AB Live News
অরুণাচল ভারতেরই, চিনা ‘নামকরণ’ ধোপে টিকবে না
সীমান্ত বিবাদে নয়া উস্কানি দিয়ে অরুণাচল প্রদেশের ২৩টি স্থানের নাম পরিবর্তন করার ধৃষ্টতা দেখাল বেজিং। তবে চিনের এই ‘কাল্পনিক’ এবং ‘ভিত্তিহীন’ দাবিকে নজিরবিহীন কড়া ভাষায় নসাৎ করে দিল ভারত। রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, নাম বদলে দিলেই ভৌগোলিক সত্য বা সার্বভৌমত্ব পাল্টে যায় না। অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং চিরকাল থাকবে।
চিনের নতুন উস্কানি
গত ১০ এপ্রিল চিনের নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রক অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন পাহাড়, গিরিপথ এবং জনবসতির একটি ‘স্ট্যান্ডার্ড’ তালিকা প্রকাশ করে। এই নিয়ে ষষ্ঠবার এমন তালিকা প্রকাশ করল শি জিনপিং প্রশাসন। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ‘মানচিত্র যুদ্ধ’ সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই নামকরণের রাজনীতি করছে বেজিং। গত বছর মে মাস এবং চলতি বছরের মার্চ মাসেও দফায় দফায় ৩০টির বেশি স্থানের নাম পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল তারা।
দিল্লির কড়া জবাব
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে চিনের এই পদক্ষেপকে ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “অন্যের জমিতে নিজের নাম বসিয়ে দিলেই তা নিজের হয়ে যায় না। চিন ক্রমাগত একটি বিভ্রান্তিকর আখ্যান তৈরির চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” দিল্লির তরফে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরণের একতরফা পদক্ষেপ দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। ভারত তার ভূখণ্ড রক্ষায় এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে কোনোভাবেই আপস করবে না।
বিস্তৃতি বাড়ছে চিনা আগ্রাসনের
নজরদারি কেবল অরুণাচলে সীমাবদ্ধ নেই। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সম্প্রতি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে জিনজিয়াং প্রদেশে ‘চেনলিং’ নামে একটি নতুন জেলা গঠন করেছে চিন। এছাড়া ২০২৪ সালের শেষ দিকে আকসাই চিনের বিতর্কিত অংশগুলোকে নিজেদের প্রশাসনিক মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণাও করেছিল তারা। কূটনৈতিক মহলের মতে, সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ জাহির করতেই বারবার এই ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে লালফৌজ।
তলানিতে পারস্পরিক আস্থা
২০২৪ সালে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু গঠনমূলক আলোচনা হয়েছিল। সেনা সরানোর প্রক্রিয়ায় যখন কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই চিনের এই নতুন তালিকা প্রকাশ কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একদিকে আলোচনার টেবিলে বসা আর অন্যদিকে সীমান্তে উস্কানিমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়া—এই দ্বিমুখী নীতি চিনের পুরনো কৌশল। তবে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক স্তরে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, চিনের এই ধরণের জবরদখল বা প্রশাসনিক রদবদল কোনোভাবেই বৈধতা পাবে না। আজকের কড়া বিবৃতির মাধ্যমে ভারত বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান আরও একবার দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করল।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

