AB Live News
ভারত-কানাডা পরমাণু চুক্তি, ঘুম উড়ল ইসলামাবাদের
দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত সমীকরণে বড়সড় বদল। ভারতের সঙ্গে কানাডার বিশাল অঙ্কের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতেই তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, অসামরিক ব্যবহারের কথা বলা হলেও এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে, যা এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য নষ্ট করবে।
কী রয়েছে এই চুক্তিতে?
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাম্প্রতিক ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী:
সরবরাহ: কানাডার ক্যামেকো কর্পোরেশন ২০২৭ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতকে প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ পাউন্ড (১১,০০০ টন) ইউরেনিয়াম আকরিক সরবরাহ করবে।
লক্ষ্য: ২০৩১ সালের মধ্যে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২২ গিগাওয়াটে উন্নীত করা।
প্রযুক্তি: বড় চুল্লির পাশাপাশি ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টর (SMR) এবং উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে যৌথভাবে কাজ করবে দিল্লি ও অটোয়া।
পাকিস্তানের ভয় যেখানে
পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি আজ এক বিবৃতিতে ভারতের এই পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। ইসলামাবাদের মূল আশঙ্কাগুলো হলো:
সামরিক মজুদ বৃদ্ধি: পাকিস্তান মনে করছে, বিদেশ থেকে ইউরেনিয়াম আসায় ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ ইউরেনিয়াম মজুতকে বিদ্যুৎ তৈরির বদলে সামরিক বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহার করার সুযোগ পাবে।
অতীতের অভিজ্ঞতা: পাকিস্তান ১৯৭৪ সালের ভারতের প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে এনেছে। তাদের দাবি, সে সময়ও কানাডার দেওয়া চুল্লির প্লুটোনিয়াম ব্যবহার করেই ভারত পরীক্ষা চালিয়েছিল।
কৌশলগত ভারসাম্যহীনতা: দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পারমাণবিক শ্রেষ্ঠত্ব পাকিস্তানের জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে বলে দাবি আন্দ্রাবির।
ভারতের অবস্থান
ভারত বরাবরই তার ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (আগে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার না করা) নীতিতে অটল। দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে অসামরিক পারমাণবিক চুল্লিগুলোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে, যা ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তির চাহিদা মেটাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় সাহায্য করবে।
এই চুক্তি কেবল শক্তির আদান-প্রদান নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক। বিশেষ করে যেখানে কানাডার সাথে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী কার্নির এই সফর ও চুক্তি এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

