AB Live News
মালদহে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে মমতার ‘পলাতক’ কটাক্ষ মৌসমের পাল্টা হুঁশিয়ারি—তৃণমূলকে ‘শূন্য’ করে দেব
সুমিত ঘোষ (মালদহ): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার যত এগোচ্ছে, মালদহের রাজনৈতিক মাঠ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার মালতীপুরের জনসভা থেকে সরাসরি আক্রমণ করলেন সদ্য তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে আসা নেত্রী মৌসম বেনজির নুরকে। নাম না নিয়ে তাঁকে ‘পলাতক’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি মমতা স্মরণ করিয়ে দিলেন, নিজে কখনও রাজ্যসভায় যাননি, কিন্তু মৌসমকে সেখানে পাঠিয়েছিলেন এবং লোকসভায় প্রার্থী করেছিলেন। মমতা বলেন, “পলাতকদের মানুষ কোনওদিন ক্ষমা করবেন না। আমি নিজে জীবনে রাজ্যসভায় যেতে পারিনি, কিন্তু ওকে পাঠিয়েছিলাম। ওকে লোকসভায় প্রার্থী করেছিলাম। মা যেভাবে সন্তানকে ভালোবাসে, সেভাবেই যত্ন করেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনের আগে দল ছেড়ে চলে গেল। যে দলে যান, ভালো থাকুন, কিন্তু ভোটটা ওঁদের দেবেন না।” তিনি আরও বলেন যে, তৃণমূল থেকে সব নিয়ে ‘মৌসুমি হাওয়া’র মতো চলে যাওয়া নেতাদের মানুষ ক্ষমা করবে না।
এই আক্রমণের জবাব দিতে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি গণি খান চৌধুরীর ভাগ্নি মৌসম নুর। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “তৃণমূলে গিয়ে আমি ভুল করেছিলাম। যেদিন আবার কংগ্রেসে ফিরে এলাম, সেদিন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা দেখেই সেটা বুঝতে পেরেছি।” মৌসম আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মালদহে তৃণমূলকে ‘শূন্য’ করে দেওয়া হবে।
পটভূমি: ঘরওয়াপসি ও মালতীপুরের লড়াই। মৌসম বেনজির নুর একসময় কংগ্রেসের হয়ে দু’বার মালদহ থেকে লোকসভা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন এবং রাজ্যসভায় মনোনীত হন। সাম্প্রতিককালে (জানুয়ারি ২০২৬) তিনি আবার কংগ্রেসে ফিরে আসেন। কংগ্রেস তাঁকে মালতীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে তৃণমূল এই কেন্দ্রে আব্দুর রহিম বক্সীকে প্রার্থী করেছে। মালতীপুরে মমতার সভা ছিল আব্দুর রহিম বক্সী ও রতুয়া কেন্দ্রের প্রার্থী সমর মুখোপাধ্যায়ের সমর্থনে। সভায় উপস্থিত জনতাকে নববর্ষের শুভেচ্ছাও জানান মমতা।
মালদহে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
মালদহ জেলায় ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল গণি খান চৌধুরীর আমলে। পরে তৃণমূলের উত্থান হয়। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে জেলার দুটি আসনেই তৃণমূল হেরে যায়—একটি কংগ্রেস, অন্যটি বিজেপির দখলে যায়। মৌসমের প্রত্যাবর্তন কংগ্রেসকে নতুন করে সংগঠিত করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। একইসঙ্গে মুসলিম ভোটের সমীকরণেও এটি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিজেপি ইতিমধ্যেই বলেছে, এই ঘটনা তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে চিড় ধরানোর ইঙ্গিত। অন্যদিকে তৃণমূল মৌসমকে ‘দলত্যাগী’ হিসেবে চিহ্নিত করে মানুষের কাছে ভোট না দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে।
মালতীপুর কেন্দ্র এখন ‘ভিআইপি’ স্ট্যাটাস পেয়েছে। দরজায় দরজায় প্রচার চালাচ্ছেন মৌসম। তৃণমূলের প্রার্থীর জন্যও লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
এই ঘটনা শুধু মালদহ নয়, গোটা রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দলত্যাগ, ঘরওয়াপসি ও পুরনো সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে মালদহের এই লড়াই এবার জাতীয় নজর কাড়তে চলেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

