Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

আরজি কর কাণ্ডে নয়া মোড়: তদন্তের জাল আরও চওড়া, যে কাউকে জেরার ‘ফ্রি হ্যান্ড’ পেল সিবিআই

0 6,398,763,497

 আরজি কর হাসপাতালের সেই অভিশপ্ত রাতের রহস্য কি তবে এবার সম্পূর্ণ উন্মোচিত হতে চলেছে? মূল অভিযুক্তের সাজা ঘোষণার পর যখন মনে করা হচ্ছিল তদন্তের যবনিকা বুঝি পড়ল, ঠিক তখনই কলকাতা হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক নির্দেশ এই মামলাকে এক নতুন মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিল। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, তদন্তের স্বার্থে সিবিআই এখন থেকে যে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তলব বা জেরা করতে পারবে। এমনকি, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মূল অভিযুক্তকেও সংশোধনাগারে গিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।

শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সত্য উদ্ঘাটনের পথে কোনও প্রযুক্তিগত বাধা থাকা উচিত নয়। সিবিআই যদি মনে করে যে ঘটনার নেপথ্যে আরও বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কিংবা চার্জশিটের বাইরেও এমন কেউ আছেন যাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, তবে কেন্দ্রীয় সংস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ করতে পারবে। আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে সিবিআই-এর হাতে এখন ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ বা নিরঙ্কুশ ক্ষমতা এল, যা তদন্তের পরিধিকে হাসপাতালের প্রশাসনিক স্তর থেকে রাজনৈতিক স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত করতে পারে।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি শিয়ালদহ আদালত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে ‘একমাত্র দোষী’ সাব্যস্ত করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু শুরু থেকেই নির্যাতিতার পরিবার এবং আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের দাবি ছিল—সঞ্জয় কেবলই একটি দাবার ঘুঁটি; আসল ‘মাথা’রা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাইকোর্টের নতুন নির্দেশে সিবিআই এখন জেলে গিয়ে সঞ্জয়কে আবার জেরা করতে পারবে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ধারণা, সাজা হওয়ার পর এখন চাপের মুখে সঞ্জয় হয়তো নতুন কোনও নাম বা চক্রান্তের কথা ফাঁস করতে পারে।

২০২৪ সালের ৯ আগস্টের সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই সুবিচারের দাবিতে সরব নির্যাতিতার পরিবার। শিয়ালদহ আদালতের রায়ে তাঁরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁদের বারবার অভিযোগ ছিল, ঘটনার তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের দিকটি তদন্তে অবহেলিত থেকে গেছে। এই মর্মে তাঁরা পুনরায় তদন্তের আর্জি জানিয়ে প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট এবং পরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত বলে জানানোর পর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এর শুনানি শুরু হয়। শনিবারের এই নির্দেশ নির্যাতিতার পরিবারের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

হাইকোর্টের এই ‘ছাড়পত্র’ পাওয়ার পর সিবিআই আধিকারিকদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, সিবিআই-এর নজরে রয়েছে হাসপাতালের তৎকালীন প্রভাবশালী আধিকারিকরা, ঘটনার রাতে এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় যাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল।সেমিনার রুমের সংস্কার এবং দ্রুত ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

সম্প্রতি সামনে আসা কিছু ডিজিটাল তথ্য ও কল রেকর্ডস-এর ভিত্তিতে কয়েকজনকে ফের তলব করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সিবিআই যদি নতুন করে জেরা করে কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা নতুন কারও নাম পায়, তবে তাঁরা একটি ‘সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট’ বা অতিরিক্ত অভিযোগপত্র জমা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে মামলার শুনানি আবার নতুন মাত্রা পাবে। ৯ আগস্টের সেই কালো রাতের অন্ধকার ফুঁড়ে নতুন কোনও রাঘববোয়াল জালে পড়ে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

হাইকোর্টের এক প্রবীণ আইনজীবী বলেন, “তদন্ত কখনও থেমে থাকে না। যদি মনে হয় অপরাধের শেকড় আরও গভীরে, তবে সেই শেকড় উপড়ে ফেলাই আইনের কাজ। সিবিআইয়ের সামনে এখন আর কোনও দেওয়াল নেই।”

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper