Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

জ্বালানি সাশ্রয়ে দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা

0 69,865,362

 বিশ্ব রাজনীতির রণক্ষেত্রে ঘনঘটা আর পশ্চিম এশিয়ার আকাশ জুড়ে যুদ্ধের বারুদ—এই ত্র্যহস্পর্শ যোগে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি দেশবাসীকে ‘সংযমী’ হওয়ার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পেট্রল, ডিজেল থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অমূল্য এই খনিজ সম্পদের অপচয় রোধকে ‘জাতীয় কর্তব্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। রবিবার তেলঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদে প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই জরুরি বার্তা কার্যত স্পষ্ট করে দিল যে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে ভারতীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করতে অভ্যন্তরীণ সাশ্রয়ই এখন শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ।

এদিন হায়দরাবাদের সরকারি মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিও। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সরিয়ে উন্নয়নের স্বার্থে দুই নেতাকই একই মঞ্চে দেখা গেলেও, মোদীর ভাষণের সিংহভাগ জুড়ে ছিল বিশ্বজনীন সঙ্কট এবং ভারতের করণীয়। ভার্চুয়ালি একাধিক প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হলেও আমাদের এক বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা আজও পেট্রোপণ্যের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। চাহিদার সিংহভাগই আমাদের আমদানি করতে হয়। তাই বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে পেট্রল, ডিজেল বা গ্যাসের মতো পণ্য আমাদের অত্যন্ত বুঝে ব্যবহার করতে হবে। যা আমরা আমদানি করি, তার ব্যবহার প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত রাখতে হবে। এতে একদিকে যেমন মূল্যবান বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় হবে, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া বিশ্বজনীন সঙ্কটের বিরূপ প্রভাবও ভারতের ওপর কম পড়বে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তার নেপথ্যে রয়েছে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা। জলপথে পণ্য পরিবহণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে বিশ্ববাজারে খনিজ তেলের জোগান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এমন অবস্থায় ভারত যদি নিজের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ না আনে, তবে আন্তর্জাতিক অগ্নিমূল্যের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়বে। মোদী মনে করিয়ে দেন, জ্বালানির অপচয় মানে কেবল ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে টান ধরায়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের বদলে গণপরিবহণকে প্রাধান্য দেওয়া বা অকারণে জ্বালানি নষ্ট না করার মাধ্যমে দেশবাসী পরোক্ষভাবে দেশের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তবে কেবল সতর্কবার্তাই নয়, জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত যে দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প পথের দিকে হাঁটছে, সেই রূপরেখাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, গত কয়েক বছরে ভারত সৌরশক্তির উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। পেট্রলের সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের উদ্যোগে ভারত যে সাফল্য পেয়েছে, তাতে খনিজ তেলের ওপর বিদেশের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমেছে। মোদী বলেন, “আমরা কেবল বিদেশের মুখাপেক্ষী হয়ে বসে নেই। একদিকে আমরা বিকল্প জ্বালানির পথে হাঁটছি, অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের ঝক্কি কমাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহে (PNG) জোর দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো ভারতকে জ্বালানির ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর করে তোলা।”

রবিবাসরীয় হায়দরাবাদের এই মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ‘সংযম’ পালনের এই আর্জি আদতে এক কঠিন সময়ের আগাম সতর্কবার্তা। বিরোধী দল শাসিত রাজ্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে মোদীর এই ভাষণ বুঝিয়ে দিল, জাতীয় স্বার্থে এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কট মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে এখন সৈনিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। সরকারের বহুমুখী বিকল্প জ্বালানি নীতি আর সাধারণ মানুষের পরিমিত ব্যবহার—এই দুইয়ের সমন্বয়েই ভারত বিশ্ববাজারের এই মহাপ্রলয়কে রুখে দিতে পারবে বলে আশাপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। রবিবারের এই ঘোষণা আগামী দিনে দেশের জ্বালানি ব্যবহারে এক নতুন অভ্যাসের জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আকাশছোঁয়া জ্বালানির বাজারে প্রধানমন্ত্রীর এই সাশ্রয় নীতি শেষ পর্যন্ত ভারতকে কতটা স্বস্তি দেয়, এখন সেটাই দেখার।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper