AB Live News
নবান্নে শুভেন্দু-যুগ: শুরুতেই কলকাতা পুলিশে বড়সড় ‘অপারেশন’, ৯৩ জন অফিসারকে উত্তরবঙ্গে বদলি
শপথ গ্রহণের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই নবান্নে নিজের দাপট বুঝিয়ে দিলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক সংস্কারের যে ইঙ্গিত তিনি ভোটের প্রচারে দিয়েছিলেন, রবিবার সকালেই তার প্রতিফলন দেখা গেল। এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার মোট ৯৩ জন অফিসারকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এই তালিকায় যেমন রয়েছেন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক, তেমনই রয়েছেন ইনস্পেক্টর, সাব-ইনস্পেক্টর এবং বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জরাও। লালবাজারের অন্দরে এই মেগা রদবদল নিয়ে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ মহলের খবর, এই ৯৩ জন অফিসারের প্রায় সকলেই পূর্বতন শাসকদলের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের অনেকেই পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতেই এই বড়সড় ‘অ্যাকশন’ নিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, বদলি হওয়া এই অফিসারদের সিংহভাগকেই কলকাতার মায়া কাটিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে সুদূর উত্তরবঙ্গে। কোচবিহার, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলিতে তাঁদের দ্রুত যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তালিকায় থাকা বাকি অফিসারদের সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা এবং জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া জেলায় বদলি করা হয়েছে। পুলিশের একাংশের মতে, শহর কলকাতায় দীর্ঘদিন ধরে যে অফিসাররা নিজেদের ‘প্রভাবশালী’ বলয় তৈরি করেছিলেন, তাঁদের এক লহমায় জেলাগুলিতে পাঠিয়ে দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হল যে, নতুন সরকারে কাজের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক পক্ষপাত বরদাস্ত করা হবে না। রবিবার ছুটির মেজাজে থাকলেও এই গণবদলির খবর চাউর হতেই লালবাজারের অন্দরে শোরগোল পড়ে যায়।
তবে পুলিশের এই রদবদল কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। সোমবার দিনভর নবান্নে ম্যারাথন বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের সমস্ত দপ্তরের সচিবদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসবেন তিনি। সেখানে প্রতিটি দপ্তরের কাজের খতিয়ান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা খতিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর দুপুর দেড়টায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে একটি আলাদা বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। তবে বিকেলের কর্মসূচি ঘিরে সবথেকে বেশি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিকেল ৪টে নাগাদ রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের ভার্চুয়ালি বৈঠকে তলব করেছেন শুভেন্দু। ঠিক এক ঘণ্টা পর বিকেল ৫টায় বসবেন রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কমিশনার পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে। নতুন সরকারের আমলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী দাওয়াই দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই তিনি গত এক দশকের প্রশাসনিক জড়তা কাটানোর ডাক দিয়েছিলেন। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলেছেন তিনি। সূত্রের খবর, সোমবারের বৈঠকেই রাজ্যের নতুন আইনশৃঙ্খলা নীতি এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের রোডম্যাপ চূড়ান্ত হতে পারে। আগামী শুক্রবার নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার আগেই পুলিশ প্রশাসনে এই বড় মাপের রদবদল বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, শুভেন্দু অধিকারী কেবল মুখ্যমন্ত্রীর চেম্বারে বসে থাকার মানুষ নন, বরং তিনি মাঠের রাজনীতি এবং প্রশাসনের রাশ সমান্তরালভাবে টেনে ধরতে চান। কলকাতার প্রভাবশালী পুলিশ কর্তাদের উত্তরবঙ্গে বা জঙ্গলমহলে পাঠিয়ে দেওয়ার এই ‘দাওয়াই’ নতুন জমানার প্রশাসনিক শুরুর এক শক্তপোক্ত ট্রেলার বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল। এখন দেখার, সোমবারের নবান্ন সভাঘরের বৈঠক থেকে জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তাদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী নতুন কী টাস্ক দেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

