AB Live News
হরমুজ অবরোধের নির্দেশ ট্রাম্পের, যুদ্ধের মুখে দুনিয়া
ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিচ্ছে পশ্চিম এশিয়া। পরমাণু অস্ত্র ইস্যুতে ইরানের একগুঁয়েমিকে কেন্দ্র করে রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নৌবাহিনী দিয়ে সম্পূর্ণ অবরোধ করার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
ভেস্তে গেল ইসলামাবাদের বৈঠক
দীর্ঘ ৪৭ বছর পর এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজিত হয়েছিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের মধ্যে চলা এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ইতিবাচক ভূমিকা নিলেও শেষরক্ষা হয়নি। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের পরমাণু কর্মসূচি থেকে একচুলও সরবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যান্স সাফ জানান, ওয়াশিংটন তাদের শেষ প্রস্তাব দিয়ে দিয়েছে, এখন বল তেহরানের কোর্টে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মেজাজ হারালেন ট্রাম্প
বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার খবর পেতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কড়া বার্তা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, “বিশ্বের সেরা মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক যাতায়াত বন্ধ করে দেবে। কোনো ইরানি যদি আমাদের নৌবাহিনী বা অন্য কোনো জাহাজে হামলা চালায়, তবে তাদের আকাশ থেকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।” ট্রাম্পের দাবি, ইরান আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও জলপথে মাইন বিছিয়ে রেখে বিশ্ববাণিজ্যকে ভয় দেখাচ্ছে।
জলসীমানায় পাল্টাপাল্টি সংঘাত
অবরোধের নির্দেশের মাঝেই গত শনিবার থেকে হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পেন্টাগন দাবি করেছে, মাইন সরানোর কাজ শুরু করতে গিয়ে তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ ইরানি বাধার মুখে পড়ে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের দাবি, মার্কিন রণতরী দুটি জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে ইরানি মিসাইল ও ড্রোন তাদের তাড়া করে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে মার্কিন জাহাজ দুটি পিছু হটতে বাধ্য হয় বলে দাবি তেহরানের।
বিশ্ব অর্থনীতিতে সিঁদুরে মেঘ
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারের জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। মার্কিন অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা হুমকির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একদিকে পরমাণু জেদ আর অন্যদিকে ট্রাম্পের সামরিক হুঁশিয়ারি— সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়া এখন আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে। শেষ পর্যন্ত কূটনীতি না কি পেশিশক্তি কার জয় হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

