Khabor Ekhon
সত্যতা যাচাই করে তবেই খবর খবরের ভেতরের খবর
Breaking News

মানুষের বিশ্বাসই আমার জয়ের মূলমন্ত্র: শুভাশিস চক্রবর্তী

0 8,843,998,801

মানুষের বিশ্বাসই আমার জয়ের মূলমন্ত্র:     শুভাশিস চক্রবর্তী

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: শিবনাথ দাস

বেহালা পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্র এবার বাংলার রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের তুরুপের তাস বর্ষীয়ান জননেতা ও প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। দীর্ঘদিনের সংসদীয় অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতাকে সম্বল করে তিনি এখন বেহালার অলিগলি চষে ফেলছেন। তাঁর লড়াই, পরিকল্পনা এবং জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে ‘খবর এখন’-এর মুখোমুখি হলেন তিনি।

প্রশ্ন:  আপনি দীর্ঘকাল দিল্লির রাজনীতি সামলেছেন। এবার সরাসরি বিধানসভা নির্বাচনে লড়া এবং মানুষের দুয়ারে পৌঁছানো—এই পরিবর্তনকে কীভাবে দেখছেন?
শুভাশিস চক্রবর্তী: দেখুন, আমার কাছে এটা কোনও আমূল পরিবর্তন নয়, বরং এটাই স্বাভাবিক। রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীনও আমি কিন্তু সারাবছরই সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। বিধায়ক হওয়ার লড়াইটা হল আরও নিবিড়ভাবে মানুষের ঘরের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করা। আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব।
প্রশ্ন: বেহালা পূর্ব এক সময় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়া কি আপনার কাছে বাড়তি কোনও চ্যালেঞ্জ?
শুভাশিস চক্রবর্তী: আমি এই এলাকারই ভূমিপুত্র। বিগত ৪২ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বেহালা পূর্বে সংগঠন গড়ে তুলেছি। তাই আমার কাছে এটা কোনও চ্যালেঞ্জ নয়, বরং নিজের ঘরে কাজ করার সুযোগ।
প্রশ্ন: রত্না চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায় আপনাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে আপনার রাজনৈতিক বোঝাপড়া বা দলের অন্দরে সমন্বয় এখন কেমন?
শুভাশিস চক্রবর্তী: রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ও আমার বোনের মতো। ওর নির্বাচনেও আমি যথাসাধ্য লড়াই করেছি। আমাদের মধ্যে কোনও ভুল বোঝাবুঝি নেই। আমরা সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হিসেবে একসঙ্গে কাজ করছি।
প্রশ্ন: বেহালার দীর্ঘদিনের সমস্যা হল জলমগ্নতা। বর্ষায় অনেক এলাকা জলের তলায় থাকে। এর স্থায়ী সমাধান কী?
শুভাশিস চক্রবর্তী: আমি জানি এটা একটা পুরনো সমস্যা। তবে সাম্প্রতিককালে এডিবি-র টাকায় বেহালার সর্বত্র নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হয়েছে। আশা করছি, আগামী বছর থেকে বেহালাবাসীকে আর জলমগ্নতার সমস্যায় ভুগতে হবে না।
প্রশ্ন: ডায়মন্ড হারবার রোডের ট্রাফিক জ্যাম এবং মেট্রো প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। আপনার অগ্রাধিকার কী হবে?
শুভাশিস চক্রবর্তী: মেট্রোর কাজটা মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব। তবে রাজ্য সরকার হিসেবে আমাদের সহযোগিতা পূর্ণমাত্রায় আছে। মেট্রো প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে ট্রাফিক জ্যামের সমস্যা মিটে যাবে। আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানাব যাতে জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রোর কাজ দ্রুত শেষ করা হয়।
প্রশ্ন: পানীয় জল ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা মেটাতে আপনার ব্লু-প্রিন্ট কী?
শুভাশিস চক্রবর্তী: অনেক ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা ইতিমধ্যেই মিটে গেছে। যেটুকু বাকি আছে, তা আগামী বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়েছি আমরা। পরিষেবার আধুনিকীকরণই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
প্রশ্ন: এবারের নির্বাচনে আপনার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কে?
শুভাশিস চক্রবর্তী: আমি কাউকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছি না। সারাবছর মানুষের পাশে থাকি, তাই মানুষের আশীর্বাদ ও ভালোবাসার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমি বিপুল ভোটে জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত।
প্রশ্ন: আপনার স্ত্রী সোমা চক্রবর্তী এই এলাকার কাউন্সিলর। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই জনপ্রতিনিধি হলে মানুষ বাড়তি কী সুবিধা পাবে?
শুভাশিস চক্রবর্তী: আমি বিধায়ক হিসেবে কাজ করলে এবং সোমা কাউন্সিলর হিসেবে থাকলে, দু’জনের সমন্বয়ে এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে বাড়তি গতি আসবে। এতে বেহালা পূর্বের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
প্রশ্ন: দুর্নীতি বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ নিয়ে বিরোধীরা সরব। আপনি কীভাবে এর মোকাবিলা করবেন?
শুভাশিস চক্রবর্তী: বেহালা পূর্বে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। আর দুর্নীতির কথা যারা বলছে, তাদের বলি—কোনও একজন ব্যক্তি ভুল করলে পুরো সম্প্রদায় বা দলকে দোষ দেওয়া যায় না। আমি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়েই মানুষের সামনে যাচ্ছি।
প্রশ্ন: বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
শুভাশিস চক্রবর্তী: আমরা ইতিমধ্যেই ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর যুবক-যুবতীকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তাদের তালিকা তৈরি করে কাজ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন: প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নতুন কোনও পরিকল্পনা আছে?
শুভাশিস চক্রবর্তী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে সকলের জন্য চিকিৎসার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই নতুন করে পরিষেবার চেয়ে বিদ্যমান সরকারি সুবিধাগুলো যাতে সবাই পায়, তা নিশ্চিত করাই আমার কাজ।

প্রশ্ন: সবশেষে, বেহালা পূর্বের ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার মূল প্রতিশ্রুতি কী?
শুভাশিস চক্রবর্তী: আমি কোনও ফাঁপা প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি নই। তবে আমি কথা দিচ্ছি, মানুষের যেকোনও সমস্যায় আমি এবং আমার সহযোদ্ধারা সবসময় পাশে থাকব। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা ‘স্বাস্থ্যসাথী’-র মতো প্রকল্পের সুফল মানুষ পাচ্ছে, আর উন্নয়নের এই ধারা বজায় রাখাই আমার ভিশন।
প্রশ্ন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
শুভাশিস চক্রবর্তী: আপনাদেরও ধন্যবাদ। জয় হিন্দ। জয় বাংলা।

Note :- ক্রমাগত অন্যান্য আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

PostBodyBottom

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

E-Paper