AB Live News
ক্রীড়াজগতে শোক, প্রয়াত লিয়েন্ডারের মা জেনিফার পেজ
ভারতীয় ক্রীড়ামহলে আবার এক নক্ষত্রপতন। দীর্ঘদিন মারণ রোগ ক্যানসারের বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই চালানোর পর অবশেষে থামলেন ভারতীয় বাস্কেটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা অলিম্পিয়ান জেনিফার পেজ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। কিংবদন্তি টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজের মাতৃবিয়োগের এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের ক্রীড়ামহলে। গত বছর আগস্ট মাসেই প্রয়াত হয়েছিলেন লিয়েন্ডারের বাবা, দেশের প্রাক্তন হকি তারকা ভেস পেজ। এক বছরের ব্যবধানে বাবা ও মা উভয়কেই হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন লিয়েন্ডার পেজ। এই অপূরণীয় ক্ষতিতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যানসারের মারণ থাবার সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন জেনিফার। তাঁর চিকিৎসায় কোনও খামতি রাখা হয়নি, এমনকি হয়েছিল জটিল অস্ত্রোপচারও। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। বয়সজনিত কারণে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসে পেজ পরিবারের অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কারণ, ভারতের ইতিহাসে এই পরিবারটিই একমাত্র ব্যতিক্রমী পরিবার, যার তিনটি সদস্যই দেশের হয়ে অলিম্পিকের মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। জেনিফার পেজ নিজে ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক্সে ভারতের মহিলা বাস্কেটবল দলের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। শুধু তাই নয়, ১৯৮২ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ভারতীয় মহিলা বাস্কেটবল দলকে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। দেশের বাস্কেটবল খেলার প্রসারে এবং মহিলা ক্রীড়াবিদদের উদ্বুদ্ধ করতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
পরবর্তীকালে তিনি ভারতের প্রাক্তন হকি তারকা ভেস পেজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ভেস পেজ নিজেও ছিলেন দেশের এক উজ্জ্বল রত্ন, যিনি ১৯৭১ সালের হকি বিশ্বকাপে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন এবং ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকেও দেশের হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। বাবা ও মায়ের এই অসামান্য ক্রীড়াশৈলী এবং ঐতিহ্যকে সার্থকভাবে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁদের সুযোগ্য সন্তান লিয়েন্ডার পেজ। টেনিস কোর্টে লিয়েন্ডারের একের পর এক ইতিহাস গড়ার নেপথ্যে মা জেনিফার ও বাবা ভেসের অবদান ও অনুপ্রেরণা ছিল অপরিসীম।
জেনিফার পেজের এই আকস্মিক ও বেদনাদায়ক প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (প্রাক্তন টুইটার) লিখেছেন, ‘ভারতের টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজের মা জেনিফার পেজের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। ভারতীয় ক্রীড়াজগতে তাঁর অসামান্য অবদান এবং গৌরবময় অধ্যায় চিরকাল আমাদের মনে থাকবে। লিয়েন্ডার এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। ঈশ্বর যেন এই কঠিন সময়ে লিয়েন্ডার ও তাঁর পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি প্রদান করেন। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।’
ক্রীড়াবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই এই লড়াকু ক্রীড়াবিদের প্রয়াণে সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জ্ঞাপন করছেন। একটি যুগের অবসান ঘটলেও ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে জেনিফার পেজের নাম এবং তাঁর পরিবারের অলিম্পিক গৌরবগাথা আগামী প্রজন্মের কাছে চিরকাল এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

