AB Live News
ভাতে-মাছে বিজেপি: অন্ধ্র নয়, বাঙালির পাতে এবার ঘরের মাছ
ভোট মিটেছে, ফল মিলেছে, মহাকরণের সিংহাসনে এখন আসীন পদ্ম শিবির। কিন্তু নির্বাচনী লড়াইয়ের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে ‘মাছ-মাংস বন্ধের’ জুজু দেখানো হয়েছিল, তার পাল্টা জবাব দিতে এবার সরাসরি রান্নার হাঁড়িতে হানা দিল বিজেপি। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম রবিবারটিকেই ‘মাছ-রাজনীতি’র মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিল গেরুয়া শিবির। আমহার্স্ট স্ট্রিটে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য ‘মাছ উৎসবে’ শামিল হয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতা তথা নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “অন্ধ্র নয়, এবার থেকে বাঙালিকে বাংলার মাছ খাওয়াবে বিজেপি।” এই উৎসবের মাধ্যমে একদিকে যেমন তৃণমূলের প্রচারকে ‘মিথ্যাচার’ বলে দেগে দেওয়া হলো, তেমনই অন্যদিকে বাংলার মৎস্য চাষীদের স্বনির্ভর করার এক বড়সড় প্রশাসনিক ইঙ্গিতও দিয়ে রাখল নতুন সরকার।
শনিবারই ব্রিগেডের বিশাল মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। শপথ গ্রহণের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রবিবার সকালে আমহার্স্ট স্ট্রিটের বিজেপি কর্মীদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজির হন তিনি। পাতের ওপর সাজানো ধোঁয়া ওঠা ভাতের সাথে বড় এক টুকরো মাছ—এই চেনা দৃশ্যটিকেই এদিন প্রতিবাদের ভাষায় রূপান্তর করেন দিলীপবাবু। তাঁর অভিযোগ, বিগত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার বাংলাকে মাছে স্বনির্ভর করার পরিবর্তে অন্ধ্রপ্রদেশের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন মিথ্যা কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছিলেন বিজেপি এলে নাকি বাঙালির পাত থেকে মাছ-মাংস কেড়ে নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখুন, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম রবিবারেই বিজেপি কর্মীরা মানুষকে পেট ভরে মাছ-ভাত খাওয়াচ্ছে। আমরা মুখে কথা বলায় বিশ্বাসী নই, আমরা কাজে করে দেখাতে চাই। আগামী দিনে যাতে বাংলার বাজার বাংলার মাছেই ভরে ওঠে, সেই ব্যবস্থা করবে আমাদের সরকার।”
দিলীপ ঘোষের সুরেই এদিন সুর মেলালেন মানিকতলার সদ্যবিজয়ী বিজেপি প্রার্থী তথা হবু বিধায়ক তাপস রায়। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের এই প্রাক্তন সেনাপতি এখন গেরুয়া শিবিরের অন্যতম ভরসা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বাঙালির মাছ-ভাত তো মমতাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এতদিন তৃণমূলের একদল তোলাবাজ সব খেয়ে ফেলত, আর সাধারণ মানুষ তাকিয়ে দেখত। বিজেপি শাসিত অন্য রাজ্যগুলো থেকে মাছ আসে বলেই এখনও বাঙালিরা মাছ-ডিম খেতে পায়, নয়তো এ রাজ্যে সেইটুকু সংস্থানও ছিল না।” তাপস রায়ের দাবি, তৃণমূলের প্রচার ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এখন থেকে মাছ যাতে আর কেবল বড়লোকদের বিলাসব্যসন না থাকে, বরং প্রতিটি সাধারণ মানুষের পাতে পৌঁছয়, সেই প্রশাসনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন খাস কলকাতার রাস্তায় মাছ হাতে বিজেপি প্রার্থীদের জনসংযোগ একসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছিল। কিন্তু রবিবারের এই আয়োজন প্রমাণ করল, সেই রণকৌশল কেবল ভোটের বাক্সের জন্য ছিল না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি এই উৎসবের মাধ্যমে বাঙালির ‘সাংস্কৃতিক অস্মিতা’র স্নায়ুকেন্দ্রে আঘাত করতে চাইছে। তৃণমূল যে ‘বিজেপি মানেই নিরামিষাশী বহিরাগত’ তকমা সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, এদিন আমহার্স্ট স্ট্রিটের মাছের ঝোল-ভাতের গন্ধে তা ধুয়ে মুছে সাফ করতে চাইলেন দিলীপ-তাপস জুটি। বিরোধী শিবির যখন হারের ময়নাতদন্তে ব্যস্ত, তখন বাংলার নতুন সরকার ‘মাছ-ভাত’ খাইয়ে বাঙালির মন জয় করার এই অভিনব কৌশলে অনেকটাই এগিয়ে গেল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। দিনশেষে দিলীপ ঘোষের হুঙ্কার— “বাঙালি তার নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচবে, আর সেই সংস্কৃতিতে পাত পেড়ে মাছ খাওয়াটাই আসল।” এই উৎসব কি কেবল উৎসব, নাকি আগামীর কোনো বড় মৎস্য-বিপ্লবের আগাম ঘোষণা, এখন সেটাই দেখার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

