Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

ব্যর্থ এনআইএ! ৯০ দিনেও নেই চার্জশিট, বেলডাঙাকাণ্ডে শর্তসাপেক্ষে জামিন ১৫ অভিযুক্তের

0 4,987,167,472

 তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অশান্তির ঘটনায় ধৃত ৩৫ জনের মধ্যে ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। শনিবার আদালতের এই রায়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার পেশাদারিত্ব নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠল, তেমনই স্বস্তি ফিরল অভিযুক্তদের পরিবারে। বিচারক স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ৯০ দিন সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত চার্জশিট বা তদন্তের সন্তোষজনক রিপোর্ট পেশ করতে পারেনি এনআইএ।

জামিন দিলেও অভিযুক্তদের গতিবিধির ওপর কঠোর শিকল পরিয়েছে আদালত। বিচারকের নির্দেশ অনুযায়ী, ১০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে ১৫ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। জামিন পাওয়া ব্যক্তিরা আপাতত কলকাতা পুরসভা এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। মামলার প্রতিটি শুনানিতে সশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযুক্তদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখবে প্রশাসন।

আদালত সূত্রে খবর, অতীতে অভিযুক্তদের বেলডাঙা থেকে কলকাতায় আনতে নিরাপত্তা ও পরিবহন সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই জটিলতা এড়াতে এবং তদন্তের স্বার্থে তাঁদের আপাতত কলকাতাতেই থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত জানুয়ারি মাসে বেলডাঙার রণক্ষেত্র পরিস্থিতির পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার ভার নেয় এনআইএ। আইন অনুযায়ী, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, নতুবা অভিযুক্তরা ‘ডিফল্ট বেল’ বা স্বাভাবিক জামিনের আবেদন করতে পারেন। শনিবার শুনানির সময় এনআইএ-র আইনজীবী তদন্তের অগ্রগতির সপক্ষে জোরালো কোনও প্রমাণ বা কেস ডায়েরির নির্যাস দিতে পারেননি। এমনকি চার্জশিট জমা না পড়ার কোনও সদুত্তরও ছিল না সংস্থার কাছে। এর পরেই বিচারক ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে বাকি ২০ জন অভিযুক্ত এখনও জেল হেফাজতেই থাকছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ জানুয়ারি। ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের রহস্যমৃত্যু হয়। তাঁর নিথর দেহ গ্রামে পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় মানুষ। ভিনরাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুরু হয় পথ অবরোধ। দ্রুত সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক রূপ নেয়। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেললাইনে ভাঙচুর, সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা এবং পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে রাজ্য পুলিশ দফায় দফায় ধরপাকড় শুরু করলেও পরবর্তীকালে জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়।

তদন্তের শুরু থেকেই রাজ্য সরকার ও এনআইএ-র মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়েছে। এনআইএ বারবার অভিযোগ করেছে যে, রাজ্য পুলিশ সময়মতো তাদের কেস ডায়েরি হস্তান্তর করেনি। অন্যদিকে, জেল কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব দেখিয়ে অভিযুক্তদের আদালতে পেশ করতে টালবাহানা করেছে। এক পর্যায়ে এনআইএ নিজেই নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলে ফেব্রুয়ারি মাসে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানো হয়।

বিশেষ আদালতের এই রায়ে এনআইএ যে বেশ অস্বস্তিতে, তা স্পষ্ট। সংস্থার আইনজীবী শ্যামল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমরা এই জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দ্রুত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছি।” তাঁদের দাবি, তদন্ত এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং এই অবস্থায় অভিযুক্তরা বাইরে থাকলে সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper