AB Live News
বাম–আইএসএফ জোটের দোরগোড়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা—বামফ্রন্ট ও আইএসএফের সম্ভাব্য ভোট-জোট কি বুধবারই আনুষ্ঠানিক রূপ পেতে চলেছে? মঙ্গলবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দীর্ঘ বৈঠকের পর এমনই ইঙ্গিত দিলেন আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু-র সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে তিনি জানান, বুধবার ফের আলোচনায় বসা হবে এবং সেদিনই জোট ও আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্য সিপিএমের সদর দফতর মুজফ্ফর আহমেদ ভবনে পৌঁছন নওশাদ। সেখানে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক আসন বণ্টন, প্রচার কৌশল এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নওশাদ বলেন, “জোট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমরা বসেছিলাম। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামীকাল হবে। জেলাভিত্তিক ও লোকসভাভিত্তিক আলোচনা চলছে—কোথায় কে দাঁড়ালে ভালো ফল হতে পারে, কী ভাবে জনমত সংগঠিত করা যাবে, সে সব নিয়েই কথা হয়েছে।”
আসন বণ্টন নিয়ে যে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে, তা আড়াল করেননি আইএসএফ চেয়ারম্যান। তাঁর কথায়, “কিছু আসনে আমরা অনড়। আবার কিছু আসনে বামেরাও অনড়। কয়েকটি কেন্দ্রে আমরা কোনওভাবেই আপস করতে পারব না, তা জানিয়ে দিয়েছি।” উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা আসনের প্রসঙ্গ, যেখানে ২০২১ সালে আইএসএফ ও বামফ্রন্টের শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক পৃথক প্রার্থী দিয়েছিল। এ বার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলেই দাবি নওশাদের।
সূত্রের খবর, আইএসএফ প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০টি আসনে লড়াইয়ের দাবি জানিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যাটি নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। নওশাদ বলেন, “আসনসংখ্যা এখন আলোচনার পর্যায়ে। সব কিছু স্থির হলে তখনই জানানো হবে আমরা কত আসন চেয়েছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত কত পেলাম।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১ সালের নির্বাচনে ‘সংযুক্ত মোর্চা’ গড়ে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই করেছিল আইএসএফ। সেবার একমাত্র নওশাদই জয়ী হন। কিন্তু এবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ায় সমীকরণ বদলেছে। নওশাদ জানান, গত বছর জোটের প্রস্তাব নিয়ে তিনি চিঠি দিয়েছিলেন বিমান বসুকে। একই চিঠি কংগ্রেস নেতৃত্বকেও পাঠানো হলেও সাড়া না পাওয়ায় বামফ্রন্টের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে যায়।
এবার কেবল বামফ্রন্ট ও আইএসএফ নয়, আরও কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকেও জোটে শামিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন ফুরফুরা শরিফের এই পিরজাদা। তাঁর দাবি, বেশ কিছু দল জোটে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে সেক্ষেত্রে তাদের বামফ্রন্ট নেতৃত্বের সঙ্গেই সরাসরি কথা বলতে বলা হয়েছে।
রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেসের বাইরে রেখে বাম-আইএসএফ সমীকরণ গড়ে উঠলে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক ও বামপন্থী সমর্থকদের এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা আরও জোরদার হবে। এখন নজর বুধবারের বৈঠকে—সেখানেই স্পষ্ট হবে, জোট কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকছে, না কি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

