Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

সায়নীকে তীব্র আক্রমণ জীতু কমলের, টালমাটাল টলিপাড়া

0 874,367,168

টলিউড তথা বাংলার বিনোদন জগতের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা রাজনৈতিক ক্ষোভ এবং ক্ষমতার আস্ফালনের অভিযোগে এবার এক নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত কাদা ছোড়াছুড়ির অধ্যায় শুরু হল। ‘অপরাজিত’ ছবির এই জনপ্রিয় জুটির পারস্পরিক আক্রমণকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তোলপাড় সোশাল মিডিয়া থেকে শুরু করে গোটা স্টুডিও পাড়া। টলিউডের একাংশের বিরুদ্ধে ‘তৃণমূল ঘেঁষা’ হওয়ার এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে কয়েক দিন ধরেই সরব ছিলেন অভিনেতা জীতু কমল। সেই প্রেক্ষিতেই গত শুক্রবার রাতে জীতুকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে যাদবপুরের সাংসদ-অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘টলিউডের কঙ্গনা রানাওয়াত। নিজেকে সত্যজিৎ রায় ভাবাটা বন্ধ করুন!’ নেত্রী-অভিনেত্রীর এই চড়া আক্রমণের জবাব দিতে এবার কার্যত রণংদেহী মেজাজে মাঠে নামলেন জীতু কমলও। সায়নী ঘোষের পুরোনো ও অত্যন্ত বিতর্কিত ‘কন্ডোম কাণ্ডে’র স্মৃতি উস্কে দিয়ে এবং সদ্য সমাপ্ত ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিধ্বংসী হার টেনে এনে সায়নীকে তুলোধোনা করলেন এই অভিনেতা।

সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ ও অত্যন্ত বিস্ফোরক এক পোস্টের মাধ্যমে সায়নী ঘোষের দিকে একগুচ্ছ তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ও মারাত্মক অভিযোগ ছুড়ে দিয়েছেন জীতু কমল। সায়নীর ঈশ্বরভক্তি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে অভিনেতা লিখেছেন, ‘‘আপনি ঈশ্বর মানেন নাকি? আপনি তো আমার আরাধ্য মহাদেবের লিঙ্গে কন্ডোম পরিয়ে খিল্লি করেছিলেন। আজ আপনি আমাকে সুবিধাবাদী বলছেন! আচ্ছা, কোন সুবিধাটা আমি আপনার বা আপনার দলের থেকে নিয়েছি? টেকনিশিয়ানদের একাংশ বলেছে আমি বাজে ব্যবহার করি? আসলে কিছু তৃণমূলের পেটোয়া টেকনিশিয়ানস ছাড়া আর কেউ এ কথা বলবে না। ২৮ জন বডিগার্ড আর পাঁচ-ছয়জন আপ্ত সহায়ক নিয়ে আপনাকে যখন চারদিকে ঘুরতে দেখে, তখন আমাদের মতো যে কোনও সাধারণ মানুষেরই পিলে কেঁপে উঠবে। আপনাকে সামনে দেখলে সবাই ভয়ে পানের বাটি সাজিয়ে শুধু গল্পই শোনাবে। তেমন তো কাজ-কর্ম কিছু করেনও না আপনি, তাই বসে বসে গল্পই শুনুন। টেকনিশিয়ানদের বিপদে কখন পাশে দাঁড়াতে হয় আর কখন তাদের সঙ্গ নিতে হবে, সেটা আপনার মতো পাল্টিবাজের কাছ থেকে অন্তত আমার শুনতে হবে না!’’

এখানেই শেষ না করে সায়নী ঘোষ ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এক মারাত্মক ও সংবেদনশীল চক্রান্তের অভিযোগ এনেছেন জীতু। নিজের অতীত জীবনের এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অভিনেতা দাবি করেছেন, ‘‘যখন আমি এবং আমার প্রাক্তন স্ত্রী বিরাটিতে আপনাদের দলের আশ্রিত কিছু লুম্পেন বা দুষ্কৃতীদের দ্বারা চরম সমস্যায় পড়েছিলাম, তখন আমরা কিন্তু আপনাকে কোনও সাহায্য চেয়ে ফোন করিনি। কিন্তু আপনি নিজে থেকে একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ মেসেজ করেছিলেন। সেই মেসেজে পরিষ্কার ও প্রচ্ছন্ন একটি থ্রেট বা হুমকি ছিল যে, ‘এই ঘটনাটিকে (তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমার প্রাক্তন স্ত্রীকে ধর্ষণ করার যে হুমকি দিয়েছিল) একটি সাধারণ ঘটনা হিসেবেই ট্রিট করো, নইলে বিপদে পড়বে।’ আসলে মিথ্যে বলতে বলতে আপনারা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন যে, দেশের বা রাজ্যের সাধারণ মানুষ আপনাদের আর বিন্দুমাত্র বিশ্বাস করে না। আপনার সুন্দর গানের কণ্ঠ, সুন্দর বক্তব্য আর ইংরাজিটা দারুণ হতে পারে, যদিও ইংরাজির ক্ষেত্রে আমি আর আপনার দলের সর্বোচ্চ নেত্রী একই তিমিরে দাঁড়িয়ে আছি, কারণ আমরা দুজনেই খুব একটা ইংরেজি বুঝি না।’’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকেও এক হাত নিতে ছাড়েননি অভিনেতা।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবি এবং ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়েও সায়নীকে তীব্র রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ শানিয়েছেন জীতু কমল। অভিনেতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘মুখে বুলি আওড়ানোর মানুষ তো আমি নই। ‘হ্যান কারেঙ্গে ত্যান কারেঙ্গে’— এই সমস্ত ফাঁকা বুলি বিগত ১৫ বছর ধরে কারা এই রাজ্যে বলে এসেছে, তা এবার একটু ঠান্ডা মাথায় ভালো করে ভাবুন। আপনি দাবি করছেন, সেই রাতে নাকি পুলিশ আমাদের বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল? বিরাটির সেই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, আপনি তো এখন ব্যস্ত সাংসদ, ক্ষমতা থাকলে বের করুন সেই সিসিটিভি ফুটেজের প্রমাণ। পারবেন তো? তৃণমূলের খেয়ে-পরে আমরা বেঁচে আছি— বলতে আপনি ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন? একটু ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখুন, আমার পানিহাটি মিউনিসিপালিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে আমার পরিবারের কেউই স্বাস্থ্যসাথী থেকে শুরু করে তৃণমূল সরকারের কোনও ভাতাই আমরা নিই না। কারণ আমরা আপনাদের ওই জোচ্চুরি এবং চুরির টাকা কোনও দিন স্পর্শ করব না।’’

সায়নী ঘোষের বর্তমান রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি নিয়ে চরম বিদ্রুপ করে জীতু কমলের সংযোজন, ‘‘আমি যদি আবোল-তাবোল বকে থাকি, তাহলে আপনার মতো একজন ব্যস্ত সাংসদ কেন আমার পেছনে সময় নষ্ট করছেন? ওহ দুঃখিত, এখন তো বোধহয় ‘কাকুর’ প্রোমোটিং ব্যবসাটা চারদিকের চাপে পড়ে পুরোপুরি বন্ধ রেখেছেন, তাই আপনার হাতে এখন প্রচুর ফ্রি টাইম রয়েছে এবং আপনি টাইম পাস করছেন। গত ৪ তারিখ তো নৌকো থেকেই সটান নিচে পড়ে গিয়েছেন, তাই আর নতুন করে সংবাদমাধ্যমে ফুটেজ খোঁজার চেষ্টা করবেন না, বোন।’’ রাজনৈতিক মহলের মতে, টলিপাড়ার এই দুই চেনা মুখের প্রকাশ্য এই যুদ্ধ আদতে টলিউডের ভেতরে চলতে থাকা তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার ক্ষমতার লড়াইকেই সুপষ্টভাবে সামনে এনে দিয়েছে। বিগত দিনে টলিউডের ওপর যে একচ্ছত্র রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখার অভিযোগ উঠত, ক্ষমতার পালাবদলের পর তা যে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং শিল্পীদের একাংশ যে এখন বুক ঠুকে প্রতিবাদ করছেন, জীতু কমলের এই বিস্ফোরক পোস্ট তারই অকাট্য প্রমাণ।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper