AB Live News
ভারতের অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে এবার শ্রেয়স!
এবারের আইপিএলে দুরন্ত ফর্মে রয়েছে পঞ্জাব কিংস। এখনও পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল তারা। ছক্কা মারার প্রতিযোগিতা চলছে পঞ্জাব কিংসের ব্যাটারদের মধ্যে। তার নেপথ্যে রয়েছে অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের এক চ্যালেঞ্জ। লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে সেই গোপন কথা ফাঁস করেছেন শ্রেয়স। শুধু ছক্কা হাঁকানো নয়, ভালো নেতৃত্বও দিচ্ছেন শ্রেয়স। ছ’ম্যাচ খেলে পাঁচটি জিতেছে পঞ্জাব। একটি ম্যাচ ভেস্তে গিয়েছে। খেলা হলে হয়তো সেটিও জিতত তারা। পয়েন্ট তালিকায় সকলের উপরে পঞ্জাব। আইপিএলে ভালো নেতৃত্ব দেওয়ায় নজরে শ্রেয়স। এবার ভারতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে তিনি।
তবে ম্যাচ জিততে ভুল না করলেও, ম্যাচ শেষে অন্য একটি ভুল করেছেন তিনি। বোলিং পরিবর্তন থেকে শুরু করে পরিকল্পনা, সব কিছুই ঠিক মতো মনে রয়েছে। শুধু ভুলে গেলেন জুতো পরতে! শ্রেয়সকে কি রোহিত শর্মার রোগে ধরেছে? লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে পুরস্কার মঞ্চে যাওয়ার সময় জুতো পরতেই ভুলে গেলেন পঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক। ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকে ধার নিতে হল জুতো।
এদিকে, ম্যাচ জিতে শ্রেয়স জানিয়েছেন, সতীর্থদের একটি চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন তিনি। পঞ্জাবের অধিনায়ক বলেন, ‘আমি কুপার ও প্রিয়াংশকে বিষয়টা বলেছি। ওদের বলেছি, চলো প্রতিযোগিতা করি। এবারের আইপিএলে কে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারতে পারে? যে জিতবে তাকে আমার ব্যাট উপহার দেব। দেখে ভালো লাগছে, সকলে খুব লড়াই করছে।’
আইপিএলের প্রথম ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের বিরুদ্ধে ১৪টি ছক্কা মেরেছিল পঞ্জাব। তারপর চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ৯, সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ১৬ ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৯টি ছক্কা মেরেছে তারা। রবিবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ২১টি ছক্কা মেরেছেন পঞ্জাবের ব্যাটাররা। প্রিয়াংশ আর্য ৯ ও কুপার কোনোলি ৭টি ছক্কা মেরেছেন। ছক্কা মারার প্রতিযোগিতায় আপাতত এগিয়ে প্রিয়াংশ। এখনও পর্যন্ত ২০টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। কোনোলি ও শ্রেয়স মেরেছেন ১৪টি করে ছক্কা। প্রভসিমরন সিংয়ের ব্যাট থেকে এসেছে ১১টি ছক্কা।
লখনউয়ের বিরুদ্ধে ৮০ বলে ১৮২ রানের জুটি গড়েছেন প্রিয়াংশ ও কোনোলি। সেই জুটিই দলকে জিতিয়েছে। শ্রেয়স জানিয়েছেন, তাঁর মন্ত্র হল ক্রিকেটারদের নিজের মতো খেলতে দেওয়া। পঞ্জাবের অধিনায়ক বলেন, ‘আমার মতে, ব্যাটারদের মাঠে নেমে নিজের মতো খেলতে দেওয়া উচিত। ওটাই আমার মন্ত্র। ওদের নিজস্ব পরিকল্পনা আছে। প্রস্তুতি আছে। তাহলে আমি বেশি কথা কেন বলব। খেলার আগে আমি আর পন্টিং কিছু কথা বলি। কিন্তু সেগুলো খুবই সাধারণ কথা। বাকিটা ওরা মাঠে নেমে করে।’
ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিতেছে পঞ্জাব। একটি খেলা ভেস্তে গিয়েছে। ১১ পয়েন্ট নিয়ে সকলের উপরে তারা। আর তিনটি ম্যাচ জিতলেই প্লে-অফ প্রায় পাকা করে ফেলবেন শ্রেয়সরা। তবে শুধু তিন ম্যাচ নয়, গ্রুপের বাকি সব ম্যাচ জেতার লক্ষ্যে খেলছে পঞ্জাব।
অন্যদিকে, আইপিএলে ভালো নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এবার ভারতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিনি। এমনিতেই ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব চাপে রয়েছেন। ব্যাট হাতে ফর্মে নেই তিনি। ফলে তাঁকে সরিয়ে বোর্ড টি-টোয়েন্টিতে নতুন অধিনায়ক ঘোষণা করতে পারে। সেই দৌড়ে শ্রেয়স রয়েছেন। তবে যদি সূর্যকে না সরানো হয়, তারপরেও শ্রেয়স ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হতে পারেন।
নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি পরিকল্পনা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয় বোর্ড চাইছে ৩০-৩৫ জন ক্রিকেটার তৈরি রাখতে। চলতি বছর একসঙ্গে একাধিক প্রতিযোগিতা রয়েছে। যেমন চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ। সেখানে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলবে ভারত। আবার সেই সময়ই রয়েছে এশিয়ান গেমস। সেখানেও ক্রিকেট রয়েছে। ফলে একই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ ও এশিয়ান গেমসে দু’টি পৃথক ভারতীয় দলকে খেলতে দেখা যাবে।
সে ক্ষেত্রে দু’টি দলের দুই অধিনায়ক প্রয়োজন। একটি দলের অধিনায়ক হতে পারেন শ্রেয়স। আবার ২০২৮ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রয়েছে। আবার সেই বছরই অলিম্পিক রয়েছে। সেবার অলিম্পিকে ক্রিকেট রয়েছে। ফলে দু’টি সিরিজে খেলানোর মতো ক্রিকেটার তৈরি রাখতে হবে। সেখানেও শ্রেয়স একটি দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন।
শ্রেয়স ছাড়াও বোর্ডের নজরে কয়েকজন ক্রিকেটার রয়েছেন। তাঁদের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। সেই তালিকায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের তিন ক্রিকেটার রয়েছেন। এবার আইপিএলে কেকেআর খারাপ খেললেও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী, অনুকূল রায় ও কার্তিক ত্যাগী নজর কেড়েছেন। ফলে তাঁরা ভারতীয় দলে জায়গা পেতে পারেন। আইপিএলের পর আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা রয়েছে ভারতের। সেই সব ম্যাচে এই ক্রিকেটারদের খেলানো হতে পারে। এশিয়ান গেমসের আগে তাঁদের তৈরি করতে চাইছে বোর্ড।
এদিকে, ম্যাচ শেষ হতেই জুতো না পরেই পুরস্কার মঞ্চে চান শ্রেয়স। তাঁর সেই ভিডিয়ো এখন ভাইরাল। সেখানে দেখা যাচ্ছে, লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে পুরস্কার মঞ্চের দিকে এগোচ্ছেন শ্রেয়স। তাঁর পায়ে তখন স্লিপার। হঠাৎই তাঁর সঙ্গে থাকা পঞ্জাবের এর সাপোর্ট স্টাফ শ্রেয়সকে সে কথা মনে করিয়ে দেন। পায়ে জুতো নেই দেখে থমকে যান শ্রেয়স। তখন আর সাজঘরে ফিরে গিয়ে জুতো পরার সময় ছিল না।
কিছুক্ষণ চার দিকে তাকান তিনি। তখনই হয়তো পরিচিত কোনও ক্যামেরাম্যানকে শ্রেয়স দেখতে পান। তাঁকে কিছু একটা বলেন। তারপরেই দেখা যায়, সেই ক্যামেরাম্যান নিজের জুতো খুলে রাখছেন। শ্রেয়স নিজের স্লিপার খুলে রেখে সেই জুতো পরেন। তাতে বোঝা যায়, ক্যামেরাম্যানের কাছ থেকে জুতো ধার নেন তিনি। সেই জুতো পরে পুরস্কার মঞ্চে ওঠেন শ্রেয়স।
এই ঘটনার ভিডিয়ো দেখে সকলে মজার মন্তব্য করেছেন। কেউ জানিয়েছেন, জয়ের আনন্দে জুতো পরতে ভুলে গিয়েছিলেন শ্রেয়স। আবার কেউ কেউ বলেন, রোহিতের রোগে ধরেছে তাঁকে। রোহিত যেমন ফোন, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে বিমানের টিকিটও ভুলে যান, তেমনই শ্রেয়স জুতো পরতে ভুলে গিয়েছেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

