AB Live News
R.COM কাণ্ডে সিবিআইয়ের জালে দুই শীর্ষকর্ত
কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যাংক জালিয়াতি মামলায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। রিলায়েন্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড বা ‘আরকম’ (RCom)-এর দুই শীর্ষস্থানীয় পদাধিকারীকে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সোমবার জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন সংস্থার জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট ডি বিশ্বনাথ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিল কাল্য। স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই)-এর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির তদন্তে নেমে এই দুই প্রভাবশালী কর্তাকে জালে আনা হয়েছে। এই গ্রেফতারির ফলে সংস্থার প্রাক্তন ডিরেক্টর অনিল আম্বানির অস্বস্তি আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ধৃত এই দুই আধিকারিক আরকম গ্রুপের কর্পোরেট ফিন্যান্স, ব্যাংকিং অপারেশন এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়ের দেখভাল করতেন। সিবিআইয়ের অভিযোগ, ডি বিশ্বনাথ এবং অনিল কাল্য অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণের টাকা তছরুপ করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, আরকম লিমিটেড তাদের নিজস্ব আধিকারিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একাধিক ‘শেল’ বা ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে জটিল আর্থিক লেনদেন চালিয়েছে। এমনকি, গ্রুপ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সম্পূর্ণ ভুয়ো পরিষেবা সংক্রান্ত লেনদেনের অজুহাতে ‘লেটার অফ ক্রেডিট’ (LC) ডিসকাউন্ট করিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তোলা হয়েছে। পরবর্তীকালে সেই এলসি-র দায়ভার ব্যাংকগুলোর ওপর এসে পড়ায় বিপুল আর্থিক লোকসান হয়। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ডি বিশ্বনাথ পুরো ব্যাংকিং অপারেশনটির ইন-চার্জ ছিলেন এবং তাঁর নির্দেশেই তহবিলের অপব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, অনিল কাল্য তাঁকে এই জালিয়াতির প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সহায়তা করেছেন।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আরকম, অনিল আম্বানি এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। এসবিআই-এর দাখিল করা সেই অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল, মোট ১৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১৯,৬৯৪.৩৩ কোটি টাকার অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন জানা যায়, কেবল স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ারই এককভাবে প্রায় ২,৯২৯.০৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে একটি ফরেনসিক অডিটর রিপোর্ট পেশ হওয়ার পর এই বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আসে। ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সময়কালের অডিট রিপোর্টে দেখা যায়, নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণের টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এরপর ২০২০ সালের নভেম্বরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টটিকে ‘ফ্রড’ বা জালিয়াতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সিবিআইয়ের দাবি, আরকমের এই দুই শীর্ষকর্তা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখতেন যাতে সহজে ঋণ মঞ্জুর এবং বিতরণ করা যায়। ঋণের টাকা হাতে আসার পরেই তা অন্য খাতে ঘুরিয়ে দেওয়া হত। প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ধৃতরা জেনেশুনেই ব্যাংকিং ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ব্যবহার করে সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন। সোমবার তাঁদের গ্রেফতার করার পর বিশদ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিবিআই। এই বিশাল মাপের জালিয়াতির নেপথ্যে আর কোনও রাঘববোয়াল বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। ভোটের আগে বা পরে কর্পোরেট দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই কঠোর পদক্ষেপ ঘিরে শিল্পমহলে শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন। আরকমের মতো বড় সংস্থায় এই ধরপাকড় ভবিষ্যতে ব্যাংক জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

