AB Live News
বিজেপি জেনে রেখো, বাংলা ভাগ করতে দেব না’
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মহারণ দোরগোড়ায়। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর ও বারুইপুরে চারটি ঝোড়ো জনসভা করে নির্বাচনী প্রচারের পারদ সপ্তমে চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া গেল মুখ্যমন্ত্রীকে। বিজেপিকে ‘ডাকাত’, ‘হার্মাদ’ এবং ‘ধোঁকাবাজ’ বলে তোপ দাগার পাশাপাশি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, প্রাণ থাকতে তিনি ‘বাংলা ভাগ’ করতে দেবেন না।
এদিন সোনারপুরে ফিরদৌসি বেগম ও লাভলি মৈত্রের সমর্থনে সভা শুরু করে মমতা আবেগঘন সুরে বলেন, “সোনারপুর আমার সোনার খনি। এটা তৃণমূলের কর্মভূমি, জন্মভূমি ও ধর্মভূমি।” এরপরই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, মহিলা সংরক্ষণ বিলের আড়ালে ডিলিমিটেশন করে আসলে বাংলা ভাগের চক্রান্ত করছে গেরুয়া শিবির। মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, “ওদের উদ্দেশ্য ছিল ডিলিমিটেশন করে দেশভাগ ও বাংলা ভাগ করা। আমরা তা হতে দেব না। মহিলা বিলের আড়ালে আসলে এনআরসি করে মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। আমরা জোট বেঁধে ওদের সেই চক্রান্ত ধরাশায়ী করেছি।”
সংসদীয় সমীকরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট দেখাচ্ছে, তা আদতে ঠুনকো। তাঁর কথায়, “ভোটের সময় আমাদের অনেক সাংসদ যেতে পারেননি। সেই সংখ্যাটা হিসেবে ধরলে দেখা যাবে ওদের পায়ের তলার মাটি নেই। সরকার টিমটিম করে জ্বলছে, যে কোনও দিন পড়ে যাবে।” বিজেপিকে ‘ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন’ ও ‘সুপার ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে মমতা প্রশ্ন তোলেন, প্রতিশ্রুতি মতো সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে কি ১৫ লক্ষ টাকা ঢুকেছে? বছরে ২ কোটি চাকরির কী হল?
সীমান্ত সমস্যা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুতেও এদিন কেন্দ্রকে পাল্টা বিঁধেছেন মমতা। তিনি বলেন, “বাংলায় কথা বললেই অনুপ্রবেশকারী বলা হয়। অথচ সীমান্ত, বিএসএফ এবং শুল্ক বিভাগ সবই তো কেন্দ্রের হাতে। তাহলে দায় কার?” বারুইপুরের সভায় বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিভাস সর্দারের সমর্থনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়েও সুর চড়ান। বলেন, “দিল্লি থেকে মোটা ভাই আসছে, সঙ্গে ইডি-সিবিআই-এনআইএ নিয়ে এসে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু আমরা ভয় পাওয়ার দল নই। আমরা ভোটের আগেই কাজ করে দেখাই।”
এদিনের সভাগুলিতে উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মমতা। কামালগাজি উড়ালপুল, মেট্রো রেলের সম্প্রসারণ ও গড়িয়া-নরেন্দ্রপুর এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি ভোটারদের জোড়া ফুলে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই ম্যারাথন প্রচারের মাধ্যমে ঘাসফুল শিবির যে ঘর গুছিয়ে শক্তি প্রদর্শন করল, তা বিরোধীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে বাধ্য।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

