পর্যন্ত সল্টলেক কার্যালয়ে এই বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের পূর্বতন শাসনব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের ফারাক গড়ে তুলতেই এই ধরনের ‘জনতার দরবার’ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও অতীতে একাধিকবার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর বার্তা দিয়েছিলেন। আজ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী পদের চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে এই বৈঠকের মাধ্যমে যদি নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি খসড়া বা রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে তা এই নতুন সরকারের জন্য একটি বিরাট বড় প্রশাসনিক সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে। তবে আইনি জটিলতার বেড়াজাল টপকে কীভাবে এই ১৩ বছরের পুরনো জট রাতারাতি কাটানো সম্ভব, তা নিয়ে নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের মধ্যেও দফায় দফায় আলোচনা চলছে। কোনও রকম আইনি জটিলতা যাতে নতুন করে তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে আইন দপ্তর। আজকের এই জনতার দরবার থেকে আন্দোলনকারী চাকরিপ্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত কোনও সুনির্দিষ্ট বা নিশ্চিত আশ্বাসের বাণী পান কি না, নাকি নবান্নের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়, তা জানার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

