AB Live News
আকাশে ছ’গ্রহের কুচকাওয়াজ

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে সন্ধ্যার আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা পৃথিবী। সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে এক সারিতে দেখা যাবে ছ’টি গ্রহ—যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্ল্যানেটারি প্যারেড’ বা গ্রহদের কুচকাওয়াজ। পরিষ্কার আকাশ থাকলে খালি চোখেই ধরা দেবে এই অপূর্ব দৃশ্য।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, একই সঙ্গে দু’টি বা তিনটি গ্রহকে সন্ধ্যার আকাশে দেখা অস্বাভাবিক নয়। এমনকি চার থেকে পাঁচটি গ্রহও কয়েক বছর অন্তর একসঙ্গে চোখে পড়ে। তবে একসঙ্গে ছ’টি গ্রহকে একই আকাশপথে দেখতে পাওয়া তুলনামূলক ভাবে বেশি আকর্ষণীয়। গত বছরও এমন দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, আর এ বছর ফের সেই সুযোগ।
কোন কোন গ্রহ দেখা যাবে?
শনিবার সূর্যাস্তের প্রায় এক ঘণ্টা পরে পশ্চিম দিগন্তের কাছে নজর রাখলেই দেখা মিলবে বুধ, শুক্র, শনি, এবং একটু উপরে থাকবে বৃহস্পতি।
দূরবিন বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে এদের সঙ্গে একই সারিতে ধরা দেবে ইউরেনাস ও নেপচুন।
কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও পরিষ্কার আকাশে এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে বলে জানিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
কীভাবে চিনবেন গ্রহ?
কানাডার জ্যোতির্বিজ্ঞানী সারা মাজরুয়েই জানিয়েছেন, আকাশে যদি কোনও আলোকবিন্দু ঝিকমিক বা দপদপ করে, তবে তা নক্ষত্র। আর যদি স্থির ও উজ্জ্বল ভাবে জ্বলে, তবে সেটি গ্রহ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। শনিবারের পাশাপাশি রবিবারও এই দৃশ্য দেখা যেতে পারে। তবে তার পরে ধীরে ধীরে বুধ দিগন্তরেখার নীচে নেমে যাবে এবং দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যাবে।
কেন এমন দেখা যায়?
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, সূর্য গঠনের পরে অবশিষ্ট গ্যাস ও ধূলিকণার ডিস্ক থেকেই একে একে জন্ম নিয়েছিল গ্রহগুলি। সেই কারণেই সৌরজগতের অধিকাংশ গ্রহ একই তল বা সমতলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। আকাশে সূর্যের যে কাল্পনিক বার্ষিক পথ, যাকে ‘এক্লিপটিক’ বলা হয়—তার কাছাকাছিই গ্রহগুলির অবস্থান। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে একাধিক গ্রহ ওই বক্র পথ বরাবর পাশাপাশি অবস্থান করলে পৃথিবী থেকে দেখে মনে হয় তারা যেন এক সারিতে দাঁড়িয়ে আছে। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, গ্রহগুলি বাস্তবে সরলরেখায় থাকে না; তারা সূর্যের এক দিকে অবস্থান করে বলে আমাদের চোখে এই সারিবদ্ধতার ভ্রম তৈরি হয়।
কীভাবে দেখবেন?
সূর্যাস্তের অন্তত এক ঘণ্টা পরে উঁচু ও খোলা জায়গা থেকে পশ্চিম আকাশে তাকাতে হবে। শহরের আলো দূষণ কম এমন এলাকা হলে আরও ভাল। টেলিস্কোপ বা দূরবীন থাকলে অভিজ্ঞতা হবে আরও স্পষ্ট ও মনোমুগ্ধকর।
মহাকাশপ্রেমীদের মতে, এমন দৃশ্য নিয়মিত দেখা গেলেও প্রতিবারই তা আলাদা উত্তেজনা তৈরি করে। রাতের আকাশে এই ‘ছ’গ্রহের কুচকাওয়াজ’ তাই ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে সাধারণ মানুষ থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানী—সকলের নজর কাড়তে চলেছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য :- এই খবর Khabor Ekhon , দ্বারা আপডেট করা হয়েছে. এই খবরের সম্পূর্ণ দায়িত্ব Khabor Ekhon হবে। www.khaborekhon.in অথবা সম্পাদকমন্ডলীর কোন দায় থাকবে না।

