AB Live News
চিপকে উর্ভিল-ঝড়, প্লে-অফের পথে চেন্নাই
লখনউ সুপার জায়ান্টস: ২০৩/৮ (ইংলিশ ৮৫, শাহবাজ ৪৫*, ওভার্টন ৩৬/৩)
চেন্নাই সুপার কিংস: ২০৮/৫ (উর্ভিল ৬৫, রুতুরাজ ৪২, শাহবাজ ৩০/২)
৫ উইকেটে জয়ী চেন্নাই সুপার কিংস।
আইপিএল ২০২৬-এর ভাগ্যাকাশে হলুদ আভার পুনরুত্থান। মরসুমের শুরুতে ধোনি-হীন চেন্নাই যখন টানা তিন ম্যাচে হেরে ধুঁকছিল, তখন অতি বড় সিএসকে সমর্থকও হয়তো ভাবেননি যে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দল এভাবে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটাবে। শনিবার ঘরের মাঠ চিপকে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৫ উইকেটে ধুলোয় মিশিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করল চেন্নাই সুপার কিংস। আর এই রূপকথার জয়ের মহানায়ক হয়ে থাকলেন উর্ভিল প্যাটেল। তাঁর ১৩ বলের বিধ্বংসী হাফসেঞ্চুরি কেবল লখনউয়ের প্লে-অফের স্বপ্ন চুরমার করে দিল না, বরং লিগ টেবিলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ওপর পাহাড়প্রমাণ চাপ সৃষ্টি করল। ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে এসে প্লে-অফের দৌড় জমিয়ে দিল সঞ্জু স্যামসন-রুতুরাজদের দল।
চিপকের মন্থর উইকেটে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন সিএসকে অধিনায়ক রুতুরাজ। লখনউয়ের হয়ে ইনিংসের শুরুটা ঝোড়ো মেজাজে করেছিলেন অজি তারকা জস ইংলিশ। লখনউ শিবিরে শুরুতে ব্রাত্য থাকলেও এদিন ৩৩ বলে ৮৫ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন তাঁর জাত। ১০টি চার ও ৬টি ছক্কায় সাজানো তাঁর এই ইনিংসে ভর করেই লখনউ বড় রানের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু ‘মাথা ভারী’ টপ অর্ডারে আর কেউ যোগ্য সঙ্গত দিতে পারলেন না। মিচেল মার্শ (১০), নিকোলাস পুরান (১) কিংবা আইডেন মার্করাম (৬)—সকলের ব্যর্থতা লখনউকে চাপে ফেলে দেয়। অধিনায়ক ঋষভ পন্থের ব্যাটেও রান নেই, মাত্র ১৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। তবে শেষ বেলায় বাংলার অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদের ২৫ বলে অপরাজিত ৪৫ রানের লড়াকু ইনিংস লখনউকে ২০০-র গণ্ডি পার করতে সাহায্য করে। লখনউয়ের স্কোর দাঁড়ায় ২০৩/৮। চেন্নাইয়ের হয়ে জ্যামি ওভার্টন ৩৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন।
২০৪ রানের পাহাড় প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চেন্নাইকে শক্ত ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৪২) ও সঞ্জু স্যামসন (২৮)। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন তিন নম্বরে নামা উর্ভিল প্যাটেল। ক্রিকেট বিশ্ব এদিন চিপকে চাক্ষুষ করল এক অতিমানবিক ব্যাটিং প্রদর্শনী। নিজের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে স্টেডিয়ামে উত্তেজনার পারদ চরমে তুলে দেন তিনি। মাত্র ১৩ বলে হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করে আইপিএলের ইতিহাসের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডে ভাগ বসালেন উর্ভিল। ২৩ বলে ৬৫ রানের সেই মহাপ্রলয় যখন থামল, তখন জয়ের গন্ধ পেয়ে গিয়েছে চেন্নাই। যদিও শাহবাজ আহমেদ বল হাতে ফের লখনউকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ফিল্ডারদের ব্যর্থতা সব চেষ্টায় জল ঢেলে দেয়। প্রশান্ত বীরের হাতে আসা দুটি সহজ ক্যাচ ফসকাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় লখনউ।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য যখন স্নায়ুর লড়াই তুঙ্গে, তখন বোলিং করতে আসেন আইডেন মার্করাম। কিন্তু পর পর দুটি ওয়াইড আর শিবম দুবের টানা দুটি বিশাল ছক্কা চেন্নাইয়ের জয় নিশ্চিত করে দেয়। ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে প্লে-অফের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করার পথে সিএসকে। অন্যদিকে, ১০ ম্যাচে মাত্র ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের তলানিতে থাকা ঋষভ পন্থের লখনউয়ের বিদায় কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল। চেন্নাইয়ের এই জয়ে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ে গেল অজিঙ্ক রাহানের কেকেআর। ১০ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে চারে থাকা নাইটদের ঘাড়ের ওপর এখন নিশ্বাস ফেলছে হলুদ বাহিনী। আগামী ম্যাচগুলোতে কেকেআরের জন্য এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না রুতুরাজ ব্রিগেড, এমনটাই স্পষ্ট হয়ে গেল চিপকের এই ‘উর্ভিল-তাণ্ডবে’। দিনে শেষে চিপকের গ্যালারি জুড়ে ধোনি-হীন দলের এই কামব্যাকে একটাই স্লোগান প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল— “হুইসেল পোডু”।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

